সম্প্রতি ইংলিশ সাংবাদিক পিয়ার্স মরগানকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। কথা বলেছেন ব্যক্তিগত অনেক বিষয় এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে। জানিয়েছেন, কেন যাননি জাতীয় দল সতীর্থ অকালপ্রয়াত ডিয়েগো জোতার শেষকৃত্যে।
রোনালদো জানিয়েছেন জোতার মৃত্যু এবং শেষকৃত্যের সময় কোথায় ছিলেন তিনি। বলেছেন, বাবার মৃত্যুর পর থেকে কখনও যাননি কবরস্থানে।
শেষকৃত্যে না থাকা নিয়ে রোনালদো বলেছেন, ‘একটা কাজ আর করি না। আমার বাবা মারা যাওয়ার পর, আর কখনও কবরস্থানে যাইনি।’
‘তুমি আমাকে জানো এবং আমার খ্যাতি জানো। যেখানেই যাই, সেটা একটা সার্কাস হয়ে দাঁড়ায়। আমি বাইরে যাই না কারণ, যদি যাই, মনোযোগ আমার দিকে আসে। আমি এধরনের মনোযোগ চাই না।’
‘আরও দুটি জিনিস, মানুষ আমার অনেক সমালোচনা করে। যদিও তাতে কিছু মনে করি না। যখন তোমার বিবেক ভালো এবং স্বাধীন থাকে, তখন তোমাকে মানুষ কী বলবে তা নিয়ে চিন্তা করা উচিত নয়।’
রোনালদো সেদিন কোথায় ছিলেন? বলেছেন, ‘সেটা ছিল আমার বিশ্রামের সময়, জর্জিনার সাথে ছিলাম। সকালে জর্জিনা সাথে জিমে ছিলাম। তারা যখন মৃত্যুর সংবাদটি মেসেজে পাঠায়, বিশ্বাসই হচ্ছিল না। অনেক কেঁদেছিলাম। চাইলে এটা নিশ্চিত করতে পারেন। এটা সবার জন্য খুব কঠিন মুহূর্ত ছিল, দেশের জন্য, পরিবারের জন্য, বন্ধুদের জন্য, সতীর্থদের জন্য। খুব, খুব, খুব দুঃখজনক খবর।’
রোনালদোর বলেছেন জোতা খুব অল্প বয়েসে মারা গেছেন, কেবল ২৮ বছর বয়সে। জীবন খুবই ছোট- ‘এ কারণেই আমি আগে বলেছিলাম যে, মুহূর্তগুলো উপভোগ করতে হবে এবং ভবিষ্যতের জন্য খুব বেশি পরিকল্পনা করা যাবে না। এ কারণেই আমার ছেলেরাও নিশ্চিত যে আমি এখন কোন পরিকল্পনা করছি না। কেবল এ পরিস্থিতির কারণে।’
‘আমি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করি না, কেবল স্বল্পমেয়াদী। কারণ সবকিছু এক মুহূর্তে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই আমাদের মুহূর্তটি বেঁচে থাকতে ও জীবন উপভোগ করতে হবে। কারণ ভবিষ্যৎ কেবল এখনই।’
গত ৩ জুলাই ভোরে ২৮ বর্ষী জোতা ও তার ছোট ভাই আন্দ্রে স্পেনের জামেরা প্রদেশে প্যালাসিওস ডি সানাব্রিয়া শহরের কাছে হাইওয়েতে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন। গাড়িতে আগুন ধরে যায়, দুজনই ঘটনাস্থলে মারা যান।









