দেশে এখনও রঙে উচ্চ মাত্রার সীসা ব্যবহার
ইন্ডাস্ট্রিয়াল রঙে ৯৭ হাজার পিপিএম পর্যন্ত সীসার উপস্থিতি শনাক্ত

বিভিন্ন রঙের পেইন্টের ক্যানের মধ্যে সীসাযুক্ত রঙের ক্যানটি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, যা স্বাস্থ্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ
২০১৮ সালে রঙে সীসার ব্যবহারের মান বিএসটিআই ৯০ পিপিএম পর্যন্ত নির্ধারণ করে দিলেও বিভিন্ন রং উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এখনও উচ্চ মাত্রায় সীসার ব্যবহার করছে।
এই তথ্যটি উঠে এসেছে এনভায়রনমেন্ট অ্যাণ্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন-এসডোর ২০২২ সালের “লেড ইন পেইন্টসঃ অ্যা সিগনিফিক্যান্ট পাথওয়ে অফ লেড এক্সপোসার ইন বাংলাদেশ” শীর্ষক একটি গবেষণায়।
বাংলাদেশে রঙে সীসার ব্যবহার নিষিদ্ধকরণের লক্ষ্যে এবং ডেকোরেটিভ ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল রঙে পূর্বের এবং বর্তমানের সীসার মাত্রার ফলাফল তুলনা করার জন্য লাল, হলুদ এবং সোনালি হলুদ রঙের ৩৯টি জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডসহ মোট ৬৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষাকৃত নমুনাগুলির মধ্যে বিভিন্ন মাত্রার সীসার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।
পরীক্ষাকৃত নমুনাগুলোর মধ্যে ৩০.৮% ডেকোরেটিভ পেইন্টে ৯০-২৫০পিপিএম পর্যন্ত সীসার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। বাকি ৬৯.২% ডেকোরেটিভ পেইন্টে সীসার মাত্রা ছিল ৯০পিপিএম এর কম। তবে ইন্ডাস্ট্রিয়াল রঙে ভয়াবহ মাত্রায় সীসার উপস্থিতি সনাক্ত হয়েছে। মোট নমুনার ৫০% এই উচ্চ মাত্রার সীসার উপস্থিতি পাওয়া গেছে, এর মধ্যে কমলা রঙে সর্বোচ্চ ৯৭,০০০ পিপিএম পর্যন্ত সীসার মাত্রা সনাক্ত হয়েছে। “সীসামুক্ত রং এর লোগো থাকা সত্ত্বেও ইন্ডাস্ট্রিয়াল রঙে সর্বোচ্চ ৯৭,০০০ পিপিএম পর্যন্ত সীসার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। ইন্ডাস্ট্রিয়াল পেইন্টে এমন উচ্চ মাত্রায় সীসার উপস্থিতি উদ্বেগজনক।
এসডোর সিনিয়র টেকনিক্যাল এডভাইজার ও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন-বিএসটিআই-এর কেমিক্যাল বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবুল হাসেম বলেন, ‘উন্নয়নশীল দেশে সীসাযুক্ত রঙের সংস্পর্শে আসার কারণে শিশুরা আজীবন মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। রঙে সীসার ব্যবহার নিষিদ্ধ করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি’।
এসডো’র নির্বাহী পরিচালক সিদ্দীকা সুলতানা বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রায় ৩৫.৫ মিলিয়ন শিশু সীসা দূষণের শিকার। রক্তে সীসার কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই। মানব স্বাস্থ্য ও পরিবেশের উপর সীসার ক্ষতিকর প্রভাব এবং এর বিষক্রিয়া কমাতে আরো গুরুত্বসহকারে সীসার উৎস খুঁজে বের করতে হবে’।
‘এসডো’র মহাসচিব ড. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা ঘর সাজানোর জন্য ব্যবহৃত সীসাযুক্ত রঙের বিষক্রিয়ার মাধ্যমে আমাদের শিশুদের জন্য হুমকি সৃষ্টি করি। এ ধারা অব্যাহত থাকলে আমাদের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়বে। শিশুদের স্বাস্থ্যকর, নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশ প্রদান এবং নারীর স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে রঙে সীসার ব্যবহার বন্ধ করতে হবে এবং প্রচলিত আইনের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
২০০৮ সাল থেকে এসডো বাংলাদেশের বাজারে রঙে সীসার ব্যবহার মূল্যায়নের জন্য গবেষণা পরিচালনা করছে। ২০১১ সালে প্রকাশিত এসডো-এর রিপোর্ট অনুসারে,৭৭% ডেকোরেটিভ রঙের নমুনায় উচ্চ মাত্রায় সীসা পাওয়া গিয়েছিল।
এসডো্র প্রচেষ্টায় ২০১৮ সালে, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই) ইন্ডাস্ট্রিয়াল রঙে সীসা ব্যবহারের সহনশীল মাত্রা ৯০ পিপিএম নির্ধারণ করা হয়। ২০২১ সালে, বাধ্যতামূলক স্ট্যান্ডার্ডের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করার জন্য এবং রঙে সীসার উপস্থিতি মূল্যায়নের জন্য একটি গবেষণা করা হয়। উক্ত সীসাযুক্ত ডেকোরেটিভ রঙে সীসার মাত্রা কমে ৩১% হয়েছে এবং পরবর্তীতে ২০২২ সালে তা আরো কমে ১৫% এ নেমে আসে।







