সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও দেখে সাত বছর পর বৃদ্ধ মাকে ফিরে পেয়েছে ভারতের উত্তর দিনাজপুরের এক যুবক। মাকে পেয়ে উচ্ছ্বাসিত ছেলে নেহাল। বলেছেন, ‘মাকে যে ফিরে পাব, তা ভাবতেই পারিনি।’
বৃহস্পতিবার ১৩ জুলাই ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়। এতে বলা হয়, মঙ্গলবার মায়ের সাথে দেখা করে বাসায় নেয় ছেলে নেহাল।
জানা গেছে, ডানলপের ফুটপাতে অবস্থান করা এক বৃদ্ধের দিকে খাবারের প্যাকেট এগিয়ে দিয়েছিলেন এক সংসদ সদস্যের দেহরক্ষী। তা প্রত্যাখ্যান করে বছর পঞ্চাশের বৃদ্ধা বলেন, ‘পলিটিক্যাল প্রোগ্রামের খাবার নেব না।’ কেন জানতে চাইলে? তিনি বলেন, ‘ইমপসিবল, অসম্ভব।’
ফুটপাতবাসী বৃদ্ধের মুখে ইংরেজি কথা শুনে বিস্মিত কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল ব্রাঞ্চের কর্মী, সাংসদ সৌগত রায়ের দেহরক্ষী বাবন দাস ভিডিও করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করেন। সেই ভিডিও সাত বছর পরে ঘরে ফেরাল উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের ঝর্না যাদবকে। ভাইরাল ভিডিও দেখে মঙ্গলবার ডানলপে মাকে নিতে যায় তার ছেলে নেহাল।
এ সময় নেহাল জানায়, ‘তখন ছোট ছিলাম, অত বুঝিনি। পরে বুঝেছি, মা কেন বাড়ি ছেড়েছিলেন। মাকে যে ফিরে পাব, ভাবতেই পারিনি।’
রায়গঞ্জের তুলসীতলার বাসিন্দা ঝর্না সাত বছর আগে স্বামীর অত্যাচারে ঘর ছাড়েন। দু’ছেলে, তিন মেয়েকে না জানিয়েই একা কলকাতায় আসেন চিকিৎসা করাতে। আর ঘরে ফেরেননি তিনি। অবস্থান করেন শহরের রাজপথে। গত তিন বছর ছিলেন বরাহনগরের টবিন রোডের ফুটপাতে। সম্প্রতি ডানলপ সেতুর কাছে কাগজ-বোতল বিক্রি, চায়ের দোকানে কাজ করেই দিন চলত তার।
স্থানীরা জানায়, কারও সাথে খারাপ ব্যবহার করতেন না বৃদ্ধা। ভিক্ষাও নিতেন না। ছেলেমেয়েদের কথা সবাইকে বলতেন।’ দিনকয়েক আগে ডানলপ মোড়ে সৌগতের সভা উপলক্ষে বাবনের নজরে আসেন ঝর্না।
বাবন বলেন, ‘উনি ইংরেজিতে কথা বলায় অবাক হয়ে ভিডিও করি। পরে শুনি, উনিও বাড়ি ফিরতে চান।’
এদিন প্রথমে ছেলেকে দেখে লাঠি দিয়ে মারতে যান ঝর্না। পরে বুকে জড়িয়ে ধরেন। বলেন, ‘এত দিন পরে মনে পড়ল মাকে? চল, বাড়ি যাই।’ রাতেই দক্ষিণেশ্বর থেকে ফেরার ট্রেনে রওয়ানা দেন মা-ছেলে।







