চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

অনেকেই আমাকে থামানোর জন্য পেছনে লেগেছে: আড়াল ভেঙে বললেন বুবলী

মুখোমুখি চিত্রনায়িকা শবনম বুবলী…

প্রায় এক বছর আড়ালে ছিলেন। কোথাও পাওয়া যায়নি তাকে। না সাক্ষাতে, না ফোনে! ১ জানুয়ারি সামাজিক মাধ্যমে ছবি প্রকাশ করে খবরে আসেন তিনি। বলছি চিত্রনায়িকা শবনম বুবলীর কথা। দীর্ঘদিন পর খোঁজ মিলেছে তার। এবার মুঠোফোনেও পাওয়া গেল তাকে।

গেল বছর পুরোটা সময় জুড়ে লাপাত্তা ছিলেন ঢাকাই ছবির জনপ্রিয় এ তারকা। সঙ্গত কারণেই তাকে ঘিরে চলচ্চিত্র পাড়ায় বিভিন্ন গুঞ্জন ভেসে বেড়াচ্ছে। সোমবার (৪ জানুয়ারি) রাতে বুবলী মুঠোফোনে আলাপ করলেন চ্যানেল আই অনলাইনের সাথে।

জানালেন তার আড়ালে থাকার কারণ। এতদিন কোথায়, কোন অবস্থায় ছিলেন, কেনই বা তার এমন রহস্যজনক নিরবতা। সবকিছু বললেন স্বস্তি নিয়ে…

আপনার ফেসবুক, ফ্যানপেজ ও ইনস্টাগ্রামে একটি ছবি দেখলাম। এই ছবিটি কবের?
প্রথমে জানাই নতুন সম্ভাবনাময় বছর ২০২১ এর শুভেচ্ছা। এখানে কনফিউশনের কিছু নেই। এটা রিসেন্ট ছবি। ১০ দিন আগে শুট করেছি। নতুন সম্ভাবনার বছরে নতুনভাবে নিজেকে মেলে ধরতে চেয়েছি। ফিল্ম এবং ফিল্মের দর্শকরা আমার ভালোবাসার জায়গা। এ ভালোবাসার জায়গায় আমি নতুনভাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে চেয়েছি। নতুনভাবে সবকিছু শুরু করতে চাই এটা তার প্রয়াস।

বিজ্ঞাপন

এতদিন নিজেকে লুকিয়ে রেখেছিলেন কেন, কেন ফোন ধরতেন না?
লুকিয়ে থাকা নয়, আড়ালে থাকা যদি হয় তবে বরাবরই এটা আমার জন্য খুবই কমন ব্যাপার। তবে কাজে যখন ব্যস্ত থাকি সবসময় সিনসিয়ার থাকি। কিন্তু কাজের চাপ না থাকলে অবসর পেলে ওই সময়টা একেবারে নিজের মতো থাকি। সবারই ব্যক্তিগত জীবন,  পরিবার রয়েছে। অবসর সময়টা ব্যক্তিগত ও পরিবারের জন্য রাখি। আর ফোনে পাওয়া না যাওয়ার কারণ আমার কাজের উদ্দেশে ব্যবহৃত ফোন নাম্বারটি কয়েকমাস ব্যবহার করিনি। তবে হোয়াটসঅ্যাপে আমার অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। এরমধ্যে কয়েকজন নির্মাতার সঙ্গে কাজ নিয়েও কথা হয়েছে। সংবাদকর্মী ভাই বন্ধুসহ চলচ্চিত্রের সহকর্মীদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। কারণ, কাজের পারপাস ছাড়াও এ সময়টা অনেকেই আমি নিরাপদে সুস্থ আছি কিনা জানার খোঁজখবর নিয়েছেন। নিজের মতো থাকার কারণে সবার সঙ্গে হয়তো যোগাযোগ সম্ভব হয়নি এজন্য দুঃখিত।

