ক্রিসমাসে যীশু খ্রীষ্টের জন্মস্থান হিসেবে পরিচিত বেথেলহেম সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত থাকে। এই অঞ্চলে ‘বড়দিন’কে ঘিরে তৈরি হয় আনন্দ আর উৎসবের আমেজ। তবে ব্যতিক্রম এবারের আয়োজনে। পর্যটকহীন হয়ে পড়া স্থানটিতে নেই কোনো উৎসবের আমেজ। তাই তো ব্যবসায়ীদের মুখে এবারের বড়দিনে ‘নো ক্রিসমাস ট্রি, নো জয়’।
সোমবার ২৫ ডিসেম্বর এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, এই বছর ইসরায়েল-ফিলিস্তিনিদের চলমান সংঘাত পর্যটক এবং তীর্থযাত্রীদের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। যার ফলে হোটেল, রেস্তোঁরা এবং স্যুভেনির শপগুলো জনমানবহীন হয়ে পড়েছে।
বেথেলহেমে চার প্রচন্ম ধরে হোটেল ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া আলেক জান্ডার হোটেলের মালিক জোয়ি ক্যানাভাতি বলেন, ‘আমাদের কোনো অতিথি নেই। সম্পূর্ণ হোটেল খালি, একজন অতিথিও নেই। আজকের দিনের জন্য সবকিছু বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অথচ ক্রিসমাস ট্রি নেই, আনন্দ নেই, ক্রিসমাস স্পিরিটও নেই। বলা চলে, এটি সর্বকালের সবচেয়ে খারাপ ক্রিসমাস।’
জেরুজালেমের ঠিক দক্ষিণে অবস্থিত বেথেলহেম। স্থানীয়দের প্রধান আয়ের উৎস সারা বিশ্ব থেকে আসা দর্শকদের মাঝে হোটেল ব্যবসা এবং গাইড দেওয়া। বিশেষ করে, আজকের এই বড়দিনে যীশুর জন্মস্থান হিসেবে পরিচিত চার্চ অফ দ্য নেটিভিটি দেখতে আসেন লক্ষ লক্ষ দর্শনার্থী।
ক্যানাভাতি বলেন, ৭ অক্টোবরের আগেই তার হোটেল সম্পূর্ণভাবে বুক করা হয়েছিল। এছাড়া তিনি আশপাশের আরও বেশ কয়েকটি হোটেলে তার কাছে সাহায্য চাওয়া দর্শণার্থীদের উঠতে সাহযোগিতা করেন। কিন্তু ৭ অক্টোবর ইসরায়েল-হামাসের সংঘর্ষের পর থেকে সবাই বুকিং বাতিল করে ফেলেছে।
তিনি বলেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পরের বছরের বুকিংসহ সবাই বাতিল করেছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অনেক মেইল পেয়েছি তবে সেগুলো বুকিং এর জন্য না, সেগুলো ছিল ‘শুধু মাত্র বুকিং বাতিল, বাতিল আর বাতিলের জন্য’।
খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিন আজ (২৫ ডিসেম্বর)। সারা বিশ্বের খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষ ধর্মীয় আচার, প্রার্থনা ও আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে দিনটি উদ্যাপন করছেন। কিন্তু ভিন্ন দৃশ্য ফিলিস্তিনে। সেখানে ইসরায়েলি হামলায় ফিলিস্তিনিদের রক্তক্ষয় অব্যাহত আছে।
খ্রিষ্টধর্মের প্রবর্তক যিশুর জন্মস্থান বেথেলহেম শহর। বেথেলহেমের অবস্থান ইসরায়েল-অধিকৃত ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে। দু’হাজার বছর আগে এই দিনে বেথেলহেমের এক গোয়ালঘরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন যিশু। বেথেলহেমে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় বড়দিন পালনের দীর্ঘ ঐতিহ্য আছে। কিন্তু এবার বেথেলহেমে সেই উৎসব নেই।







