ঠাকুরগাঁওয়ে ঋণের চাপ সইতে না পেরে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের রবীন্দ্র দেবনাথ (৫৫) নামের প্রধান শিক্ষক আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে। ঘরের পাশে বাঁশঝড়ে ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার ২৯ ফেব্রুয়ারি পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এরআগে বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে সদর উপজেলার কেশুরবাড়ী তাঁতিপাড়া এলাকা থেকে ওই শিক্ষকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
তিনি সদর উপজেলার ভূল্লী থানার চরণখোলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
রবীন্দ্র দেবনাথের ছোট ভাই কৃষ্ণ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, গতকাল বিদ্যালয় থেকে দাপ্তরিক কাজ শেষে বাড়িতে যান ভাই রবীন্দ্র। এরপর বিকেলে স্থানীয় বাজারে যান। পরে রাত ১০টার দিকে বাড়ির অদূরে বাঁশঝাড়ে বাঁশের সঙ্গে তার লাশ ঝুলতে দেখে প্রতিবেশীরা। তাদের চিৎকার শুনে বাজারের লোকজন ছুটে আসেন এবং পুলিশে খবর দেন।
কৃষ্ণ চন্দ্র দেবনাথ আরও জানান, তার ভাই বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ নেওয়ার পর লোকসানে পড়ে যায়। এ কারণে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।
কেশুরবাড়ী তাঁতিপাড়া এলাকার রুবেল রানা নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে অপমান সহ্য করতে না পেরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন স্যার। এনজিওর চাপে আত্মহত্যার ঘটনার আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে।
একই গ্রামের সাহেরুল ইসলাম বলেন, একজন প্রধান শিক্ষকের এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ফয়জুর রহমান বলেন, রবীন্দ্র দেবনাথ সহজ-সরল ও একজন আদর্শ শিক্ষক ছিলেন। সম্প্রতি বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ নিয়ে পরিশোধ করতে না পেরে মানসিক চাপে ছিলেন। ঋন পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে চাপের মুখে তিনি হয়তো আত্মহত্যা করেন।
ভূল্লি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দুলাল উদ্দীন বলেন, ঋণের চাপে ওই প্রধান শিক্ষক আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের (এডিএম) অনুমতিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মৃতদেহ সৎকারের জন্য তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।