অবসরে থাকা সময়টুকু আপনি ছিলেন কোথায়? কিছু মাধ্যম বলেছে, আপনি দেশের বাইরে ছিলেন…
২০১৯ সাল থেকে আমার পরিকল্পনা ছিল যখন একটু অবসর পাবো তখন নিজেকে আরো পরিপূর্ণ করে তৈরি করার জন্য নতুন কিছু শিখবো। যেহেতু ফিল্মে কাজ করি, তাই শেখার কোনো শেষ নেই। কিন্তু কবে যাবো এ নিয়ে একটু কনফিউশন ছিলো । তাই ‘বীর’, ‘ক্যাসিনো’ দুটি সিনেমা শেষ করে আমি ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে আমেরিকার নিউ ইয়র্ক যাই। সেখানে ফিল্ম সম্পর্কিত একটি কোর্স সম্পন্ন করেছি নিউ ইয়র্ক ফিল্ম একাডেমি থেকে। তিনমাসের কোর্স থাকলেও কোডিভ-১৯ আসায় সম্ভব হয়নি, একমাসে শেষ করতে হয়েছে। লকডাউনের আগে সরাসরি ক্লাস করতে হয়েছে। এরপর অনলাইনেই ক্লাস করেছি। আমার দেশে ফেরার কথা ছিল অনেক আগেই। কিন্তু লকডাউন থাকায় আসতে পারিনি। ২০২০ সালের নভেম্বরের শেষ দিকে দেশে আসতে পেরেছি।

নিউ ইয়র্ক ফিল্ম একাডেমির কোর্স থেকে কী কী শিখলেন?
অল্প সময়ে অনেক কিছু শিখেছি। কারণ, তারা অনেক বেশি প্রফেশনাল ও নিয়মকেন্দ্রিক। এ জিনিসটা নতুন করে নিজের মধ্যে গেঁথে নিয়েছি। মনে হয়, আগামীতে নিজের কাজে অনেককিছু নতুন সংযোজন করতে পারবো। যেমন- নিউ মিডিয়া, ডিজিটাল বা সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে অনেক কিছু শিখেছি। স্ক্রিপ্টে মনোলোগ বলে একটা ব্যাপার রয়েছে, যেটা অনেক বিজ্ঞরা ভালো বুঝবেন। সেটা নিয়েও পড়ালেখা করেছি। এছাড়া টেক্সট ইন অ্যাকশন , পারফরমেন্স এনালাইসিস, চিত্রনাট্যের ভাষা, ফিল্মে অভিনয় সবকিছু নিয়ে নানান কিছু জানলাম। ইচ্ছে আছে আগামীতে আরও কোর্সের মাধ্যমে শেখার চেষ্টা করবো। কারণ, মানুষের জানার শেখার কোনো শেষ নেই।

নিউ ইয়র্কে করোনা ও লকডাউনে থাকা দিনগুলো নিয়ে আপনার উপলব্ধি কেমন…
এ সময়টা খুবই ভয়ঙ্কর ছিল। সারাবিশ্বে সবচেয়ে বেশি কোভিড আক্রান্ত হয়েছে ওখানে। প্রতিদিন অ্যাম্বুলেন্সের শব্দ শুনে ঘুমাতে যেতে হতো এবং ঘুম ভাঙতো অ্যাম্বুলেন্সের শব্দে। নামাজ আদায় করে শুধু দোয়া ও শুকরিয়া আদায় করতাম যে, সুস্থভাবে বেঁচে আছি এটাই বড় রহমত। ওই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা ও দিনগুলো কোনোদিনই ভুলবো না। ইচ্ছে রয়েছে, সেইসব ভয়ঙ্কর স্মৃতিগুলো সাজিয়ে কোনো একসময় একটি বই লিখবো অথবা একটি চিত্রনাট্য তৈরি করবো।

