প্রবাস সংবাদ

শরৎকালেও তীব্র গরমে পুড়ছে পর্তুগাল

শরৎকালেও তীব্র গরমে পুড়ছে পর্তুগাল

শরৎকাল শুরু হলেও গরমের দাপট কমেনি পর্তুগালে। সেপ্টেম্বরের শেষভাগে এসে যেখানে তাপমাত্রা কিছুটা কমে স্বস্তিদায়ক আবহাওয়া থাকার কথা, সেখানে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় এখনো বিরাজ করছে তীব্র গরম।

রাজধানী লিসবনসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি ছাড়িয়েছে। দেশের কিছু অভ্যন্তরীণ এলাকায় তাপমাত্রা পৌঁছেছে প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি।

অস্বাভাবিক এই গরমে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন পর্যটকরা। ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় পর্তুগালের সেপ্টেম্বরের আবহাওয়া তুলনামূলক উষ্ণ হলেও এবারের তাপমাত্রা অনেক পর্যটকের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি। দিনের বেলায় রাস্তায় বের হলে প্রচণ্ড রোদ ও গরমে হাঁটাচলা করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।

লিসবনের জনপ্রিয় পর্যটন এলাকাগুলোতে ঘুরতে আসা পর্যটকদের অনেকেই দুপুরের তীব্র রোদ এড়িয়ে সকাল ও বিকেলের সময়কে বেছে নিচ্ছেন। কেউ কেউ আবার দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে হোটেল, ক্যাফে বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্থানে অবস্থান করছেন।

কানাডা থেকে পর্তুগালে বেড়াতে আসা এনা মার্টিনা নামে এক পর্যটক বলেন, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে এসে এত গরম পাব, সেটা ভাবিনি। আমরা ভেবেছিলাম আবহাওয়া কিছুটা ঠাণ্ডা থাকবে। কিন্তু দিনের বেলায় বাইরে হাঁটতে বেশ কষ্ট হচ্ছে তীব্র গরমে পুড়ছে।

যুক্তরাজ্য থেকে আসা আরেক পর্যটক বলেন, লিসবন খুব সুন্দর শহর। কিন্তু এই গরমের কারণে দিনের বেলায় অনেকক্ষণ বাইরে থাকা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আমরা এখন সকালে শহর ঘুরছি এবং দুপুরের দিকে বিশ্রাম নিচ্ছি। আমাদের সঙ্গে হালকা পোশাক ছিল, কিন্তু এত বেশি গরম হবে তা ধারণা করিনি। নিয়মিত পানি পান করতে হচ্ছে এবং রোদ থেকে বাঁচতে ছাতা ব্যবহার করছি।

পর্তুগালের আবহাওয়া অধিদপ্তর -এর তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শুরুতেও দেশটির বিভিন্ন এলাকায় অস্বাভাবিক উচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। দেশের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়েও গেছে। আবহাওয়ার এমন পরিস্থিতিতে দিনের সবচেয়ে উষ্ণ সময়ে সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তীব্র গরমের সময় শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং দীর্ঘসময় বাইরে অবস্থানকারীদের বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। পর্যটকদেরও দুপুরের প্রচণ্ড রোদে দীর্ঘসময় হাঁটা বা শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সাধারণত সেপ্টেম্বরের শেষদিকে ইউরোপে শরৎতের আবহাওয়া অনুভূত হতে শুরু করে। কিন্তু পর্তুগালের বর্তমান পরিস্থিতিতে শরতের আমেজের বদলে এখনো গ্রীষ্মের উত্তাপই বেশি অনুভূত হচ্ছে। ফলে ছুটি কাটাতে আসা পর্যটকদের ভ্রমণ পরিকল্পনাতেও কিছুটা পরিবর্তন আনতে হচ্ছে। পর্যটননির্ভর দেশ পর্তুগালে শরৎকালেও এমন তীব্র গরম কতদিন স্থায়ী হয় এবং তাপমাত্রা কখন স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসে, এখন সেদিকেই নজর স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের।

বিষয়:তীব্র গরমে পুড়ছেপর্তুগাল আবহাওয়া অধিদপ্তরপর্যটকলিসবনশরৎতের আবহাওয়া
প্রতিবেদক

হাফিজ আল আসাদ

পর্তুগাল প্রতিনিধি

আরও →

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…