ভয়াবহ ভুমিকম্পের আতঙ্ক এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি তুরস্ক ও সিরিয়াবাসী। এই দুটি দেশেই ঘরবাড়ি ধ্বসে পড়েছে এবং রাস্তাঘাটে ফাটল ধরেছে। ফলে যোগাযোগ ও যাতায়াত ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে। আতঙ্কে কোন ভবনের আশেপাশে যেতে ভয় পাচ্ছে স্থানীয় সাধারণ মানুষ।
গৃহহীন অবস্থায় সাধারণ মানুষ প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে আতঙ্কের মধ্যে দিন অতিবাহিত করছে।
সাহায্য চেয়ে বার্তা
ইস্তাম্বুলের একজন তুর্কি সাংবাদিক বিবিসিকে বলেন, মানুষ এখনও ভবনের নিচে চাপা পড়ে আছে, তাদের সাহায্যের প্রয়োজন। তিনি বলেন, আটকে পড়া মানুষ ধ্বংসস্তূপ থেকে তাকে এবং অন্যান্য সাংবাদিকদের ভিডিও, ভয়েস নোট এবং তাদের লাইভ অবস্থানের তথ্য পাঠাচ্ছে। তারা কোথায় আছে, তারা আমাদের জানাচ্ছে কিন্তু আমরা কিছুই করতে পারছি না। তুরস্কের বড় ধরণের আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন।
ফুটবলার ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ান আতসুকে উদ্ধার
ঘানা থেকে আসা তুরস্ক দলের ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ান আতসুকে ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার ব্যবস্থাপক। তিনি তুর্কি দলের হয়ে আন্তাকিয়া ভিত্তিক একটি ক্লাবে খেলেন। বিবিসি আফ্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, গুরুতর আহত অবস্থায় ধ্বংসস্তূপ থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ক্লাবটির ক্রীড়া পরিচালক তানোর সাভুত এখনও ধ্বংসস্তূপে আটকা পড়ে আছেন।

বিমানবন্দরে আহাজারি
ভূমিকম্পের ফলে তুরস্কের ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে ফ্লাইট বিলম্বিত হয়। যাত্রীদের মধ্যে সামেত নামের একজন জানায় তার ২৬ বছর বয়সী ভাইকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। সে তার ফোনে ধ্বংসস্তূপের একটি ছবি দেখিয়ে বলে, এখানে তার ভাই আছে। যাত্রীরা তাদের আটকে পড়া আত্মীয়দের চিন্তায় কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে।

ধ্বংসস্তূপে দাদা-দাদি
বারিস ইয়াপার নামক একজন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্র সোমবার রাতে তার বাবা মায়ের সাথে গাড়িতে ছিলেন। তুরস্কের সামান্দাগে তাদের অ্যাপার্টমেন্টে তার দাদা দাদি চাপা পড়ে। তারা অপেক্ষা ও প্রার্থনা করছিলেন যে কেউ শীঘ্রই ধ্বংসস্তূপ থেকে তার দাদা দাদীকে উদ্ধার করতে আসবে। তিনি বলেন, তিনি শান্ত থাকার চেষ্টা করছেন, তার মা বাবার যত্ন নিচ্ছেন।
বেঁচে গেলে অধ্যাপকের পরিবার
আদানা সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের একজন অধ্যাপক এডানা সুলে অফিসে তার স্বামী সুলেমান সায়ার এবং তাদের দুই বছর বয়সী মেয়ে ইভা ডেনিজের সাথে আটকে ছিলেন। ভূমিকম্পের সময় তিনি এবং তার পরিবার ঘুমিয়ে ছিলেন। তিনি বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে আমি আমার মেয়েকে ধরে বিছানা থেকে লাফিয়ে পড়লাম। তিনি আরও বলেন, আমরা একটি দরজার ফ্রেমে একসাথে জড়ো হয়েছিলাম। বাস্তবে ভূমিকম্পটি প্রায় দুই মিনিট স্থায়ী ছিল তবে আমাদের কাছে এটি মহাকালের সমান বড় ছিল। অবশেষে যখন এটি থামল, আমরা দ্রুত সিঁড়ি দিয়ে নেমে যাই। আমরা গাড়িতে উঠে ড্রাইভিং শুরু করলাম।

পরিবারের সাথে বেঁচে গেল পোষা বেড়ালটি
রাসেল পেগ্রাম গাজিয়ানটেপে নামের সেখানকার একজন ব্রিটিশ ভূগোল শিক্ষক বলেন, তিনি তার স্ত্রী এজরার আত্মীয়দের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলেন। তখন ভূমিকম্প আঘাত হানে। তিনি বলেন, আমি সম্ভবত ২০ বছর ধরে প্রতি বছর ভূমিকম্পে করনীয় শিখিয়েছি। কিন্তু কোন কিছুই কাজে লাগেনি। এটি ভয়ংকর ছিল। পুরো বিল্ডিং এপাশ ওপাশ করে ভীষণ কাঁপছিল। জিনিস পত্র নিচে পড়ে যাচ্ছিল। আমি আমার স্ত্রীর হাত ধরেছিলাম, পরিবারের বাকি সদস্যদের সাথে নিয়েছিলাম এবং আমরা শুধু দৌড়েছিলাম। আমরা কি নিয়েছি বা পরেছি তা খেয়াল করিনি। আমার গাড়ির চাবি এবং মানিব্যাগ পেয়েছি এবং যত দ্রুত সম্ভব বিল্ডিং থেকে বেরিয়ে এসেছি।
ছয় সদস্যের শক্তিশালী পরিবার তাদের বিড়ালটিকেও নিয়েছিল এবং নিরাপদে পৌঁছানোর জন্য তাড়াহুড়ো করে জুতা ছাড়াই তুষারে ছুটে গিয়েছিল। তার পরিবার তাদের গাড়িতে রাত কাটায় এবং পরের দিন সকালে ফ্ল্যাটে ফিরে আসে।








