রাজধানীর বনানীর হোটেল দ্য রেইনট্রিতে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠিত তদন্ত কমিটি হোটেলটির ব্যবস্থাপনা এবং ঘটনার সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা নিয়েই এমডি আদনান হারুন ও জেনারেল ম্যানেজার ফ্রাঙ্ক ফরগেটকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে বলে জানিয়েছে তথ্যানুসন্ধান কমিটি।

বৃহস্পতিবার বিকালে রেইন ট্রি হোটেল কর্তৃপক্ষের এই দুই কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠিত তথ্যানুসন্ধান কমিটির আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন: মূলত তাদের এই ধর্ষণে কতোটুকু সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এবং তাদের ব্যবস্থাপনায় কিভাবে নির্দিষ্ট দুই জনের নামে হোটেল বুকিং দিয়ে অন্যরা থাকে তা জানতে চেয়েছি।

তিনি বলেন: তদন্তের স্বার্থে যেসব তথ্য জানার দরকার ছিল, তা আমরা জানতে চেয়েছি। তারা তাদের মতো করে প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন। অস্ত্রের ব্যাপারে তারা বলেছেন, অস্ত্র  ফ্রন্ট ডেস্কে রেখে দিয়েছিলাম।

তদন্ত কমিটির প্রধান নজরুল ইসলাম বলেন:  ‘আমরা এ ঘটনা তদন্তের জন্য রেইনট্রি ছাড়াও পুলিশের দু্ই কর্মকর্তা গুলশান জোনের ডিসি মোশতাক আহমেদ ও বনানী থানার ওসি ফরমান আলী আসেনি। তারা অফিসিয়ালি চিঠি দিয়ে সময় চেয়েছেন। আগামী ৪ জুন তদন্ত কমিটির সভা রয়েছে। সেদিন তাদের উপস্থিত হতে বলা হয়েছে।’

এ বিষয়ে পুলিশ অসহযোগিতা করছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখানে আমরা অসহযোগিতা বলবো না, তারা সময় চেয়েছেন, আমরা সময় দিয়েছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষর্থী ধর্ষণ ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন: তদন্ত চলছে প্রতিবেদন আগামী ৪ জুনের পরপরই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার চেষ্টা করবো।’

এর আগে গত মঙ্গলবার (২৩ মে) ধর্ষণের ঘটনার দিন মানবাধিকার লংঘন হয়েছে কিনা তা জানতে রেইট্রি কর্তৃপক্ষের এই দুই কর্মকর্তা ও দুইজন পুলিশ কর্তাকে তলব করেছিল তদন্ত কমিটি।

গত ২৮ মার্চ বনানীতে দ্য রেইনট্রি হোটেলে বন্ধুর মাধ্যমে এক জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হন বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী। এরপর অভিযুক্তরা ওই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে রাখে।

যাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে, তারা হলেন আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ সেলিমের ছেলে সাফাত আহমেদ, ই-মেকার্স বাংলাদেশের মালিক নাঈম আশরাফ ওরফে আব্দুল হালিম, রেগনাম গ্রুপের পরিচালক সাদমান সাকিফ, সাফাতের দেহরক্ষী রহমত আলী ও সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল হোসেনকে আসামী করে একজন ছাত্রী মামলা করেন।

১১ মে প্রধান আসামি সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফকে সিলেট থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ১৫  মে রাতে র‌্যাব এবং ডিবির পৃথক অভিযানে গ্রেফতার হয়  গাড়ি চালক বিল্লাল ও দেহরক্ষী রহমত আলী।

১৭ মে রাতে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থেকে গ্রেফতার হয় ধর্ষণ মামলার দুই নম্বর আসামি নাঈম আশরাফ ওরফে আব্দুল হালিম।

প্রাণনাশসহ বিভিন্ন হুমকি উপেক্ষা করে ঘটনার একমাসের বেশি দিন পর ওই দুই তরুণী ৪ মে বনানী থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করতে যান। তবে থানা পুলিশ মামলা না নিয়ে তাদেরকে হয়রানী করে বলে অভিযোগ ওঠার ৪৮ ঘণ্টা পর ৬ মে ওই অভিযোগ লিপিবদ্ধ করে।

ছবি: সাকিব উল ইসলাম