নিজ দেশে বৃষ্টির শঙ্কা থাকায় ইংল্যান্ডের চেমসফোর্ডকে হোম ভেন্যু বানিয়ে আয়ারল্যান্ড চেয়েছিল সিরিজটা সুন্দরভাবে শেষ করতে। কিন্তু শুরুতেই ঘটল বিপত্তি। যে বৃষ্টির ভয়ে এতটা দূরে আসা, সেটিই অবিরাম ঝরল মাঠে। মাঝমাঠ ভিজে পানি গড়িয়ে পুরো আউটফিল্ড প্লাবিত হওয়ায় পরিত্যক্ত হয়ে গেল বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ডের প্রথম ওয়ানডে।
বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায় ম্যাচ বাতিলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে। আগামী শুক্রবার একই মাঠে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ।
আর ৩.৩ ওভার খেলা হলেই ফলাফল হতো ম্যাচের। যতক্ষণ খেলা হয়েছে তাতে বাংলাদেশ অনেকটা এগিয়ে ছিল। ম্যাচের যে গতিপথ ছিল, বৃষ্টিটা আরেকটু পর এলেই জিতে যেতেন সাকিব-তামিম। পেতেন প্রত্যাশিত ২ পয়েন্ট। আক্ষেপে পোড়ার মতোই ব্যাপার বাংলাদেশের জন্য।
বাংলাদেশের দেয়া ২৪৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ১৬.৩ ওভারে তিন উইকেট হারিয়ে ৬৫ রান তোলে আইরিশ দলটি। ওয়ানডের নিয়ম অনুযায়ী পরে ব্যাট করতে নামা দল ২০ ওভার খেলার পর যদি বৃষ্টিতে আর ম্যাচ চালানোর সুযোগ না থাকে, তাহলে ডাকওয়ার্থ ও লুইস মেথড অনুযায়ী ফল বের করা হয়। যে পর্যন্ত খেলা হয়েছে সেখানে অনেকটা এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। আর ৩.৩ ওভার পর খেলা বন্ধ হলেই জিততো টিম টাইগার্স।
২৪৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শরিফুল ইসলাম ও হাসান মাহমুদের জোড়া আঘাতে হোঁচট খায় আইরিশ বাহিনী। চতুর্থ ওভারে প্রথম আঘাত হানেন পেসার শরিফুল। ওপেনার পল স্টার্লিংকে মিরাজের হাতে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন। আউট হওয়ার আগে ১০ বলে ১৫ রান করেন।
পরের ওভারেই অ্যান্ড্রু ব্যালবির্নেকে বোল্ড করেন পেসার হাসান মাহমুদ। আয়ারল্যান্ড অধিনায়ক ৯ বল খেলে করেন ৫ রান। এরপর হ্যারি টেক্টর ও স্টিফেন ডোহেনি ছোট জুটি গড়ে তোলেন। ১৬তম ওভারে এসে ওই জুটি ভেঙ্গে দেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম। ডোহেনি আউট হন ১৭ রানে। এরপর এসেক্সের মাঠটিতে হানা দেয় বৃষ্টি। আবহাওয়ার পূর্বাভাসেও ম্যাচ ঘিরে ছিল বৃষ্টির শঙ্কা। হয়েছে সেটিই। ফল আসেনি ম্যাচে।
লিটন দাসের গোল্ডেন ডাকের পর তামিম ইকবাল বাজে শটে আউট হন শুরুতে। শুরুতেই বিপর্যস্ত বাংলাদেশ দল হালে পানি পায় নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিমের লড়াইয়ে। তবুও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে আড়াইশ পেরোনো সংগ্রহ পায়নি বাংলাদেশ। চেমসফোর্ডে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৫০ ওভারে সফরকারীরা ৯ উইকেটে তোলে ২৪৬ রান।
বাংলাদেশকে আড়াইশর মধ্যে আটকে ফেলার পেছনে বড় অবদান জস লিটলের। তিনি নেন তিনটি উইকেট। গ্রাহাম হিউম ও মার্ক অ্যাডাইর নেন দুটি করে উইকেট।








