ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে এবারের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া আসরের আগেই সমালোচনার মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র ক্রিকেট বোর্ড (ইউএসএসি)। আইসিসির বিপুল সংখ্যক পূর্ণ সদস্য দেশ ইউএসএসিকে নিষিদ্ধ করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তবে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আপাতত সেই কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে না। তবে ইউএসএসি পরিস্থিতি সামলাতে না পারলে যেকোনো সময় তাদের উপর নিষেধাজ্ঞার খড়গ নেমে আসতে পারে।
ইউএসএসিকে ইতিমধ্যে তিরস্কার করেছে ইউনাইটেড স্টেটস অলিম্পিক অ্যান্ড প্যারালিম্পিক কমিটি (ইউএসওপিসি) এবং আইসিসি। চলমান পরিস্থিতির নিন্দা জানিয়ে ইউএসওপিসি কড়া ভাষায় চিঠিও পাঠিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইউএসওপিসি যুক্তরাষ্ট্র ক্রিকেট বোর্ডের দৈনন্দিন কার্যক্রমে বোর্ড পরিচালকদের হস্তক্ষেপে ‘বিরক্ত’ বলে প্রতীয়মান হয়। ক্রিকেট বোর্ডের সিইও ড. নূর মুরাদকে সম্প্রতি তার পদ অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
গত ১৫ মার্চ বোর্ডের বৈঠকের পর আইসিসি ইউএসএসি তাদের কার্যক্রমের শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য সরাসরি সতর্কতা জারি করে। সিইও পদের জন্য ড. নূর মুরাদকে আইসিসিই সুপারিশ করেছিল। যদিও তার কর্মকাণ্ডে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ক্ষুব্ধ হওয়ায় কিন্তু চুক্তির মেয়াদ ছয় মাস বাকি থাকতে তাকে সরিয়ে দেয়া হয়। তবুও ইউএসএসি ডা. মুরাদকে পুনর্বহালের চেষ্টার ঘটনা আইসিসির ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদে থাকা ব্যক্তিরা তাদের কার্যক্রমে অতিমাত্রায় সম্পৃক্ত থাকা উচিৎ বলে মনে করেন। এমনটা করতে গিয়ে কিছু ব্যক্তিগত বিষয়ও জড়িয়ে যায়। এতে কখনোই ক্রিকেট বিকশিত হয় না। নির্দিষ্ট পদে নির্বাচিত হতে তারা প্রচুর অর্থ ব্যয় করছেন।
তারা মনে করেন, শুধুমাত্র নিজস্ব লোকদের সমর্থন করার জন্য এবং বোর্ডের বিভিন্ন কমিটিতে নিয়োগ দেয়ার জন্য নির্দিষ্ট কারণে কার্যক্রম চালানোটা তাদের অধিকার। তারা বুঝতে চান না, বোর্ড কীভাবে চালাতে হয়। বোর্ড এবং প্রশাসনের ভেতর একটা সীমানাও আছে।
ড. মুরাদ ঘরোয়া ক্রিকেটে একজন পরিচালক, একজন ফিন্যান্স ম্যানেজার এবং অন্যান্য অনেক পদে বৈতনিক এবং অবৈতনিকভাবে নিয়োগ দিতে চেয়েছিলেন। নিজের পছন্দের ব্যক্তিদেরই তিনি পদগুলোতে বসাতে চেয়েছিলেন। বিশ্বকাপ এবং তার পরবর্তীতে জাতীয় দলের জন্য একটি হাই পারফরম্যান্স কাঠামো তৈরির প্রচেষ্টায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হন। বোর্ডে আম্পায়ারিং এবং কোচিং কাঠামোর পুনর্গঠনও করতে চেয়েছিলেন ড. মুরাদ।
বিশ্বকাপের মাত্র কয়েক মাস আগে ডেভেলপমেন্ট অফিসার জেমি পল লয়েড, মহিলা সমন্বয়কারী জুলি অ্যাবট এবং শক্তি ও কন্ডিশনিং কোচ বার্ট ককলির পদত্যাগ নিয়ে বোর্ডে ভেতরের অস্থিরতা প্রকাশ্যে চলে আসে।







