চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

অটুট থাকুক ভালবাসা

এক সময় গ্রামে-গঞ্জে, শহরে -বন্দরে, বিশেষ করে মধ্যবিত্তের জীবনে বিনোদনের প্রধান মাধ্যম ছিলো রেডিও। বিনোদনের আরেক মাধ্যম ছিলো চলচ্চিত্র যা প্রেক্ষাগৃহে বসে উপভোগ করতো লোকজন। সব কিছুকে ছাড়িয়ে অনেক পথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে স্যাটেলাইট চ্যানেল চালু হওয়ায় তা সর্ব শ্রেণির লোকজনের কাছে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ -সংস্কৃতি থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের খবর বার্তা জানার সুযোগ করে দিয়েছে এই স্যাটেলাইট টেলিভিশন।

বিটিভির সূচনা লগ্ন প্রায় সবারই জানা আছে। যেসব কালজয়ী নাটক সকাল সন্ধ্যা, ঢাকায় থাকি, এইসব দিনরাত্রি, সংশপ্তক, হাজার বছর ধরে। পরবর্তীতে অয়োময়, কোথাও কেউ নেই এর মতো মন ছুঁয়ে যাওয়া নাটকগুলো এদেশের মানুষের মনে রয়ে যাবে চিরকাল। বিটিভির সম্প্রচারিত শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মিনা কার্টুন। বহিঃবিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের মানুষও মিনা কার্টুন সুফল পেয়েছে। বিশেষ করে গ্রাম বাংলার মানুষ সচেতন হতে শিখেছে নিজের প্রতি, বুঝতে শিখেছে কন্যা সন্তানের প্রতি বৈষম্যহীনতা।

বিজ্ঞাপন

জাটকা ইলিশ ধরা নিষেধ তা মানুষ শিখেছে টেলিভিশনের পর্দায় কণ্ঠশিল্পী মমতাজের গানে গানে– ‘শুনেন জনগণ বাড়াও দ্যাশে মাছের উৎপাদন…।’ জনগণ মাছ চাষে সচেতন হয়ে উঠেছেন। আর মমতাজ হয়ে উঠেছেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী। যাইহোক। বিটিভির অবদান, বিটিভির প্রচার প্রসার এদেশের জনমনে বিস্তার লাভ করেছে ব্যাপক। তবে এই পর্যন্ত বাংলাদেশে যে কয়টি স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল চালু হয়েছে এর মধ্যে আমার দৃষ্টিতে চ্যানেল আই সেরা। এবং আমার প্রিয় চ্যানেল আই। বলছি না যে, দেশের অন্যান্য চ্যানেলগুলো গ্রহণযোগ্যতা নেই।

বিজ্ঞাপন

প্রসঙ্গত, আমরা যখন ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার শ্যামগঞ্জ এলাকায় ‘নাকিব কিন্ডারগার্টেন অ্যান্ড স্কুল’ চালু করলাম, পর্যায়ক্রমে এলাকায় আরও কয়েকটি কিন্ডারগার্টেন দাঁড়িয়ে গেল। এসবই উন্নয়নের অগ্রযাত্রা। ১৯৯৮ সালে চ্যানেল আই শুভ যাত্রা শুরু করে ২২ বছরে পদার্পণ করতে যাচ্ছে। এই চ্যানেলটি সামাজিক দায় বদ্ধতায় মানুষের কল্যাণে বিশেষ বিশেষ কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িয়ে আছে। যে কারণে খ্যাতির শীর্ষে এর অবস্থান।

দেশে শহরায়ন শিল্পায়নের প্রসার যতই ঘটুক তবুও বাংলাদেশ আজও কৃষি প্রধান দেশ হিসেবেই টিকে আছে। আটষট্টি হাজারের বেশি গ্রাম নিয়ে এদেশের জনগণ আজও বহুলাংশে কৃষির উপর নির্ভরশীল। এক সময় এদেশের কৃষকের জীবন মান ছিলো অত্যন্ত শোচনীয়। দরিদ্র কৃষক তেভাগা চুক্তিতে অন্যের জমি চাষ কিংবা চড়া সুদের চক্রবৃদ্ধির ঋণ পরিশোধের দিন আজ অনেকটাই লাঘব হয়েছে।

