নেপালে সুড়ঙ্গের ভেতরে বহু শ্রমিক, চীন-ভারতের সহায়তায় উদ্ধার অভিযান

ছবি: সংগৃহীত
নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকা পড়া শত শত শ্রমিককে উদ্ধারে অভিযান জোরদার করেছে উদ্ধারকারী দল। এ কাজে চীন ও ভারতের বিশেষজ্ঞরাও সহায়তা করছেন।
সোমবার (৩১ আগস্ট) রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বন্যাকবলিত রাশুয়া ও নুওয়াকোট জেলায় ১১টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে ৯৩৩ শ্রমিক আটকা পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে কয়েকটি প্রকল্পের প্রায় ছয়টি সুড়ঙ্গে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নেপাল সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সুড়ঙ্গ থেকে পানি ও কাদা সরিয়ে আটকা পড়াদের কাছে পৌঁছাতে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ, খননযন্ত্র ও সার্চলাইট ব্যবহার করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দুটি সুড়ঙ্গে ঢুকে তিনটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ধ্বংসাবশেষে বেশ কিছু অংশ আটকে থাকায় উদ্ধার অভিযান কঠিন হয়ে পড়েছে।
নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেত বলেন, সুড়ঙ্গের ভেতরে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ জমে আছে। সুড়ঙ্গ খুলে আটকা পড়াদের কাছে পৌঁছানোই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য।
এদিকে নেপালি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার পর্যন্ত বন্যা ও ভূমিধসে ৯০৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ২৪৭ জন। রেড ক্রসের হিসাবে, দুর্যোগে দেশটিতে ৯০ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
গত সপ্তাহে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসের পর বরফ, পাথর, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোতে এই বিপর্যয় সৃষ্টি হয়। দুর্যোগের পর নেপাল-চীন সীমান্তে একটি হ্রদ তৈরি হওয়ায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। এ কারণে কয়েক দফা উদ্ধার অভিযান স্থগিত করতে হয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, দুর্যোগকবলিত এলাকায় কয়েকটি হিমবাহ এখনো ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ফলে নতুন ভূমিধস ও বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
চীন জানিয়েছে, নেপালে নিখোঁজদের সন্ধান ও উদ্ধারে সহায়তার পাশাপাশি সুড়ঙ্গে আটকা শ্রমিকদের উদ্ধারে বিশেষজ্ঞ পাঠানো হয়েছে। জরুরি অর্থ ও মানবিক সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ পরিস্থিতিকে ‘নজিরবিহীন ও ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।







