ভারতে জ্বালানি শিল্পের মূল ভূমিকায় ‘গোবর’

নারীরা গোবর থেকে জ্বালানি তৈরির জন্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছেন, চারপাশে সবুজ গাছপালা দেখা যাচ্ছে।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ
জ্বালানি অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় এর বিকল্প হিসেবে বায়োগ্যাস ব্যবহার প্রসারিত হয়েছে ভারতজুড়ে। এই বায়োগ্যাসের জন্য প্রয়োজন গোবর এবং স্থান। আর এই দুটি ভারত অপ্রতুল। আর তাইতো বলা হচ্ছে, জ্বালানি শিল্পে ভারতের মূল ভূমিকায় এখন গোবর।
মঙ্গলবার (১৪ মে) ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর-পশ্চিম ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের একটি গ্রামে একটি ছোট আশ্রম পরিচালনায় ব্যবহার হচ্ছে বায়োগ্যাস। সেখানে রুক্মিনি বাবুরাও কুম্ভার নামের এক কর্মী প্রতিদিন ৫০ কেজি তাজা গোবর সংগ্রহ করেন।
রুক্মিনি বাবুরাও বলেন, প্রাথমিকভাবে আপনার মনে হতে পারে জায়গাটি পরিপাটি রাখার জন্য গোবর সংগ্রহ করছি। না বিষয়টি এমন নয়। মূলত, বায়োমিথেন তৈরিতে গোবর ব্যবহার করা হয় বলে এটি সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, জ্বালানি অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। এর ভালো বিকল্প হিসেবে বায়োগ্যাস ব্যবহার হতে পারে। আর এটি তৈরিতে প্রয়োজন গরু এবং স্থান। যার দুটি-ই আমাদের আশ্রমের ছিল। প্রথমে এই গোবর সংগ্রহ করে এর সাথে পানি মিশাতে হয়। পরে বায়োরিয়েক্টর নামক যন্ত্রে রাখা হয়। আর সেখান থেকে রান্নাঘরের জন্য যথেষ্ট মিথেন তৈরি হয়।
তিনি আরও বলেন, মার্চ মাসে এখান থেকে ২০ লিটার প্রাকৃতিক গ্যাস প্রতিস্থাপন হয়েছে। যদি বিকল্প হিসেবে এটি ব্যবহার না হতো, তাহলে আমাকে এটি প্রতি মাসে ক্রয় করতে হতো। যদিও এর জন্য গোবর সংগ্রহ করা একটু কঠিন, তবে জ্বালানির খরচের কাছে এই হিসাব বেশি নয়।
রুক্মিনি বলেন, ভারতের বেশিরভাগ গ্রামীণ অংশে কৃষিই প্রধান পেশা। তাই গোবর স্পর্শ কিংবা সংগ্রহ করা বড় ব্যাপার নয়। যদিও অতিথিদের কেউ কেউ প্রথম দিকে এটি অপছন্দ করে না।
তিনি বলেন, বিশেষ করে শহর থেকে কিছু মহিলা যারা আমাদের সাথে থাকতে আসে তারা গন্ধে একটু অস্বস্তি অনুভব করে। কিন্তু আমরা তাদের জোর করি না। তবে শেষ পর্যন্ত তারা অভ্যস্ত হয়ে যায় এবং তারা আমাদের এই কাজে সাহায্য করতে শুরু করে।
সরকারের নীতি আয়োগের তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় গবাদি পশু প্রতিদিন প্রায় তিন মিলিয়ন টন গোবর উৎপন্ন করে। সরকার চায় সেই গোবর এবং অন্যান্য কৃষি বর্জ্য মিথেনে তৈরি হোক।
এই মুহূর্তে, ভারত তার প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদার প্রায় অর্ধেক আমদানি করে থাকে। যার অর্থ দেশি মুদ্রা বিদেশে চলে যাচ্ছে। আর এই টাকা সরকার স্বদেশে ব্যয় করতে চায়। এছাড়াও অর্থনীতির বৃদ্ধির সাথে সাথে ভারতে জ্বালানি চাহিদাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুতরাং বায়োগ্যাসের বিকল্প নেয় বলেও মন্তব্য করছেন নীতিনির্ধারকরা।
বায়োগ্যাস শিল্পকে উৎসাহিত করার জন্য ২০২৫ সাল থেকে সরকার গ্যাস সরবরাহকারীদের এক শতাংশ বায়োমিথেনের সাথে প্রাকৃতিক গ্যাস মিশ্রিত করার নির্দেশ দিয়েছে। আর এটি ২০২৮ সালের মধ্যে বেড়ে ৫ শতাংশ করা হবে।
ভারতের গ্যাস আমদানি কমানোর পাশাপাশি, বায়োগ্যাস বায়ু দূষণও কমাতে পারে, কারণ আগে যে খড় পোড়ানো হয়েছিল, তার পরিবর্তে বায়োরিয়াক্টরে পাঠানো যেতে পারে।







