চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় এসএন কর্পোরেশনের মালিকানাধীন নামরিন শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে মারাত্মক বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৩৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে তিন মাসের জন্য সব ইয়ার্ডের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে তদন্ত কমিটি।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের এক নির্দেশনায় জরিমানা ছাড়াও নিহতদের প্রতি পরিবারে মোট ৭ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ারও নির্দেশনা দেয়া হয়। এটি শিপ ব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইক্লিং রুলস, ২০১১ এর ধারা ৪৫.৩ এর অধীনে ৫ লাখ টাকা এবং শ্রম আইনের বিধান অনুযায়ী অতিরিক্ত ২ লাখ টাকা নির্ধারিত আছে।
একইসঙ্গে আহত শ্রমিকদের ১২ মাসের বেতনের সঙ্গে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং তাদের চিকিৎসা সংক্রান্ত সমস্ত চিকিৎসা ব্যয় ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষকে সম্পূর্ণভাবে বহন করতে হবে। জরিমানা এবং নির্দেশাবলী গত ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখের একটি চিঠিতে জারি করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ৭ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের তেতুলতলা সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় অবস্থিত এসএন করপোরেশন গ্রীণ (সবুজ সনদপ্রাপ্ত) শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। প্রায় ভেঙে পড়া একটি ট্যাঙ্কার জাহাজ কাটার কাজ চলমান ছিল শিপ ইয়ার্ডটিতে। ইঞ্জিনরুম ও পাম্প রুমে একইসঙ্গে বিপজ্জনক কাটিংয়ের হট ওয়ার্ক করা হচ্ছিল সেদিন। মূলত ইঞ্জিনরুম থেকেই ভয়াবহ বিস্ফোরণের সূত্রপাত হয়৷
ওইদিন জাহাজটিতে মোট ১৬-১৭ জন জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত থাকলেও দগ্ধ হন ১৪ হন। এর মধ্যে ৮ জন গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন৷ তাদের শরীরের শ্বাসনালীসহ ৮০-৯০ শতাংশ পুড়ে গেছে। ওই ৮ জনকে ঢাকায় নেওয়া হয় এবং বাকি চারজনকে সিএমসিএইচে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
গত ৯ সেপ্টেম্বর শিল্প মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা এস এন করপোরেশন শিপ ইয়ার্ড পরিদর্শন করেন। পরদিন ১০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা ইয়ার্ড পরিদর্শন করেন। এর আগে ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শিল্প মন্ত্রণালায় এসএন কর্পোরেশনের সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। পরের দিন পরিবেশ অধিদপ্তর ইয়ার্ডটির পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং জাহাজের কাটিংয়ের অনুমতি স্থগিত করে।









