অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশে হিন্দু-বিরোধী কোনো সহিংসতা নেই। ভারতে পলাত শেখ হাসিনাকে ফেরত আনা বিষয়েও কথা বলেছেন তিনি।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) সাইডলাইনে জেটিওর জন্য সাংবাদিক মেহেদী হাসানের সাথে এক সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক ইউনূস এই দাবিগুলোকে ভুল তথ্য হিসেবে উড়িয়ে দিয়ে আরও বলেন, এখন ভারতের অন্যতম বিশেষত্ব হলো ভুয়া খবর।
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কী বলেছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে ড. ইউনূস বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে আমি নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে কথা বলেছি। তারা আসলে তাকে (শেখ হাসিনা) রাখতে চান। আমি বলেছি, আমরা আপনাকে বলতে পারব না কী করবেন। তবে খেয়াল রাখবেন যেন তিনি (শেখ হাসিনা) আমাদের নিয়ে কিছু না বলেন, বাংলাদেশের মানুষকে নিয়ে কিছু না বলেন। তিনি (নরেন্দ্র মোদি) বললেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আমি নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না।’
ড. ইউনূস আরও বলেন, ‘তারা (ভারত) বরাবরই তাকে (শেখ হাসিনা) সমর্থন করেছে। তাদের (ভারত) এখনো আশা করছে, তিনি (শেখ হাসিনা) বাংলাদেশে ফিরে আসবেন পূর্ণ গৌরবে, বিজয়ী নেত্রী হিসেবে।’
২০২৪ সালের জুলাইয়ের বিদ্রোহে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ইউনূস বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হন। ড. ইউনূস জানান, অনিচ্ছা সত্ত্বেও তা মেনে নিয়েছিলেন তিনি। সে সময় আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেছিলেন, আপনারা যদি এত কিছু ত্যাগ করতে পারেন, তবে আমি আমার সিদ্ধান্ত বদলাব।
মেহেদী হাসান প্রশ্ন করেন, কেন বাংলাদেশে নির্বাচন আয়োজন করতে ১৮ মাস সময় লাগছে? জবাবে ড. ইউনূস বাংলাদেশের মানুষের বিভিন্ন ধরনের দাবির কথা উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ‘কেউ এখনই নির্বাচন চায়, আবার কেউ চায় অন্তর্বর্তী সরকার আরও পাঁচ বছর থাকুক। আমাদের অন্তর্বর্তী সরকারের তিনটি প্রধান দায়িত্ব রয়েছে: সংস্কার, বিচার এবং নির্বাচন।’
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান আরও উল্লেখ করেন, অন্য দুই দায়িত্ব সময়সাপেক্ষ হওয়ায় নির্বাচন আয়োজন করতে ১৮ মাস লাগছে।









