বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ‘রেসপনসিবল এআই সামিট ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর মিরপুর সেনানিবাসে অবস্থিত মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে (এমআইএসটি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের তত্ত্বাবধানে দিনব্যাপী এ সামিট সফলভাবে আয়োজন করা হয়। দায়িত্বশীল ও নৈতিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চর্চায় এটি দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ। অনুষ্ঠানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন এমআইএসটির কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মোহাম্মদ নাসিম পারভেজ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এমআইএসটির সিএসই বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ শাহজাহান মজিব।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শারমীন এস মুরশিদ বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে শিল্পখাতের টেকসই বিকাশ এবং কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নে দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ন্যায়সংগত, স্বচ্ছ ও মানবকেন্দ্রিক এআই ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
এমআইএসটির কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মোহাম্মদ নাসিম পারভেজ বলেন, শিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি উন্নয়নে এমআইএসটি ভবিষ্যতেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।
সামিটে মূল বক্তব্য প্রদান করেন নর্থইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ও হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির বার্কম্যান ক্লেইন সেন্টারের ফেলো ড. উপোল এহসান। হিউম্যান-সেন্টার্ড এক্সপ্লেনেবল এআই (HCXAI) গবেষণায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এই গবেষক ‘দেশে তৈরি, আমদানি নয়: বাংলাদেশে দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ শীর্ষক বক্তব্যে দেশের বাস্তবতা ও প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দেশীয় এআই সমাধান তৈরির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
সামিটে একাডেমিয়া, শিল্পখাত ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে দায়িত্বশীল এআই নিয়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রথম প্যানেল আলোচনায় ‘বাংলাদেশের জন্য এবং বাংলাদেশ দ্বারা রেসপনসিবল এআই গঠনে একাডেমিয়ার ভূমিকা’ বিষয়ে আলোচনা করেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক ড. এস এম তাইয়াবুল হক, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. নোভা আহমেদ এবং এমআইএসটির সহযোগী অধ্যাপক ড. কাজী নূর-ই-আলম সিদ্দিকী। সেশনটি সঞ্চালনা করেন ড. উপোল এহসান। আলোচনায় উন্নয়নশীল দেশে দায়িত্বশীল এআই ব্যবহারে শিক্ষাবিদদের ভূমিকা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরা হয়।
দ্বিতীয় প্যানেল আলোচনায় ‘শিল্পখাত ও নীতিমালা প্রণয়নে দায়িত্বশীল এআই’ বিষয়ে আলোচনা হয়। এই অধিবেশনে সেশন চেয়ার ও কো-চেয়ার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শারমীন এস মুরশিদ এবং মেজর জেনারেল মোহাম্মদ নাসিম পারভেজ। প্যানেলটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন ড. উপোল এহসান ও বন্ডস্টাইন টেকনোলজিস-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর শাহরুখ ইসলাম।
এ প্যানেলে অংশগ্রহণ করেন ইউওয়াই সিস্টেমস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা আনোয়ার রহমান, আইসিটি বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব আরাফাত মোহাম্মদ নোমান এবং গ্রাফিকপিপল ও সফটওয়্যারপিপল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইমতিয়াজ ইলাহী। বক্তারা শিল্পখাতে এআই ব্যবহারে ন্যায্যতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব দেন।
সামিটের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের নিয়ে পোস্টার উপস্থাপনা ও প্রজেক্ট প্রদর্শনী প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে এমআইএসটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, বিইউপি, আইইউটি-সহ দেশের ১২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। প্রজেক্ট প্রেজেন্টেশন ও পোস্টার প্রদর্শনী—উভয় ক্যাটাগরিতে সেরা চারটি দলকে পুরস্কৃত করা হয়।
আয়োজকদের মতে, এই সামিট বাংলাদেশের দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চর্চা ও নীতিনির্ধারণে একটি শক্ত ভিত্তি গড়ে তুলবে এবং ভবিষ্যতে গবেষণা ও শিল্পখাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।