চ্যানেল আইয়ের ‘হৃদয়ে মাটি ও মানুষ’ অনুষ্ঠানটি গ্রাম বাংলার মানুষের প্রাণের উৎস যেন। শাইখ সিরাজ রোদ বৃষ্টি ঝড় উপেক্ষা করে দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় কৃষক ভাইদের পাশে থেকে যে পরামর্শ ও সহযোগিতা করে চলেছেন তা অতুলনীয়। শহরে বিশাল বিশাল অট্টালিকায় যে ছাদ বাগানের আয়োজন চলছে এ সব তাঁরই উৎসাহ অনুপ্রেরণায়।

বিজ্ঞাপন

মুকিত বাবুর উপস্থাপনায় প্রকৃতি ও জীব বৈচিত্র্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এদেশের মানুষ নিজের দেশকে চিনতে ও বুঝতে শিখেছে। প্রকৃতিকে চেনার মধ্য দিয়েই মানুষের অন্তর দৃষ্টি প্রসারিত হয়।
‘বহু দিন ধরে বহু ক্রোশ দূরে
বহু ব্যয় করি বহু দেশ ঘুরে
দেখিতে গিয়ছি পর্বতমালা,
দেখিতে গিয়াছি সিন্ধু।
দেখা হয় নাই৷ চক্ষু মেলিয়া,
ঘর হইতে দুই পা ফলিয়া
একটি ধানের শীষের উপরে
একটি শিশির বিন্দু।।’

সত্যি বলতে সম্পূর্ণ বাংলাদেশটাকেই ঘুরে দেখার বিভিন্ন কারণে সামর্থ্য নেই অনেকেরই। যা টেলিভিশনের পর্দায় অতি সহজেই দেখে নেয়া সম্ভব হচ্ছে। অথচ যাঁরা এইসব বিষয়াদি আমাদের সামনে তুলে ধরছেন নানাভাবে নানা ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হছে তাঁদের প্রতি নিয়ত।

তবে এতো প্রচার প্রচারণার মধ্যে বসবাস করেও অলস বাঙালি পরিপূর্ণ সচেতন হয়ে উঠতে পারে নাই। যাই হোক, চ্যানেল আইয়ের জন্মদিনে আজ আর কোনো সমস্যার (পরবর্তীতে সমস্যার কথা সম্ভব হলে লিখব) কথা লিখতে চাই না। মেট্রো সেম টু দ্য পয়েন্ট অনুষ্ঠানটি সোমা ইসলাম এর অসাধারণ উপস্থাপনা।

প্রতিনিয়ত সংবাদকর্মীরা সঠিক তথ্য সংগ্রহ করতে দৌড় ঝাঁপ দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে চলেছেন। চ্যানেল আইয়ের বড় একটি বৈশিষ্ট্য হলো- গুণীজনের সম্মননা, গুণী শিল্পীদের আজীবন সম্মননা এখানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করা হয়। নায়ক রাজ রাজ্জাক, মিষ্টি মেয়ে কবরী, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ববিতা, বিউটি কুইন সাবানা, ফারুক ,আলমগীর, ইলিয়াস কাঞ্চনদের মতো আরও অনেক অভিনয় শিল্পীদের নানারূপে আমরা দেখতে পাই চ্যানেল আইয়ের আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে। যেমন কবরী ফারুকের- ‘সব সখিরে পাড় করিতে নেব আনা আনা…।’

এমন আরও অসংখ্য পরিবেশনা চ্যানেল আইয়ের জাঁকজমক অনুষ্ঠানে। রুনা লায়না, সাবিনা ইয়াসমিন এর মতো শিল্পীদের গান আমরা রেডিওতে শুনতাম এখন তাঁদের পর্দায় দেখে আমরা ধন্য। তোমাকেই খুঁজি বাংলাদেশ, খুদে গানরাজ, লাক্স সুপারস্টার এসবই চ্যানেল আইয়ের আয়োজন। চ্যানেল আইয়ের জন্মদিনে দিনভর জমকালো আয়োজনে, আনন্দ মুখোরিত গানটি ‘চ্যানেল আইয়ের আজ জন্মদিন, চ্যানেল আইয়ের আজ জন্মদিন।’ দর্শকের মন উতলা হওয়ার মতো আয়োজন।

চ্যানেল আই এ যাঁরা কাজ করে চলেছেন নিরন্তন যাঁদের মেধা, শ্রম আর নিষ্ঠায় চ্যানেল আই এতদূর এগিয়েছে তাঁদের সকলের প্রতি একরাশ শুভেচ্ছা ও শুভ কামনা। প্রার্থনা করি আমার মতো দর্শক -শ্রোতার শ্রদ্ধা ও ভালবাসা অটুট থাকুক।

চ্যানেল আইয়ের পথ চলা হউক সুদূরপ্রসারী।