আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ডামাডোলে, যখন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলীয় কাজে ব্যস্ত, তখন ভোটের ময়দানে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছেন তার সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম এবং ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহ। ঠাকুরগাঁওয়ে মা ও মেয়ে দুজনেই দিনরাত উঠান বৈঠক, পথসভা আর গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন, যা স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে এক নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।

রোববার (১৪ ডিসেম্বর) রাতে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার কুমারপুর স্কুল মাঠে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল আয়োজিত এক উঠান বৈঠক থেকে বড় এক রাজনৈতিক বার্তার জন্ম দিয়েছেন রাহাত আরা বেগম। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ২৫ ডিসেম্বর, সকাল ১১টায়, ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফিরবেন।
এ ঘোষণা ঘিরে স্থানীয় রাজনীতিতে এক ধরনের জল্পনা শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে, তিনি উপস্থিত জনতার কাছে আসন্ন নির্বাচনে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান, যা দেশের মানুষকে “৫০ বছর সামনে এগিয়ে” নিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন।
ঐতিহ্যবাহী বাঙালি সংস্কৃতি ও সামাজিক মূল্যবোধের প্রতি সম্মান রেখে রাহাত আরা বেগম স্বামীর নাম সরাসরি উচ্চারণ না করে তার দীর্ঘ ও ত্যাগী রাজনৈতিক জীবনের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ’উনি কিন্তু ৩৭টি বছর ধরে রাজনীতি করছেন। ৩৭টি বছরের মধ্যে ১৬ বছর তিনি কিন্তু রাতে ঘুমাননি। ভালোমতো করে খাবারও খাননি। জেলে থেকেছেন।’
তিনি আরও জানান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ পর্যন্ত ১১ বার জেল খেটেছেন, যার মধ্যে একবার টানা সাত মাস কারাভোগ করেছেন। স্বামীর এই কষ্টের কথা তুলে ধরে তিনি জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন রাখেন, ‘আপনারা তার (মির্জা ফখরুল) পাশে আছেন তো? তিনি এতটাই কষ্ট করেছেন, তাকে আপনারা একটু শান্তি দিয়েন!’
স্বামীর মানবিক দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশ যখন বিপদের মধ্য দিয়ে যায়, তখন তার স্বামী শান্তি পান না। দেশের মানুষের দুরাবস্থা দেখে তিনি কেঁদে দেন। তিনি মানবতাকে সবচেয়ে বড় ধর্ম হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান কিছুই বুঝি না। সবচেয়ে বড় ধর্ম হলো মানব ধর্ম।’
উঠান বৈঠকে বাবার জন্য ভোট চেয়ে বক্তব্য দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট মেয়ে মির্জা সাফা রুহ। তিনি বলেন, ‘শুধুমাত্র রাজনীতি করার জন্য ও জনগণের পাশে থাকার কারণে বাবাকে ১১ বার জেলে যেতে হয়েছে।’
মির্জা সাফা রুহ নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী করার ক্ষেত্রে বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ‘ফ্যামিলি কার্ডে’র গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড যেটা বিএনপি প্রচার করছে। এই একটা ফ্যামিলি কার্ডে একজন নারী অর্থনৈতিকভাবে অনেকটা স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারবে।’
তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, এই কার্ডটি গরিব-দুঃখীসহ প্রত্যেকেই পাবেন, যা পরিবারে নারীর সম্মান বাড়াবে এবং চাল, ডালসহ নিত্যপণ্য সংগ্রহে সহায়ক হবে। তিনি নারী জাতির প্রতি বিএনপির বিশেষ চিন্তাভাবনার কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
মির্জা ফখরুলের স্ত্রী ও কন্যার এই সরব উপস্থিতি এলাকায় এক ‘চমক’ সৃষ্টি করেছে। বিএনপি দলীয় নেতা-কর্মীরাও উদ্দীপনায় মুখর। মা ও মেয়ে দুজনেই ভোট চাওয়ার পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করে দোয়া চেয়েছেন। এই সমাবেশগুলোতে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ, গড়েয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রেজওয়ানুল ইসলাম শাহ, জেলা মহিলা দলের সভাপতি ফোরাতুন নাহার প্যারিস, সাধারণ সম্পাদক নাজমা পারভিনসহ ইউনিয়ন বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।