গত বছরজুড়ে কিছুদিন পরপর একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে আপনাকে নিয়ে বিভিন্ন মুখরোচক গসিপ প্রচারিত হয়েছিল…
কাজ দিয়েই মানুষ আমাকে চেনেন। তাই সবসময় চেয়েছি আমার কাজগুলো ফোকাস হোক। আমার কাজের চেয়ে ব্যক্তিগত বিষয়গুলো বেশি ফোকাস হোক কখনই চাইনা। সব সংবাদকর্মীদের সম্মান করি। তবে যে কোনো খবর প্রকাশের আগে অবশ্যই আমার সঙ্গে কথা বলা উচিত। এখানে কোনো তাড়াহুড়ার কিছু নেই। যাকে নিয়ে খবর প্রকাশ করা হচ্ছে, সময় নিয়ে হলেও তার সঙ্গে কথা বলা দরকার। যদিও পেশাদার সাংবাদিকরা যোগাযোগ করেই সংবাদ করেন কারণ তারা তাদের পেশার প্রতি সৎ। কিন্তু তথাকথিত কিছু সাংবাদিক ভাইয়েরা হয়তো তাড়াহুড়ো সংবাদ করতে গিয়ে নানান কিছু লিখে বসেন। এসব গসিপের ফলে ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে বিভিন্ন ইমপ্যাক্ট পড়ে। তবে আমার দর্শকদের উদ্দেশ্যে বলবো, এক তরফা কোনো কিছু শুনে বিচার করা এবং বিশ্বাস করা মোটেও উচিত না। কারণ গল্পের পেছনেও অনেক গল্প থাকে ।

প্রশ্নটা প্রাসঙ্গিক। শোনা যায় আপনি ‘সন্তানের মা হয়েছেন’। আগেও এমন গুঞ্জন উড়ে বেড়াতো। তবে এবার সোশ্যাল মিডিয়াতে হয়তো আপনিও এ বিষয় নিয়ে বেশি লেখালেখি হতে দেখেছেন। আপনার পরিষ্কার মন্তব্য জানতে চাই…
ব্যক্তিগত কোনো কিছুই আমি কখনই রিভিল করিনা। তবে দর্শকদের যে পর্দার শিল্পীদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আগ্রহ রয়েছে, তাদের সেই আগ্রহকে আমি রেসপেক্ট করি। আর থাক না কিছু বিষয় ব্যক্তিগত। ধীরে ধীরে আমার মুখ থেকেই সবাই সবকিছু জানতে পারবেন। সব একসাথে বলে দিলে তো ওই আগ্রহের জায়গাটা নাও থাকতে পারে। তবে কথা দিচ্ছি সঠিক সময়ে সব জানবেন তারা। আমি অবশ্যই জানাবো। কিন্তু এই জিনিসগুলো খুবই স্পর্শকাতর। দর্শকদের বলবো, আমার কাছ থেকে না জানা পর্যন্ত এসবে কান না দিতে।

এই সেনসেটিভ বিষয়গুলো নিয়ে যখন গসিপ দেখেন, তখন নিজের কাছে কেমন লাগে?
এ সবগুলো নিয়ে এখন আর ভাবি না। সবাইকে তো খুশি রাখা সম্ভব না। আর শুরু থেকে অনেকেই আমাকে থামানোর জন্য পিছনে লেগেছে। আমাকে নিয়ে তারা ভাবছে এটা আমি ইতিবাচকভাবে দেখি। কারণ তারা আমাকে আতঙ্ক মনে করে। যারা এসব গসিপ করছে তারা এসব করে টিকে থাকতে পারে না। দিনশেষে কাজটাকে মানুষ মনে রাখে। আমি সবসময় ভালো কাজের চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমার এগিয়ে যাওয়া প্রেরণা মানুষের ভালোবাসা ও ভালো কাজের চেষ্টা। যেটা সবসময় করি।

এখন থেকে আগের মতো আপনাকে পাওয়া যাবে?
আমি তো হারিয়ে যাইনি যে পাওয়া যাবে না। সবারই ব্যক্তিগত জীবন রয়েছে। করোনার সময় সবাই নিজের মতো করে ছিল। আমারও একটু গ্যাপের দরকার ছিল। নিজের জন্য একটু সময় দরকার ছিল। আর কাজের ক্ষেত্রে কিন্তু আমাকে সবসময় পাওয়া যায়। গতবছর কিন্তু আমার সঙ্গে কাজের সুবাদে অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। অবশ্যই আগের মতো ভালো ভালো কাজের সঙ্গে আমাকে সবাই পাবেন। সিনেমা, বিজ্ঞাপনে কাজের কথা চলছে। সেখানেও আমাকে পাওয়া যাবে। সবাই ফিল্মের ভালোর জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন। আমিও চেষ্টা করবো আমার কাজ দিয়ে সমৃদ্ধি আনার।