ফেনীর ছাগলনাইয়ায় বোনকে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় ভাই রবিউল হক সাঈদ (২২) কে ছুরিকাঘাতে হত্যা মামলায় একজন আসামীর ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর ও বাকি ৯ আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
শনিবার ১ জুলাই বিকেলে রবিউল হক সাঈদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত ১০ জন আসামিকে ফেনী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অপরাজিতা দাশ-এর আদালতে তোলে এক নাম্বার আসামী রফিকুল ইসলামকে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। বাকি ৯ জন আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ ও স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, ঈদের পরদিন শুক্রবার ৩০ জুন বিকেলে ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নে রবিউল হক সাঈদ তার বোনকে নিয়ে উপজেলার পর্যটন স্পট এককুইল্লা দিঘী নামক স্থানে বেড়াতে যায়। ওই সময় চম্পকনগর এলাকায় বখাটেরা তার বোনকে নিয়ে আজেবাজে কথা বললে তর্ক-বিতর্ক হয়। বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য সজিবকে জানালে তিনি বাজারে এলে মীমাংসা করে দিবেন বলে জানান। রবিউল হক সাঈদ মীমাংসার জন্য বাজারে গেলে সিএনজি থেকে নামার সাথে সাথে বখাটেরা তাকে ঘেরাও করে এলোপাথাড়ি ছুরিকাঘাত করে। এ সময় সে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে উদ্ধার করে ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। স্থানীয় লোকজন বখাটেদের আটক করে স্থানীয় চেয়ারম্যানের অফিসে নিয়ে তালাবদ্ধ করে রাখেন। রবিউল হক সাঈদ ছাগলনাইয়া উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের পূর্ব জয়পুর গ্রামের মানিক মিয়ার ছেলে।
খবর পেয়ে পুলিশ ও র্যাব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ১০ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় নিহতের মা বিবি মরিয়ম (৪৮) বাদি হয়ে ছাগলনাইয়া থানায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত ৫-৬ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
আটক আসামিরা হলো— নেত্রকোনা জেলার কাঠপুরা (বনগাঁও) গ্রামের (চম্পকনগর তার শ্বশুর বাড়ি) রফিকুল ইসলাম (২২), ছাগলনাইয়া উপজেলার চম্পকনগর গ্রামের বেলাল হোসেন শুভ (২২), রুবায়েত হোসেন রাফি (১৯), শেফাউল করিম রিহান (২২), গোফরান উদ্দিন (৩০), মেহেরাব হোসেন সায়েম (১৮), নাসির উদ্দিন (৪২), আশরাফুল ইসলাম রাকিব (২১), ইকবাল হোসেন সাব্বির (২৫) ও নোয়াখালী জেলার চরজব্বর এলাকার উত্তর বাঘা (সমিতি বাজার) মোঃ ইমাম হোসেন (২২)। এছাড়া চম্পকনগর গ্রামের (নানার বাড়ী) মোঃ নয়ন (২০) মোঃ শাকিল (২০) সহ আরো অজ্ঞাত ৫-৬ জন আসামি পলাতক রয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ছাগলনাইয়া থানার এসআই শাখাওয়াত হোসেন বলেন, এজাহার নামিয় ও অজ্ঞাত বাকি আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।







