বিশ্বজুড়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা একটি বিরল ও অসাধারণ মহাজাগতিক ঘটনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আগামী ২০২৭ সালের ২ আগস্ট তারিখে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে একটি পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ, যা হবে ২১ শতকের দীর্ঘতম সূর্যগ্রহণগুলোর একটি এবং প্রায় এক শতাব্দীর মধ্যে স্থলভাগ থেকে দৃশ্যমান সবচেয়ে দীর্ঘ পূর্ণগ্রাসগুলোর অন্যতম।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এই গ্রহণের সময় চাঁদ সরাসরি পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে অবস্থান করবে, ফলে সূর্যের আলো সম্পূর্ণরূপে বাধাগ্রস্ত হবে এবং পৃথিবীর উপর পড়বে গভীর ছায়া। নাসা ও জ্যোতির্বিদদের হিসাব অনুযায়ী, সর্বোচ্চ পর্যায়ে এই পূর্ণগ্রাস ৬ মিনিট ২৩ সেকেন্ড পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
কোন কোন অঞ্চল থেকে দেখা যাবে
পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের সম্পূর্ণ পথ বিস্তৃত হবে- দক্ষিণ ইউরোপ, উত্তর আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্যের কিছু অংশ।
এর মধ্যে রয়েছে স্পেন, জিব্রাল্টার, মরক্কো, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, লিবিয়া, মিশর, সৌদি আরব, ইয়েমেন ও সোমালিয়া। সূর্যগ্রহণের পথ আটলান্টিক মহাসাগর থেকে শুরু হয়ে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।
পূর্ণগ্রাস দেখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে স্পেনের কাদিজ, মরক্কোর টাঞ্জিয়ার্স, জিব্রাল্টার, লিবিয়ার বেনগাজি, মিশরের লুক্সর এবং সৌদি আরবের জেদ্দা।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, মিশরের লুক্সর অঞ্চলে গ্রহণের সর্বোচ্চ পর্যায়ে চাঁদ সূর্যকে প্রায় ৬ মিনিট ২২–২৩ সেকেন্ড পর্যন্ত সম্পূর্ণভাবে ঢেকে রাখবে। এটি ২০০৯ সালের পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণকেও সময়ের দিক থেকে ছাড়িয়ে যাবে।
দক্ষিণ এশিয়া থেকে কেমন দেখা যাবে
যদিও ঘটনাটিকে অনেকেই “শতাব্দীর দীর্ঘতম অন্ধকার” বলে আখ্যা দিচ্ছেন, তবে দক্ষিণ এশিয়া থেকে এটি পূর্ণগ্রাস হিসেবে দেখা যাবে না। ভারতের আকাশে সূর্যের কেবল একটি অংশ চাঁদ দ্বারা আচ্ছাদিত হবে, অর্থাৎ এখানে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে।
পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ কী এবং কী ঘটে
পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ ঘটে যখন চাঁদ সম্পূর্ণভাবে সূর্যের চাকতিকে ঢেকে দেয়। এ সময়—দিনের আলো হঠাৎ করে গোধূলির মতো অন্ধকার হয়ে যায়, তারা ও গ্রহ আকাশে দৃশ্যমান হতে পারে, পাখি ও প্রাণীদের আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখা যায়, সূর্যের করোনা চাঁদের চারপাশে উজ্জ্বল বলয়ের মতো দৃশ্যমান হয়।
বিজ্ঞানীদের মতে, সূর্যগ্রহণ একটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক মহাজাগতিক ঘটনা এবং এর ফলে পৃথিবীর ওপর কোনো ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে না। তবে সূর্য দেখার সময় চোখ রক্ষার জন্য বিশেষ সুরক্ষা চশমা ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
গবেষণা ও জনসচেতনতার সুযোগ
বিজ্ঞানী ও আকাশ পর্যবেক্ষকদের মতে, এই দীর্ঘস্থায়ী পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ সূর্যের করোনা, সৌর বিকিরণ এবং মহাকাশীয় প্রভাব নিয়ে গবেষণার জন্য একটি অসাধারণ সুযোগ সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি, এটি সাধারণ মানুষের মধ্যে জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ ও সচেতনতা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।









