বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অবস্থান, প্রেমিক লাপাত্তা

প্রেমিকা তার বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন, বাড়ির দরজা ও দেয়াল দেখা যাচ্ছে।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে দু’দিন ধরে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছে প্রেমিকা। উপজেলার দত্তের বাজার ইউনিয়নের ডাংগিপাড়া এলাকার জব্বার মাস্টারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানিয়েছে, পারিবারিকভাবে বিষয়টি সমঝোতা করতে পারলে ভালো হয়। থানায় যদি প্রেমিকার পরিবারের কেউ লিখিত আকারে অভিযোগ করে সেক্ষেত্রে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রেমিক নাবিল (২০) ওই এলাকার মানিক মিয়ার ছেলে। প্রেমিকার নানির বাড়ি প্রেমিক নাবিলের বাড়ির পাশেই। সেই সূত্রেই তাদের পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা।
স্থানীয়রা জানান, বুধবার (১৯ মার্চ) সন্ধ্যায় প্রেমিক নাবিলের বাড়ি আসেন প্রেমিকা। এসময় পরিবারের কাছে তাদের প্রেমের সম্পর্ক ও বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নাবিল যে তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক তৈরী করেছে, এ বিষয়ে জানালে ক্ষিপ্ত হয় পরিবারের সদস্যরা। পরে জোরপূর্বক তাকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে মূল দরোজায় তালা লাগিয়ে নাবিলসহ তার পরিবারের সদস্যরা উধাও হয়ে যান।
প্রেমিকা জানান, তিন মাস আগে নাবিলের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এরপর ঘনিষ্ঠতা বাড়ে, এক পর্যায়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক তৈরী হয় বলেও অভিযোগ করেন প্রেমিকা।
তিনি বলেন, নাবিল আমাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো। শারীরিক সম্পর্ক তৈরীর কথা বললে আমি বলেছি বিয়ের আগে সম্ভব নয়। কিন্তু সে বলেছিলো তার পরিবারকে রাজি করাবে। তার এমন প্রতারণার ফাঁদে পা দিয়ে আমি সব হারিয়ে এখন তার বাড়ির সামনে বসে আছি। অপরাধী না হলে আমাকে দেখে পরিবারসহ সবাই কেন পালিয়ে গেল?
প্রেমিক নাবিলের মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার কল করলেও তিনি জবাব দেননি। তার বাবা মানিক মিয়ার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। স্থানীয়রা বলছেন, এমন ঘটনার মুখোমুখি এরআগে তারা হননি। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলার হস্তক্ষেপে এই ঘটনার দ্রুত সমাধান চান।
প্রেমিকার তরফ থেকে উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় পাগলা থানায় মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে পাগলা থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) শরীফুল ইসলাম চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ৯৯৯ এ কল পেয়ে আমরা বিষয়টি খোঁজ খবর নেই। ছেলের পরিবারের কেউই বাড়িতে নেই। আমরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি।
পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আলম চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ওই নারীর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত আকারে অভিযোগ পেলে পুলিশ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এদিকে রাজধানীতে সংশোধিত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের সাজা সাত বছর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
তিনি বলেন, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ মামলাগুলোর ক্ষেত্রেও অনেকগুলো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে আগের আইন থেকে একটু নতুন সেকশন নিয়ে এসে আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি সাত বছর করা হয়েছে। সেটার ক্ষেত্রে আরও যা যা পদক্ষেপ নেওয়া যায়, সেগুলোর ব্যবস্থাও করা হয়েছে।







