ইমরান খানের চিকিৎসার জন্য কমনওয়েলথের হস্তক্ষেপ চাইলেন লর্ড গোল্ডস্মিথ

ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের চিকিৎসা ও কারাবন্দিত্বের বিষয়ে দেশটির সরকারের ওপর হস্তক্ষেপ করতে কমনওয়েলথের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ব্রিটিশ হাউস অব লর্ডসের সদস্য ও ইমরান খানের সাবেক স্ত্রীর ভাই লর্ড জ্যাক গোল্ডস্মিথ।
২২ আগস্ট শনিবার কমনওয়েলথের মহাসচিব শার্লি আয়োরকোর বোটচওয়ের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি ইমরান খানের সঙ্গে আচরণকে কমনওয়েলথের গণতন্ত্র, মানবাধিকার, আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে উল্লেখ করেন।

চিঠিতে গোল্ডস্মিথ বলেন, ১৮ আগস্ট পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে আদিয়ালা কারাগার থেকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আদালত তার পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা পরীক্ষা এবং হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, চক্ষু বিশেষজ্ঞ, সাধারণ চিকিৎসক ও ব্যক্তিগত চিকিৎসককে নিয়ে একটি স্বাধীন মেডিকেল প্যানেলের মাধ্যমে মূল্যায়নের নির্দেশ দেন।

তবে গোল্ডস্মিথের অভিযোগ, ২০ থেকে ২১ আগস্টের রাতে ইমরান খানকে শিফা হাসপাতালে না নিয়ে সরকারি পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে (পিআইএমএস) নেওয়া হয়। সেখানে রাতে তাকে পরীক্ষা ও চিকিৎসা দেওয়ার পর ‘চিকিৎসাগতভাবে সুস্থ’ ঘোষণা করে ভোরের আগে আবার আদিয়ালা কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়। তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক তাকে দেখার সুযোগ পাননি এবং কোনো স্বাধীন মেডিকেল প্যানেলও গঠন করা হয়নি বলে চিঠিতে দাবি করা হয়।

ইমরান খানের বোন উজমা খানের বক্তব্যের বরাত দিয়ে গোল্ডস্মিথ আরও বলেন, দীর্ঘদিনের কারাবাস ও বিচ্ছিন্নতার কারণে ইমরান গুরুতর মানসিক ও শারীরিক চাপে রয়েছেন। তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন স্থানে নেওয়া, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় রাখা এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী তাকে শিফা হাসপাতালে নেওয়া হবে কি না সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য না দেওয়ার অভিযোগও চিঠিতে তুলে ধরা হয়েছে।

চিঠিতে ইমরান খানের পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগে বিধিনিষেধ, ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের প্রবেশে জটিলতা এবং তার স্বাস্থ্য ও দৃষ্টিশক্তির অবনতির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন গোল্ডস্মিথ।
তিনি কমনওয়েলথ মহাসচিবকে পাকিস্তান সরকারের কাছে বিষয়টি সর্বোচ্চ পর্যায়ে তুলে ধরার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ইমরান খানের চিকিৎসায় নিজের চিকিৎসক ও স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের নিয়মিত প্রবেশাধিকার, পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল তথ্য সরবরাহ, দীর্ঘমেয়াদি একাকিত্বের অবসান, পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং আইনজীবীদের সঙ্গে বাধাহীন সাক্ষাতের নিশ্চয়তা চেয়েছেন।
গোল্ডস্মিথ আরও বলেন, ইমরান খানের বিরুদ্ধে চলমান সব ফৌজদারি কার্যক্রমে বিচারিক স্বাধীনতা, স্বচ্ছতা ও ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এসব বিষয়ে সন্তোষজনক নিশ্চয়তা না মিললে কমনওয়েলথের পক্ষ থেকে আরও কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তা বিবেচনারও আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে ২ সেপ্টেম্বরের জবাবে কমনওয়েলথ মহাসচিব শার্লি বোটচওয়ে জানান, শাসনব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক চর্চা, মানবাধিকার ও আইনের শাসনসংক্রান্ত সব প্রতিবেদন ও চিঠিকে কমনওয়েলথ সচিবালয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। তিনি বলেন, কমনওয়েলথ সনদে থাকা নীতি ও মূল্যবোধ সমুন্নত রাখতে সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে কাজ অব্যাহত থাকবে।







