গানফায়ার, নিস্তব্ধতা আর ক্ষমতার দাপট- টক্সিক ছবির টিজারে ঠিক এই তিন উপাদানেই নিজের নতুন চরিত্র ‘রায়া’কে হাজির করলেন ‘কেজিএফ’ দিয়ে বিশ্বব্যাপী সাড়া জাগানো যশ! জন্মদিনে আবেগঘন কোনো ঘোষণা নয়, বরং ঠাণ্ডা ও শীতল উচ্চারণে শুধু বললেন একটি লাইন— ‘ডেডি ইজ হোম’! এটি দিয়েই যেন স্পষ্ট করে দিলেন, তিনি ফিরেছেন নতুন উচ্চতায়!
একইসঙ্গে দর্শক, প্রদর্শক ও ট্রেড- সবার উদ্দেশে এক সুস্পষ্ট বার্তা! কেজিএফ–এর পর যশ নিজেকে কীভাবে নতুনভাবে উপস্থাপন করবেন, তারই ইঙ্গিত মিলেছে ‘টক্সিক’–এর এই প্রথম ঝলকে।
লক্ষণীয় বিষয় হলো, নিজের চরিত্র প্রকাশের আগে যশ ছবির নারী চরিত্রদের সামনে নিয়ে এসেছেন। কিয়ারা আদভানি, নয়নতারা, হুমা কুরেশি, রুক্মিণী বসন্ত ও তারা সুতারিয়াকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পরই আসে রায়ার আবির্ভাব। বলিউডে শাহরুখ খানের মতো শীর্ষ তারকারাও বহুবার এমন কৌশল নিয়েছেন। গল্প ও আবেগের জগৎ তৈরি করে তারপর নিজের প্রবেশ।
ট্রেড বিশ্লেষকদের মতে, এটি অনুপস্থিতি নয়, বরং আত্মবিশ্বাসের প্রকাশ! এতে স্পষ্ট হয় ‘টক্সিক’ এক ব্যক্তিনির্ভর শো নয়, বরং চরিত্রনির্ভর একটি বৃহৎ জগত।
টিজার শুরু হয় এক কবরস্থানে। নিস্তব্ধতার ভেতর আচমকা গুলির শব্দ, একের পর এক লাশ পড়তে থাকে, ধোঁয়ার ভেতর দিয়ে হেঁটে আসে রায়া। কোনো ব্যাখ্যা নেই, নেই দীর্ঘ সংলাপ। শুধু ভঙ্গি, নিয়ন্ত্রণ আর কর্তৃত্ব। হাতে থাকা টমি গান যেন আগ্রাসনের নয়, বরং ক্ষমতার প্রতীক!
ভারতীয় গণবিনোদনধর্মী সিনেমায় যেখানে ‘স্কেল’ মানেই উচ্চ শব্দ আর অতিরিক্ত নাটকীয়তা, সেখানে ‘টক্সিক’ বেছে নিয়েছে সংযম। আন্তর্জাতিক ঘরানার ভিজ্যুয়াল ভাষা, ঠাণ্ডা উপস্থিতি! যদিও কেজিএফ–এর মতোই অন্ধকার জগৎ ও স্টাইলাইজড সহিংসতা রয়েছে, তবু টক্সিক স্পষ্টভাবে আলাদা! কেজিএফ ছিল উচ্চস্বরে গর্জন করা এক মহাকাব্য, আর টক্সিক যেন আরও ঠাণ্ডা, হিসেবি ও মানসিক আধিপত্যে ভর করা আভিজাত্যপূর্ণ অভিজ্ঞতা!
অভিনয়ের পাশাপাশি সহ-চিত্রনাট্যকার ও সহ-প্রযোজক হিসেবেও ‘টক্সিক’-এ আছেন যশ। পরিচালক জীতু মোহনদাসের এই ছবির গল্প বলার ঢঙে মুগ্ধ সিনেমা ক্রিটিকস! টিজার দেখেই তারা বলছেন, এত বড় বাণিজ্যিক স্কেলে ভারতীয় সিনেমায় এমন নিরীক্ষা বিরল! তারউপর নারী নির্মাতা
প্রযুক্তিগত দিক থেকেও ছবিটি শক্তিশালী। চিত্রগ্রহণে রাজীব রবি, সংগীতে রবি বাসরুর, আর অ্যাকশন কোরিওগ্রাফিতে হলিউডের জেজে পেরি ছাড়াও আনবারিভ ও কেচা খামফাকদির নাম যুক্ত হয়েছে।
কন্নড় ও ইংরেজি ভাষায় একসঙ্গে শুট হওয়া ‘টক্সিক’–এর ডাব সংস্করণ আসবে ভারতের বিভিন্ন ভাষায়। ২০২৬ সালের ১৯ মার্চ ঈদসহ কন্নড়ের বড় একটি উৎসবের সময় ছবিটি মুক্তির পরিকল্পনা, যা বক্স অফিসে বড় প্রত্যাশারই ইঙ্গিত দেয়! গ্ল্যামসাম










