রাজস্ব আয়ে বিশাল ঘাটতি নিয়ে অর্থবছর শেষ করতে যাচ্ছে সরকার। চলতি বাজেট সংশোধন করে ৪ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হলেও প্রায় এক লাখ কোটি টাকা কম আদায় হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কর আওতা বাড়াতে না পারা, অযৌক্তিক লক্ষ্যমাত্রা ও অর্থপাচার কমিয়ে পাচারকারীদের কাছ থেকে কর আদায়ে ব্যর্থতায় প্রতিবছরই ঘাটতি হচ্ছে রাজস্ব আয়।
তারা বলছে, বাজেটে অর্থসংস্থান বাড়াতে বিকাশমান শিল্প থেকে কর সুবিধা প্রত্যাহার না করে দীর্ঘ সুবিধাপ্রাপ্ত খাতে কমিয়ে দেয়ার পরামর্শ অর্থনীতিবিদদের।
চলতি অর্থবছর ৫ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়া বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৪ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। পরে সংশোধন করে লক্ষ্যমাত্রা ৪ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা করা হলেও মার্চ পর্যন্ত রাজস্ব আয় হয়েছে দুই লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা। যা গত অর্থবছরের চেয়ে প্রবৃদ্ধিতে মাত্র ১৫ শতাংশের কিছু বেশি।
আসন্ন বাজেট সংকোচনশীল নীতিতে করা হবে বলা হলেও এবারও রাজস্ব আয়ের সম্ভাব্য লক্ষ্যমাত্রা হতে যাচ্ছে প্রায় ৫ লাখ কোটি টাকা। বাজেটে অর্থ সংস্থানে এবারও বড় ভরসা দেশী ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ।
বাজেটে অর্থসংস্থানে জোর আলোচনায় দেশীয় উৎপাদনশীল ও বিকাশমান খাত থেকে কর সুবিধা বাতিল।
অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ, ঢালাওভাবে সুবিধা বাতিল না করে সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধার মতো অপ্রয়োজনীয় ও দীর্ঘদিন ধরে সুবিধাপ্রাপ্ত খাত থেকে কর অব্যাহতি সুবিধা বাতিল করা।
অর্থনীতিবিদদের পর্যবেক্ষণ, উন্নয়নশীল ও বিকাশমান অর্থনীতির দেশে সরকার বাজেটে অর্থসংস্থানে ঋণের জন্য ভঙ্গুর ব্যাংক ব্যবস্থার উপর অতি নির্ভরশীল হলে বিকাশমান উৎপাদনশীল খাত বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংকটে পড়তে পারে।









