ব্যাট হাতে লিটন দাসের সময়টা একেবারেই ভালো যাচ্ছে না। তিন ফরম্যাটের ক্রিকেটে কোথাও হাসছে না তার ব্যাট। উইকেটরক্ষক-ব্যাটার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টুয়েন্টি সিরিজের শেষ দুটিতে একাদশেই জায়গা পাননি। তবুও ওপেনিং ও উইকেটরক্ষক পজিশনের জন্য ব্যাকআপ হিসেবে তাকে বিশ্বকাপে নিয়ে গেছে বাংলাদেশ। বিশ্বমঞ্চেও যে প্রত্যাশা অনুযায়ী জ্বলে ওঠে না তার ব্যাট, সে উপলব্ধি ডানহাতি ব্যাটারের মাঝেও রয়েছে।
বিশ্বকাপের আগে ক্রিকেটারদের ধারাবাহিক সাক্ষাৎকার প্রকাশ করছে বিসিবি। দলের সঙ্গে থাকা কোচ এবং খেলোয়াড়রা জানাচ্ছেন ভাবনা। মঙ্গলবার প্রকাশিত ভিডিওতে কথা বলেছেন লিটন দাস। বলেছেন, বিশ্বকাপে অতীতে নিজের ও দলের পারফরম্যান্স মোটেও সামর্থ্য অনুযায়ী ছিল না।
‘দল হিসেবে আমরা যেটা আশা করেছিলাম, ২০২১ বিশ্বকাপে সেটা করতে পারিনি। ২০২২ বিশ্বকাপ নিয়ে বলতে পারি আমরা ভিন্ন কন্ডিশনে ছিলাম। হয়তো বড় কোনো দলের সাথে ম্যাচ জিততে পারিনি। তবে খারাপও হয়নি। আর যদি আমারটা বলি, তাহলে মোটেও তা পর্যাপ্ত ছিল না। আমি যে পর্যায়ের খেলোয়াড় বা যে পারফর্ম করা আমার উচিৎ, সেটা করতে পারিনি।’
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে এবারের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজের উন্নতিতে চোখ রাখছেন লিটন। এ ব্যাপারে নিজে একটি সীমারেখাও টেনে দিয়েছেন।
‘যদি এভাবে বলি, আমি যদি আগের দুইটা বিশ্বকাপে ১০০ রান না করি এবং এই বিশ্বকাপে যদি ১০১ রান করি, তাহলে বলবো আগের চেয়ে ভালো কিছু করেছি। চেষ্টা করবো তার থেকে ভালো কিছু করার।’
২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপে অবশ্য লিটন জাত চিনিয়েছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বড় লক্ষ্য তাড়ায় তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দলের জয়ে রাখে ভূমিকা। বাইশগজে ঝড় তুলে ৬৯ বলে হার না মানা ৯৪ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। শটগুলো যেন তুলির আঁচড় দিয়ে আঁকছিল লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির ক্যানভাসের মতো। ২০২২ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ২৭ বলে ৬০ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেও আলোচিত হন। যদিও বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশকে ম্যাচটা মাত্র ৫ রানে হারতে হয়।
ইনিংস দুটি নিয়ে লিটন বলছেন, ‘চার বিশ্বকাপে খেলার মধ্যে যদি আমি বলি, তাহলে ১৯ বিশ্বকাপটা আমার জন্য বেশি স্মরণীয় হয়ে থাকবে। কারণ ওই নকটাতে বাংলাদেশ দল জিতেছিল। আরেকটু স্মরণীয় হতে পারত। আমি ২২ বিশ্বকাপে ভারতের সাথে যে ইনিংসটা খেলেছি, সেটায় যদি আমরা জয়লাভ করতে পারতাম।’
নিজের অফফর্ম নিয়ে কতটা চিন্তিত, সেটিও বেশ খোলামনেই বলেছেন ২৯ বর্ষী তারকা। অনুশীলনে মনোযোগ রেখে শান্ত মনে নিজের কাজটা ঠিকঠাক করে যাওয়ার মন্ত্রে দীক্ষিত হওয়াই একমাত্র উপায় বলে জানালেন।
‘খারাপ সময়ে আসলে বেশি চিন্তা করার কিছুই থাকে না। একটা খারাপ সময়ে যখন থাকেন, তখন যতবেশি চিন্তা করবেন, ততো আপনার জন্য খারাপই হয়ে আসবে। আপনার কাছে একটা অপশনই থাকে। কতটুক কঠোর পরিশ্রম করছেন অনুশীলনে, কতটা গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছেন, সেটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমার কাছে মনে হয়, খারাপ সময়ে যতো ঠাণ্ডা আর শান্ত থাকা যায়, যতো কম অতিরিক্ত চিন্তা করা যায়, সেটাই ভালো। শুধুমাত্র নিজের ক্রিকেটটার উপরে নজর রাখা লাগবে।’









