চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘অভিনব কায়দায়’ পাচারকালে ১৮ কোটি টাকার স্বর্ণ আটক

কোমরে অভিনব কায়দায় কাপড়ের বেল্ট তৈরি করে স্বর্ণ পাচার করতো একটি চক্র। তারা স্বর্ণের বারগুলো চোরাচালানের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ থেকে এনে সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতে পাচার করছিল।

এ চক্রের হোতা শেখ জাহিদুল ইসলাম দেড় বছর ধরে স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত। প্রতি চোরাচালানে তিনি চল্লিশ হাজার টাকা পেতেন।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মানিকগঞ্জ জেলার ঢাকা আরিচা মহাসড়কের তরা ব্রিজের আগে চোরাচালানবিরোধী অভিযান শুরু করে র‌্যাব-২। অভিযানে চোরাচালান চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটক করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলো, চক্রের হোতা শেখ জাহিদুল ইসলাম (৩৩), ইয়াহইয়া আমিন (৪২), শেখ আমিনুল রহমান (৩৭), মো. মনিরুজ্জামান রনি (৩৫), মো. জহিরুল ইসলাম তারেক (২৮)।

এসময় তাদের কাছ থেকে ২৪৩ কেজি প্রচলিত স্বর্ণের বার এবং ১৫টি বড় সাইজের (এক কেজি ওজন) সর্বমোট ২৫৮টি বার যার ওজন ৪৩ কেজি। যার বাজার মূল্য প্রায় ১৮ কোটি টাকা।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব ২ এর কমান্ডিং অফিসার (সিও) আনোয়ার উজ জামান।

তিনি বলেন, চোরাচালানের স্বর্ণগুলো বিভিন্ন রুট থেকে আমদানির পর রাজধানীর পুরান ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হতো। আটক চক্রের পাঁচজন ভিন্ন ভিন্ন লোক মারফত স্বর্ণ আমদানি করতো। তারা দীর্ঘদিন যাবৎ চোরাচালানের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এদের হোতা শেখ জাহিদুল ইসলাম দেড় বছর ধরে স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত। প্রতি চোরাচালানে সে ৪০ হাজার টাকা পেতো। বাকীরা ছিল তার সহকারী যারা প্রতি চালানে ১০-১২ হাজার টাকা পেতো।

আটক ইয়াহইয়া সৌদি প্রবাসী ছিল, ৬ মাস আগে দেশে ফিরে জাহিদুলের মাধ্যমে স্বর্ণ চোরাচালানে জড়ায়। 

আটকরা কোমড়ে অভিনব কায়দায় কাপড়ের বেল্ট তৈরি করে স্বর্ণ পাচর করতো।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা জানায়, তাদেরকে ভারতের এক ব্যক্তি এই চালানের দিক নির্দেশনা দিতো। এছাড়া এই ব্যক্তিই চক্রটিকে পরিচালনা করে।

এক প্রশ্নের জবাবে আনোয়ার উজ জামান বলেন, স্বর্ণ চোরাচালানের গডফাদারদের আইনের আওতায় আনতে ম্যানি লন্ডারিং মামলা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন