সিউলের এক ব্যস্ত ফ্রাইড চিকেন ও বিয়ারের দোকানে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জমে উঠেছিল অন্য রকম এক দৃশ্য। রেস্তোরাঁর অতিথিরা বুঝতেই পারেননি, তাদের টেবিলের পাশে বসে আছেন বিশ্বের শীর্ষ তিন বিলিয়নিয়ার এনভিডিয়ার সিইও জেনসেন হুয়াং, স্যামসাং ইলেকট্রনিক্সের চেয়ারম্যান লি জে-ইয়ং এবং হুন্ডাই মোটর গ্রুপের এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান চুং ইউই-সান।
গিওংজুতে এপেক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আগে এই তিন কর্তা রাজধানীর জনপ্রিয় “চিমাইক” (চিকেন ও বিয়ার) রেস্টুরেন্ট কাকানবু চিকেনে খানিক সময় কাটান। ‘আমি আমার বন্ধুদের সঙ্গে ভাজা মুরগি আর বিয়ার খেতে ভালোবাসি—তাই কাকানবু একদম পারফেক্ট জায়গা, তাই না?’ পৌঁছেই লাইভ-স্ট্রিমে বলেন এনভিডিয়া প্রধান হুয়াং। রেস্তোরাঁর নাম কোরিয়ান ভাষায় ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ অর্থে ব্যবহৃত হয়।
ইয়োনহাপ নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, তাঁরা পনির বল, হাড়বিহীন ভাজা মুরগি, পনির স্টিক এবং টেরা বিয়ার ও সোজু অর্ডার করেন। স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ফুটেজে দেখা যায়, তিনজন প্রায় ১৯৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সম্মিলিত সম্পদের মালিক হলেও, সাদামাটা ভঙ্গিতে খাবার উপভোগ করছেন ও অতিথিদের সঙ্গে আলাপ করছেন।
রেস্তোরাঁয় উপস্থিতদের বিস্মিত করে হুয়াং ‘সোনার ঘণ্টা’ বাজালে সবাই বুঝে যায় তিনি সবার বিল পরিশোধ করবেন। তবে শেষ পর্যন্ত স্যামসাং চেয়ারম্যান লি জে-ইয়ং বিল মেটান, আর হুন্ডাই চেয়ারম্যান চুং ইউই-সান দ্বিতীয় রাউন্ডের জন্য অর্থ প্রদান করেন।
দক্ষিণ কোরিয়ায় চলমান উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের ফাঁকে তাঁদের এই আরামদায়ক আড্ডা আন্তর্জাতিক আলোচনায়ও জায়গা করে নেয়। গিওংজুতে অনুষ্ঠিত এপেক সম্মেলনে যোগ দেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংসহ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও।
পরদিন শীর্ষ সম্মেলনে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিউংয়ের সঙ্গে বৈঠকে হুয়াং ঘোষণা দেন, এনভিডিয়া দেশটির কোম্পানিগুলোর কাছে ২ লাখ ৬০ হাজারেরও বেশি গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট (জিপিইউ) সরবরাহ করবে। এর মধ্যে স্যামসাং ও হুন্ডাইও রয়েছে।
রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের বরাত দিয়ে আরও জানানো হয়, এনভিডিয়া ‘ফিজিক্যাল এআই’ অর্থাৎ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর স্বয়ংচালিত যান ও বাস্তব বিশ্বের প্রযুক্তি সমন্বয়ের জন্য স্যামসাং, হুন্ডাই, নাভার ও এসকে গ্রুপের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে। সূত্র: এনডিটিভি









