‘স্বভাবকবি’ রাধাপদ রায়ের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

প্রতিবাদে অংশ নেওয়া এক বৃদ্ধ ব্যক্তি, যিনি রাধাপদ রায় হামলার ঘটনায় নিন্দা জানাচ্ছেন।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ
‘স্বভাবকবি’খ্যাত কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার রাধাপদ রায় (৮০) এর অমানবিক নির্যাতনের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা। সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন নামে একটি সংগঠন থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তারা এ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার স্বভাব-কবি রাধাপদ রায় (৮০) অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এমনকি এ ঘটনায় যাতে কোনো প্রকার মামলা দায়ের করা না হয়, এ জন্যও রাধাপদ সরকারের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর শনিবার সকালে উপজেলার ভেতরবন্দ ইউনিয়নের গোদ্দারেরপাড় এলাকার নিজ বাড়িতে কবি সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন। লাখো শহীদের রক্তস্নাত বাংলাদেশের একজন কবির উপর নির্যাতনের ঘটনায় আমরা লজ্জিত-বিব্রত ও ব্যথিত।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রাধাপদ সরকারকে নির্যাতনের ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও সংস্কৃতিজনের উপর হামলা নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। কিছু দিন আগেও দেশের বিভিন্ন স্থানে বাউল শিল্পী ও নাট্যকর্মীর উপর হামলা, বাউলের বাদ্যযন্ত্র ও পাণ্ডুলিপিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে, যার কোনোটিই রাষ্ট্র ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারেনি। আমরা মনে করি, প্রতিটি ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে আখ্যা দেওয়ার প্রবণতা এ ধরনের ঘটনা বৃদ্ধির জন্য দায়ি। আমরা রাধাপদ সরকারের উপর হামলার ঘটনাটিতে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুততম সময়ে সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
সংস্কৃতি চর্চা বন্ধ করে দেওয়ার যে আয়োজন দেশব্যাপী চলছে, তার সাথে এই ঘটনাকে পৃথক করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। যে কোনো কারণ বা প্রকারেই এ ধরনের ঘটনা ঘটুক না কেন—এর পিছনে একটি বৃহৎশক্তি রয়েছে, যারা দেশ থেকে সংস্কৃতি চর্চা নির্বাসনে পাঠাতে চায়, যারা রাধাপদ সরকারের মতো সংস্কৃতিসেবীদের একের পর এক আক্রমণ করে চলেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, সংস্কৃতির বিরুদ্ধে বিদ্বেষপোষণকারী জনগোষ্ঠীর সংখ্যা দিন দিন যত বাড়ছে, তার সাথে পাল্লা দিয়ে আামদের সংস্কৃতিকর্মী কিংবা সাংস্কৃতিক আয়োজন বাড়েনি। বরং জাতীয় সাংস্কৃতিক আয়োজনকে সঙ্কুচিত করা হয়েছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের লক্ষ্যে প্রত্যেক সচেতন নাগরিককে এগিয়ে আসতে হবে। একইসাথে কুড়িগ্রামের সংস্কৃতিকর্মী নির্বিশেষে রাধাপদ সরকারের পাশে থাকবেন —এমনটিই আমাদের প্রত্যাশা।
আমরা নিম্নস্বাক্ষরকারীগণ এ ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং ঘটনার অনুসন্ধানের দাবি জানাচ্ছি।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীরা:
এডভোকেট সুলতানা কামাল, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা, রাশেদা কে. চৌধুরী, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা, রামেন্দু মজুমদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন, ডা. সারওয়ার আলী, ট্রাস্টি, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, সভাপতি, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন, ড. নুর মোহাম্মদ তালুকদার, সভাপতি, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, মেসবাহউদ্দিন আহমেদ, সভাপতি, জাতীয় শ্রমিক জোট, ডা. ফওজিয়া মোসলেম, সভাপতি, মহিলা পরিষদ, খুশী কবির, মানবাধিকারকর্মী, অ্যাডভোকেট রানা দাশ গুপ্ত, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, এম. এম. আকাশ, অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রোবায়েত ফেরদৌস, অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সালেহ আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন, ড. জোবায়দা নাসরিন, অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, অ্যাডভোকেট পারভেজ হাসেম, আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট, দীপায়ন খীসা, সদস্য কেন্দ্রীয় কমিটি, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, অ্যাডভোকেট জীবনানন্দ জয়ন্ত, সংগঠক, গণজাগরণ মঞ্চ, ড. সেলু বাসিত, গবেষক ও সংস্কৃতিকর্মী, এ কে আজাদ, প্রধান সংগঠক প্রধান সংগঠক, আনন্দন, জহিরুল ইসলাম জহির, সাবেক সাধারণ সম্পাদক, খেলাঘর, জাহাঙ্গীর আলম সবুজ, সমাজকর্মী, অলক দাস গুপ্ত, সংস্কৃতিকর্মী, আবদুল আলীম, মানবাধিকারকর্মী, আব্দুর রাজ্জাক, সাধারণ সম্পাদক, ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন বাংলাদেশ (ইনসাব), গৌতম শীল, সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (বিসিএল)







