প্রখ্যাত ব্রিটিশ সাংবাদিক এবং বিবিসির প্রাক্তন নয়াদিল্লি ব্যুরো প্রধান স্যার উইলিয়াম মার্ক টালি ৯০ বছর বয়সে নয়া দিল্লিতে মৃত্যুবরণ করেছেন।
আজ রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে তিনি মারা যান। স্যার মার্ক টালি দীর্ঘ ৩০ বছর বিবিসি-তে কাজ করেছেন এবং দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান ঘটনাবলী, বিশেষ করে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও ভারতের রাজনীতিতে সাংবাদিকতার জন্য স্মরণীয়।
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বিবিসি টিমে যারা কাজ করতেন তাদের অগ্রনায়কের আসনে ছিলেন স্যার মার্ক টালি। মুক্তিযুদ্ধের সেই উত্তাল দিনগুলোতে তিনি ছিলেন বাঙালি মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আশার আলো। প্রতি মুহূর্তে বাঙালিদের চাঙ্গা করতে তার কণ্ঠের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
মার্ক টালির জন্ম ১৯৩৫ সালের ২৫ অক্টোবর ধনাঢ্য ইংরেজ পরিবারে হলেও জন্মস্থান কিন্তু কলকাতায়। মার্ক টালির কেন এই বাংলাদেশের প্রতি নাড়ির বাঁধন অনেকেই হয়তো জানেন না। মার্ক টালির মা ছিলেন বাংলাদেশের নেত্রকোনা জেলার মেয়ে। বাবা ব্রিটিশ রাজত্বে ব্যবসার সুবাদে কলকাতা থেকে বাংলাদেশে পাট কিনতে আসতেন। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্থায়িত্ব বেড়ে যায় তার মা বাঙালি বলে।
তার পিতা ব্রিটিশ রাজের নিয়ন্ত্রণাধীন শীর্ষস্থানীয় অংশীদারি প্রতিষ্ঠানের ব্রিটিশ ব্যবসায়ী ছিলেন। শৈশবের প্রথম দশকে ভারতে অবস্থান করেন। কিন্তু ভারতীয়দের সঙ্গে সামাজিকভাবে মেলামেশার সুযোগ পাননি তিনি।
ইংল্যান্ডের বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেন। টাইফোর্ড স্কুলে পড়ার পর ভর্তি হন মার্লবোরো কলেজে। এরপর ট্রিনিটি হলে ধর্মতত্ত্ব বিষয়ে বেশ কিছু দিন পড়াশোনা করেছেন তিনি।
এরপর তিনি ক্যামব্রিজের চার্চ অব ইংল্যান্ডে পাদ্রি হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু লিঙ্কন থিওলজিক্যাল কলেজে দুই মেয়াদে পড়াশোনার পর এ চিন্তাধারা স্থগিত করেন। এখানে ভর্তি হয়ে খ্রিস্টান পাদ্রিদের আচরণ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হন।
ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং করপোরেশন বা বিবিসির নয়া দিল্লি ব্যুরোর সাবেক প্রধান। ১৯৯৪ সালের জুলাই মাসে প্রধান পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি। এর আগে বিবিসিতে প্রায় ৩০ বছর কর্মরত ছিলেন। দিল্লি ব্যুরোর প্রধান পদে ২০ বছর দায়িত্ব পালন করেন মার্ক টালি।
‘বাংলাদেশ স্বাধীনতা যুদ্ধ সম্মাননা’ নিতে ২০১২ সালের ১৮ অক্টোবর ঢাকায় আসেন স্যার উইলিয়াম মার্ক টালি। এ ছাড়াও তিনি আরও কিছু সম্মাননায় ভূষিত হন। মার্ক টালি ১৯৮৫ সালে ওবিই পদবিতে ভূষিত হন। এরপর ১৯৯২ সালে পদ্মশ্রী পদক লাভ করেন। ২০০২ সালে নতুন বছরের সম্মাননা স্বরূপ নাইট উপাধি লাভ করেন। ২০০৫ সালে পদ্মভূষণ পদক লাভ করেন। ভারতে অবস্থান করে তিনি ১৯৮৫ সালে তার প্রথম গ্রন্থ ‘অমৃতসর : মিসেস গান্ধীজ লাস্ট ব্যাটেল’ প্রকাশ করেন। এতে তিনি তার সহকর্মী ও বিবিসি দিল্লির প্রতিনিধি সতীশ জ্যাকবকে নিয়ে এ গ্রন্থটি রচনা করেন। এ ছাড়াও ১৯৯২ সালে টালির অন্যতম সেরা গ্রন্থ ‘নো ফুল স্টপস ইন ইন্ডিয়া’ প্রকাশিত হয়।
এ ছাড়াও তিনি বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করেন। মার্ক টালি লন্ডনের ওরিয়েন্টাল ক্লাবের সদস্য।
তিনি বিবিসি-র রেডিও অনুষ্ঠানের জন্য সুপরিচিত ছিলেন এবং তার নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার জন্য বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত।









