দুর্নীতির অভিযোগে ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা সাউথ আফ্রিকার সাবেক বোলার লনওয়াবো সাতসোবসহ তিন ক্রিকেটারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন দেশটির সাবেক টেস্ট ক্রিকেটার থামি সোলেকিল এবং এথি এমবালাতি।
এ তিন ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে সাউথ আফ্রিকার দুর্নীতি প্রতিরোধ ও নির্মূল আইনে অভিযোগ আনা হয়েছে। দেশটির পুলিশের বিশেষ শাখা ডিরেক্টরেট ফর প্রায়োরিটি ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন (ডিপিসিআই) এর তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
শুক্রবার ডিপিসিআইয়ের ন্যাশনাল হেড লেফটেন্যান্ট জেনারেল গডফ্রে লেবেয়া বলেন, ‘দুর্নীতি খেলাধুলার অখণ্ডতাকে ক্ষুণ্ন করে এবং ডিপিসিআই সমাজের সব ক্ষেত্রে ন্যায্যতা ও পেশাদারত্বের মূল্যবোধ রক্ষা করার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকাকে তাদের সহযোগিতা ও প্রতিশ্রুতির জন্য ধন্যবাদ।’
২০১৬ ও ২০১৭ সালে ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকা (সিএসএ) ঘরোয়া টি-টুয়েন্টি টুর্নামেন্টে ফিক্সিং চেষ্টার কারণে যে ৭ ক্রিকেটারকে বিভিন্ন মেয়াদে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল, সাতসোবে, সোলেকিল ও এমবালাতি তাদের মধ্যে অন্যতম।
অভিযোগ রয়েছে, ২০১৫-১৬ র্যাম স্ল্যাম চ্যালেঞ্জ টি-টুয়েন্টি টুর্নামেন্টে একটি ম্যাচে ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে জড়িত ছিলেন তারা। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৬ ও ২০১৭ সালে ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকা (সিএসএ) এ তিনজনসহ ৭ ক্রিকেটারকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়। মূলত ২০১৬ সালের অক্টোবরে ডিপিসিআইয়ের এক প্রতিবেদনে উঠে আসে তাদের ফিক্সিং চেষ্টার ঘটনা। তবে কোনো ম্যাচ পাতানো বা স্পট ফিক্সিং করতে পারেননি তারা, পরিকল্পনার পর্যায়েই ধরা পড়েছিল তা।
৭ জনের মধ্যে গুলাম বদি আগেই কারাভোগ করেছেন। ২০২১ সালে জিন সিমস ও ২০২২ সালে পুমি মাতশিকিওয়ে অপরাধ স্বীকার করে নেয়ায় তাদের শাস্তি স্থগিত করা হয়েছে। সাতসোব, সোলেকিল ও এমবালতির বিরুদ্ধে মামলাগুলো ২০২৫ সাল পর্যন্ত স্থগিত করা আছে। অভিযুক্ত সপ্তম ক্রিকেটার আলভেরো পিটারসেনের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হবে, সেটা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
ক্রিকইনফো এক প্রতিবেদনে বলছে, ২০০০ সালে সাউথ আফ্রিকার তৎকালীন অধিনায়ক হ্যান্সি ক্রনিয়ের ফিক্সিংয়ের ঘটনার পর দুর্নীতি বিরোধী ও নির্মূল আইন করা হয়। ২০০৪ সালে আইনটি প্রচলনের পর এই প্রথম তিনজন অভিযুক্ত হলেন। এ আইনের ১৫ ধারার অধীনে পাঁচটি অভিযোগ এনে সাতসোব, সোলেকিল ও এমবালতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সাতসোব সাউথ আফ্রিকা জাতীয় দলের হয়ে ৬১ ওয়ানডে, ২৩ টি-টুয়েন্টি ও ৫ টেস্ট খেলেছেন। সবশেষ ২০১৪ সালে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রোটিয়াদের প্রতিনিধিত্ব করেন সাতসোব। ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৩ সালের মে পর্যন্ত ওয়ানডেতে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ছিলেন এই বাঁহাতি পেসার। সোলেকিল প্রোটিয়া জার্সিতে ৩টি টেস্ট খেললেও এমবালতি কখনো জাতীয় দলে খেলেননি।









