‘আজকের সব ফুল সাবিনা আপার জন্য ফুটুক’
সাবিনা ইয়াসমিনকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সংগীতশিল্পী কনকচাঁপা

বাংলা গানের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিনের জন্মদিন শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর)। ১৯৫৪ সালের এই দিনে জন্ম নেওয়া এই শিল্পী ৭২ বছর পূর্ণ করে ৭৩ বছরে পা দিয়েছেন। বিশেষ এই দিনে তাকে নিয়ে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন সংগীত জগৎ থেকে গোটা সংস্কৃতি জগতের মানুষ।
কালজয়ী বহু গানের এই শিল্পীকে নিয়ে আবেগঘন একটি পোস্ট লিখেছেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা। সেখানে সাবিনা ইয়াসমিনকে শুধু একজন শিল্পী নয়, বরং একটি ‘ইনস্টিটিউট’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।
কনকচাঁপার ভাষায়, “সাবিনা ইয়াসমিন। একটি নাম, একটি ইনস্টিটিউট।” কিংবদন্তি এই শিল্পীর সংগীতজীবনের ব্যাপ্তি বোঝাতে তিনি স্মরণ করেছেন লেখক ও শিক্ষাবিদ আবদুল্লাহ আবু সাঈদের একটি পুরোনো বক্তব্য।
কনকচাঁপা লিখেছেন,“বহু বছর আগে একটি ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে আমাদের বাতিঘর আবদুল্লাহ আবু সাঈদ দর্শকদের প্রশ্ন করেছিলেন- ‘কোকিল কখন গান গায়?’ উত্তর এসেছিল, ‘বসন্তে।’ এরপর তিনি জানতে চেয়েছিলেন, ‘সারা বছর সুরে মাতিয়ে রাখে কোন পাখি?’ দর্শক উত্তর দিতে দেরি করায় তিনিই বলেছিলেন, ‘সারাবছর গানে মাতিয়ে রাখে যে পাখি তিনি আমাদের সাবিনা ইয়াসমিন’।”
সেই প্রসঙ্গ টেনে কনকচাঁপা লিখেছেন, সাবিনা ইয়াসমিন শুধু সারা বছর নন, ‘বাংলাদেশের মানুষকে সারাজীবন গানে ডুবিয়ে, ভাসিয়ে, উজ্জীবিত করে রাখলেন।’
তার মতে, সাবিনা ইয়াসমিন কোকিলের মতো গান করেন, নাকি কোকিল সাবিনা ইয়াসমিনের মতো গায়- তা গবেষণার বিষয় না হলেও পরিণত বয়সেও কীভাবে তিনি একই রকম কণ্ঠ ধরে রেখেছেন, সেটি অবশ্যই গবেষণার বিষয়।
সাবিনা ইয়াসমিনের বহুমাত্রিক সংগীত প্রতিভারও প্রশংসা করেছেন কনকচাঁপা। বাংলাদেশের গানের প্রায় সব শাখায় সমান দক্ষতায় বিচরণ করেও সাবিনা ইয়াসমিন যে উচ্চতায় পৌঁছেছেন, তা বোঝাতে তিনি তিনটি গানের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন- ‘জন্ম আমার ধন্য হলো মাগো’, ‘সব কটা জানালা খুলে দাও না’ এবং ‘একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার’।
কনকচাঁপার ভাষায়, এই তিনটি গান ছাড়া সাবিনা ইয়াসমিন আর কোনো গান না গাইলেও তিনি আজ যে ‘মধুকণ্ঠী কোকিল’ হিসেবে পরিচিত, সেই পরিচয় অটুট থাকত।
শুধু দেশাত্মবোধক গান নয়, চলচ্চিত্র, আধুনিক, লোকগীতি থেকে শুরু করে সংগীতের বিভিন্ন ধারায় সাবিনা ইয়াসমিনের দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ বিচরণ। পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে তাঁর কণ্ঠে অসংখ্য গান পেয়েছে জনপ্রিয়তা। ১৯৬৭ সালে ‘আগুন নিয়ে খেলা’ চলচ্চিত্রের ‘মধুর জোছনা দীপালি’ গান দিয়ে চলচ্চিত্রের গানে যাত্রা শুরু করেন তিনি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ১০ হাজারের বেশি গান রেকর্ড করেছেন এই শিল্পী; চলচ্চিত্রের গানের সংখ্যাও দেড় হাজারের বেশি বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়।
সাবিনা ইয়াসমিনের এই দীর্ঘ সংগীতযাত্রায় রয়েছে রাষ্ট্রীয় নানা সম্মাননাও। ১৯৮৪ সালে একুশে পদক এবং ১৯৯৬ সালে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও রেকর্ডসংখ্যকবার পেয়েছেন এই কিংবদন্তি শিল্পী।
জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে কনকচাঁপা তাঁর পোস্টের শেষাংশে লিখেছেন, ‘আজকের দিনটি একান্তই তাঁর হয়ে যাক, আজকের সব ফুল সাবিনা আপার জন্য ফুটুক।’ একই সঙ্গে তিনি সাবিনা ইয়াসমিনের সুস্থতা, আনন্দ, নিরাপত্তা, সুখ ও সমৃদ্ধির জন্য দোয়া করেছেন।
সবশেষে কনকচাঁপার ভালোবাসামাখা শুভেচ্ছা ‘শুভজীবন বাংলার গানের পাখি সাবিনা ইয়াসমিন।’







