চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনে সুরক্ষা মাত্র ৩ মাস

প্রথম ডোজ প্রয়োগের পর অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি ভ্যাকসিন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে মাত্র ৩ মাস কার্যকর থাকে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

বুধবার অক্সফোর্ডের এক গবেষণা প্রতিবেদনের বরাতে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, এখন পর্যন্ত ট্রায়াল ও প্রথম ভ্যাকসিন প্রয়োগের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত ফলাফলে জান গেছে প্রথম ভ্যাকসিন প্রয়োগের পর ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত তা সংক্রমণরোধে কার্যকর। এর পর দ্রুত দ্বিতীয় ডোজ প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এই বিষয়ে ল্যানসেট মেডিকেল জার্নালের ওয়েবসাইটে একটি গবেষণার ফলাফল পোস্টও করা হয়। যদিও সে গবেষণা এখনো সেভাবে স্বীকৃতি পায়নি।

স্বতন্ত্র গবেষকরা বলছেন যে, এতে যথেষ্ট পরীক্ষা বা ট্রায়ালের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই এখনই সম্পূর্ণ উপসংহারে যাওয়া যাবে না।

ইম্পেরিয়াল কলেজের সংক্রমক রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আজরা ঘানি বলছেন, এখানে মূলত কম বয়সী লোকদের মাঝে ট্রায়াল করা হয়েছে, যা পর্যাপ্ত ছিলো না।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, ভ্যাকসিন নেওয়ার পরও সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা থেকে যায়।

অবশ্য ব্রিটেনের সরকারি কর্মকর্তা ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও বলেছেন যে, এই ভ্যাকসিন যে সর্বরোগ প্রতিরোধের সক্ষম সেটি ভাবা যাবে না।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি ল্যানসেট মেডিকেল জার্নাল বলেছিলো যে, এই ভ্যাকসিন নেওয়ার পরও একজনের থেকে অন্যজনের দেহে ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকানোর যে পুরোপুরি নিরাপদ তা সেভাবে বলা যাবে না। ভ্যাকসিনের যদি সংক্রমণ ছড়ানো বন্ধ করার ক্ষমতা না থাকে, তাহলে ভ্যাকসিন নেওয়ার দরুণ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে উঠলেও প্রথম দিকে উপসর্গহীন সংক্রমিতেরা ঝুঁকিপূর্ণ লোকেদের মধ্যে রোগটা ছড়াতে পারেন। এমনটি যারা ভ্যাকসিন নেননি তাদের মধ্যেও সংক্রমণ ছড়াতে পারেন।

আর অক্সফোর্ডের মত হলো, এ বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্তে যাওয়া যায় না।

তারা বলছে যে, ১২ সপ্তাহের ব্যবধানে দুই ডোজ গ্রহীতাদের মাঝে ৮২.৪ শতাংশ কার্যকর এই ভ্যাকসিন। মূলত তিন মাস পর্যন্ত সংক্রমণ প্রতিরোধে কোনো সমস্যা দেখা যায়নি।

এর আগে অক্সফোর্ড বলেছে যে, তাদের ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা নিয়ে কোনো সংশয় নেই। এই ভ্যাকসিন নিরাপদ। গড় কার্যকারিতাও ৭০ শতাংশ।

যদিও জার্মান গণমাধ্যমে এই ভ্যাকসিন বয়স্কদের মাঝে কতোটা কাযকর তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলো।

দুটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, বয়স্কদের মাঝে এই ভ্যাকসিন মাত্র ৮/১০ শতাংশ কার্যকর। তবে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা সে সংবাদকে সম্পূর্ণ ভ্রান্ত বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

মঙ্গলবার পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের সরকারি হিসাব অনুযায়ী ৯.৬ মিলিয়নের বেশি লোককে ভ্যাকসিন দেওযা হয়েছে। আর কমপেক্ষ ৫ লাখ মানুষ দ্বিতীয় ডোজ টিকা পেয়েছেন।