চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

অতিরিক্ত মাংস খেলে যা হয়

আমাদের চারপাশে এমন অনেকেই আছেন যারা একদমই সবজি খেতে চান না। শুধু মাংস দিয়ে ভাত খেয়ে ওঠার অভ্যাস তাদের। হয়তো আপনি নিজেও এমন। মাংসে প্রয়োজনীয় উপাদান প্রোটিন আছে। কিন্তু শরীরের প্রয়োজনের চাইতে বেশী মাংস খেয়ে ফেললে হতে পারে নানা সমস্যা। জেনে নিন অতিরিক্ত মাংস খেলে কী হয় শরীরে সেই সম্পর্কে।

কোষ্ঠকাঠিণ্য: ফল, শাক, সবজি এবং হোল গ্রেইনের মতো প্রচুর পরিমাণ ফাইবার মাংসে নেই। ফলে ফাইবারের অভাবে কোষ্ঠকাঠিণ্য দেখা দেয় অতিরিক্ত মাংস খেলে।

হৃদপিণ্ডের সমস্যা: ফাইবারের আরেকটি গুণ হলো কোলেস্টেরল শুষে নিয়ে হৃদপিণ্ডকে ভালো রাখে। অতিরিক্ত লাল মাংস খেলে রক্তে চর্বির পরিমাণ বেড়ে যায়। ফলে রক্তনালী বন্ধ হয়ে হৃদপিণ্ডের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

কিডনিতে পাথর: যারা অতিরিক্ত মাংস খায় তাদের কিডনিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা বেশী থাকে। প্রাণীজ প্রোটিনে পিউরিন থাকে যা ভেঙ্গে ইউরিক এসিডে পরিণত হয়। অতিরিক্ত ইউরিক এসিড কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।

Advertisement

ঘুম ঘুম ভাব: প্রোটিন এনার্জি দেয়। তবে সঙ্গে সঙ্গে নয়, বেশ অনেক সময় পরে। কিন্তু কার্বোহাইড্রেট না খেয়ে অতিরিক্ত মাংস খেলে ক্লান্ত লাগে। কারণ কার্বোহাইড্রেট খুব সহজেই ভেঙ্গে মস্তিষ্কে গ্লুকোজ পাঠায়। প্রোটিন ভাঙতে অনেক সময় লাগার কারণে শুধু মাংস খেলে দুর্বলতা এবং ঝিম ঝিম ভাব তৈরি হয়।

নিষ্প্রাণ চুল এবং ত্বক: শাক-সবজি কম খেয়ে অতিরিক্ত মাংস খেলে শরীরে ভিটামিন সি এর অভাব হতে পারে। ভিটামিন সি কোলাজেন তৈরিতে সহায়তা করে। ফলে ভিটামিন সি এর অভাব হলে ত্বক এবং চুল নিষ্প্রাণ হয়ে যায়।

ঘন ঘন অসুস্থতা: ভিটামিন সি এর অভাবে ঘন ঘন সর্দি-কাশির সম্ভাবনা থাকে। যদি অতিরিক্ত মাংস খাওয়ার অভ্যাস থাকে, তাহলে সাথে লেবু এবং কাঁচামরিচ খান। নাহলে ভিটামিন সি এর অভাব হয়ে যাবে শরীরে।

ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে: গবেষণায় দেখা গেছে যে সপ্তাহে ৮ আউন্সের বেশী লাল মাংস খেলে ক্যানসারের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। বিশেষ করে প্রক্রিয়াজাত মাংস এবং মাংসের তৈরি নানারকম খাবার ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

পানিশূন্যতা: বারবিকিউ পার্টিতে অনেক মাংস খাওয়ার পরে কিংবা বিয়ে বাড়িতে ভুড়িভোজের পরে খুব ঘন ঘন তৃষ্ণা পায়? প্রোটিন থেকে ইউরিক এসিড তৈরি হওয়ার কারণে ভারী খাবারের পরে শুধু তৃষ্ণা পায়। এসময়ে অতিরিক্ত পানির চাহিদা তৈরি হয় শরীরে। তাই একটু পর পর পানি পান করা উচিত।-রিডার্স ডাইজেস্ট