কফিনবন্দি হয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে পৌঁছেছে দেশের শীর্ষ ব্যান্ড ‘মাইলস’ এর সাবেক ভোকাল ও বেজ গিটারিস্ট শাফিন আহমেদের মরদেহ। জনপ্রিয় এই শিল্পীকে বহনকারী বিমানটি সোমবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।
খবরটি নিশ্চিত করেছেন ‘মাইলস’ ব্যান্ডের সাথে যুক্ত এরশাদুল হক টিংকু। তিনি জানান, শাফিন আহমেদের কফিন সন্ধ্যা ৬টার কিছু পরে বিমানবন্দর থেকে বের করা হয়। নিয়ে যাওয়া হয় শিল্পীর উত্তরার বাসায়। সেখানে কিছু সময় রেখে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে একটি হাসপাতালের হিমঘরে।
আগেই শাফিনের পরিবার বিবৃতি দিয়ে জানায়, ৩০ জুলাই বাদ যোহর গুলশানের আজাদ মসজিদে জানাজা হবে শাফিনের। পরে বনানী কবরস্থানে হবে শিল্পীর দাফন। এমনকি আগামি শুক্রবার কুলখানির কথাও ওই বিবৃতিতে জানায় তার পরিবার।
তবে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের বিষয়ে কিছু জানা যায়নি। টিংকু এদিন একটি গণমাধ্যমে জানান, শাফিনের শেষকৃত্যানুষ্ঠান ঘিরে পারিবারিক সিদ্ধান্ত আগেই জানানো হয়েছে। এর বাইরে শাফিন আহমেদের মরদেহ ঘিরে ভক্ত বা গণমাধ্যমের কোনও ভিড় প্রত্যাশা করছেন না তারা। এই সময়টুকু তারা নিজেদের মতো করে থাকতে চাইছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে কনসার্টে অংশ নিতে ৯ জুলাই ঢাকা ছাড়েন শাফিন আহমেদ। ২০ জুলাই ভার্জিনিয়ায় একটি কনসার্টে গাওয়ার আগে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন এই গায়ক। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গেল ২৫ তারিখে মৃত্যু হয় তার।
শাফিন ছিলেন উপমহাদেশের কিংবদন্তী নজরুল সংগীতশিল্পী ফিরোজা বেগম এবং প্রখ্যাত সংগীত পরিচালক কমল দাশ গুপ্তের কনিষ্ঠ পুত্র। ফিরিয়ে দাও, ধিকি ধিকি, চাঁদ তারা সূর্য, কি জাদু, আজ জন্মদিন তোমার, এবং আরো অনেক তুমুল জনপ্রিয় গানের মাধ্যমে শাফিন আহমেদ বাংলা গানের জগতে অন্যতম জনপ্রিয় এবং আইকনিক গায়ক হিসাবে তার স্বকীয় পরিচয় সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এছাড়াও তিনি বেশ কয়েকটি একক অ্যালবাম প্রকাশ করেন, যা ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে।
তিনি তার দুই বড় ভাই তাহসিন আহমেদ এবং হামিন আহমেদকে রেখে গেছেন; সেই সঙ্গে রেখে গেছেন স্ত্রী, তিন পুত্র মাইসিম, আজরাফ এবং রেহান; একমাত্র কন্যা রানিয়া; তার পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং লক্ষ লক্ষ ভক্ত ও অনুরাগীকে।









