ট্রাম্পের নাগরিকত্ব আদেশে ফেডারেল আদালতের স্থগিতাদেশ

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সুযোগ সীমিত করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়নে স্থগিতাদেশ দিয়েছেন ফেডারেল আদালত।
বৃহস্পতিবার ৩ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এ তথ্যটি জানায়।
বুধবার মেরিল্যান্ডের গ্রিনবেল্টের ফেডারেল জেলা আদালতের বিচারক ডেবোরা বোর্ডম্যান ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন আদেশ কার্যকরের ওপর প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। অভিবাসন অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এ আদেশ দেন।
এর আগে ট্রাম্প প্রশাসনের ২০২৫ সালের প্রথম নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধেও একই বিচারক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন। ওই আদেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া এমন শিশুদের নাগরিকত্বের অধিকার সীমিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল, যাদের বাবা-মা কেউই মার্কিন নাগরিক বা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা অর্থাৎ গ্রিন কার্ডধারী নন।
গত ৩০ জুন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের ওই উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করে। আদালত জানায়, মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর নাগরিকত্ব ধারা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া এবং দেশটির এখতিয়ারের অধীন ব্যক্তিরা নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার রাখেন।
এরপর গত ৬ আগস্ট ট্রাম্প নতুন একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন। এতে বিশেষভাবে ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা সন্তান জন্ম দেওয়ার মাধ্যমে শিশুকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব দেওয়ার উদ্দেশ্যে নারীদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের বিষয়টি লক্ষ্য করা হয়।
নতুন আদেশে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত কোনো বিদেশি সরকারের কর্মকর্তা-কর্মচারীর সন্তান, নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য প্রতারণা বা বাণিজ্যিক লেনদেনে জড়িত বাবা-মায়ের সন্তান এবং ‘শত্রু বিদেশি’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ ব্যক্তিদের সন্তানরাও জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত হতে পারে।
নতুন আদেশের পর অভিবাসন অধিকার সংগঠন সিএএসএ এবং এসাইলাম সিকার এডভোকেসি প্রজেক্ট আদালতে মামলা করে। সংগঠন দুটি এমন শিশুদের পক্ষে আইনি লড়াই করছে, যারা ট্রাম্পের ২০২৫ সালের আদেশ কার্যকর হলে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে।
শুক্রবারের শুনানিতে বিচারক বোর্ডম্যান তাৎক্ষণিকভাবে নতুন আদেশ স্থগিত করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। তবে আদেশটির বিষয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেন এবং এটিকে ‘নজিরবিহীন’ বলে উল্লেখ করেন। পরে বাদীপক্ষকে তাদের মামলা সংশোধনের সুযোগ দেন, যাতে নতুন আদেশের কার্যকারিতা ঠেকানোর বিষয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
অন্যদিকে, মার্কিন বিচার বিভাগের আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দেন, নতুন আদেশটি আগের আদেশের তুলনায় অনেক বেশি সীমিত হওয়ায় এ ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা উচিত নয়। তাদের দাবি, মামলাটিও এখনো সময়ের আগেই করা হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, নতুন আদেশ কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ফেডারেল সংস্থাগুলো এখনো প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রকাশ করেনি। আগামী ৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এসব নির্দেশনা প্রকাশের কথা রয়েছে। তাই এর আগে নতুন আদেশের বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ করা উচিত নয় বলে যুক্তি দেয় ট্রাম্প প্রশাসন।







