চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

অনন্তকে ভিসা না দেওয়ায় সুইডেনে ঢাকার সুইডিশ দূতাবাসের সমালোচনা

ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশকে “সুইডিশ পেন” আমন্ত্রণ জানিয়েছিলো ইন্টারন্যাশনাল প্রেস ফ্রিডম দিবস উপলক্ষে বক্তৃতা করার জন্য। “পেন” হচ্ছে আন্তর্জাতিক একটি সংস্থা যারা সাহিত্য এবং বাক-স্বাধীনতাকে উ‍ৎসাহ করে।

ওদের আমন্ত্রণপত্র নিয়ে অনন্ত বাংলাদেশের সুইডেন দূতাবাসে ভিসার জন্য আবেদন করেছিলেন। আক্ষেপের বিষয় হচ্ছে দূতাবাস তাঁকে ভিসা দেয়নি। ভিসা রিফিউজাল পত্রে তারা লিখেছে, “আপনি এমন ক্যাটাগরিতে পড়েন যেখানে আপনাকে ভিসা দেয়া হলে আপনি সেখানে গিয়ে সেনজেন এরিয়া ছেড়ে আর দেশে ফেরত আসবেন না। এছাড়া আপনার ভিসার তেমন জরুরি দরকার নেই!”

ভিসা না পাওয়ার পর অনন্ত “সুইডিশ পেনের” সাথে যোগাযোগ করেছিলেন। ওরা অনন্তকে আপিল করতে বলেছিলো। দুই একদিনের মাঝেই হয়তো আপিল করা হতো। কিন্তু তার আগেই মৃত্যুর ভিসা দিয়ে ওকে হত্যা করা হলো।

দূতাবাস যা বোঝাতে চেয়েছে, তা হচ্ছে যেহেতু অনন্ত লেখালেখি করেন এবং হুমকির মাঝেই আছেন; তাই হয়তো সুইডেনে গিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়ে ফেলবেন।

প্রশ্ন হচ্ছে সুইডেনের দূতাবাস যে কারণ দেখিয়ে অনন্তকে ভিসা দিলো না, সেটি যদি সত্যি সত্যিই কারণ হয়; তাহলে তো বাংলাদেশে যারা বাক-স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলেন, তাদের কারোই সুইডেনের ভিসা পাওয়ার কথা না। কারণ তারা কোনো না কোনোভাবে হুমকি পেয়েই থাকেন। যারা হুমকি পান তারা সবাই কি বিদেশে গিয়ে থেকে যান?

বিজ্ঞাপন

যদি থেকে না যান তাহলে অনন্তকে কেনো ভিসা দেয়া হলো না! আর অনন্ত যদি আশ্রয়ও চাইতেন তাতে দোষের কি ছিলো! এমন তো না সুইডেন কাউকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেয় না। আর অনন্ত যে হুমকির মাঝে ছিল সেটি তো প্রমাণিত।

“সুইডিশ পেন” তাদের ওয়েবসাইটে এর প্রতিবাদ করেছে এবং বাংলাদেশে সুইডেনের দূতাবাসের কাছে ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছে যে, কেনো অনন্তকে ভিসা দেয়া হলো না। সুইডেনের রেডিও এবং টেলিভিশনেও এ নিয়ে সংবাদ পরিবেশিত হয়েছে। একে অবশ্যই যথেষ্ট ভাবনার বিষয় উল্লেখ করে বিষয়টিতে দূতাবাসের ব্যাখ্যা দাবি করেছে।

শুধু এজন্যই ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত না যে ভিসা পেলে অনন্ত হয়তো বক্তৃতার পর কয়েকদিন ঘুরে বেড়ানো উপলক্ষে এখন সুইডেনে থাকতেন, তাকে এভাবে মরতে হতো না। ব্যাখ্যাটি এজন্যও জরুরি যে তা না হলে বাংলাদেশী লেখকদের জন্য একটি খুব খারাপ উদাহরণ হয়ে থাকবে। ভবিষ্যতে ইউরোপের কোনো দেশের ভিসার জন্য আবেদন করলে তারা এই প্রেক্ষাপট দেখিয়ে ভিসা প্রত্যাখ্যান করতে পারে। 

আমিনুল ইসলাম: শিক্ষক ও গবেষক। গবেষণার বিষয়বস্ত ‘অভিবাসী ও উদ্বাস্তু এবং তাদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া’। ইমেইল: [email protected]

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

বিজ্ঞাপন