চেন্নাইয়ের একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে গিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন সদ্য ক্রিকেটকে বিদায় বলে দেয়া রবিচন্দ্রন অশ্বিন। সেখানে তিনি বলেছেন, ‘হিন্দি ভারতের শুধু সরকারি ভাষা, রাষ্ট্রভাষা নয়।’
২০১১ সালের আদমশুমারির তথ্য অনুযায়ী, বহু ভাষাভাষীদের দেশ ভারতের ৪৩.৬৩ শতাংশ মানুষের মাতৃভাষা হিন্দি। তবে তামিলনাড়ুসহ বিভিন্ন রাজ্যের রাজনৈতিক দলগুলোর পুরনো অভিযোগ হলো, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার জোর করে হিন্দি ভাষা চাপিয়ে দিতে চায়। ২০১৯ সালে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ‘এক দেশ, এক ভাষা’র কথা বলায় তীব্র প্রতিবাদ হয়েছিল। এবার তাতে ঘি ঢাললেন অশ্বিন।
কলেজের অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অশ্বিন বলেন, ‘কেউ যদি ইংরাজি বা তামিল ভাষায় স্বচ্ছন্দ না হন, তাহলে হিন্দিতে প্রশ্ন করতে পারেন।’ তারকা ক্রিকেটারের মুখে এমন কথা শুনে খানিকটা স্তব্ধ হয়ে যায় অনুষ্ঠানস্থল। সেটা খেয়াল করে অশ্বিন স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমার মনে হয় এটা বলা উচিত। হিন্দি কিন্তু আমাদের জাতীয় ভাষা নয়। এটা আমাদের কাজের ভাষা।’
কলেজের অনুষ্ঠানে কথা বলার জন্য মঞ্চে উঠে অশ্বিন প্রথমে জেনে নেন, উপস্থিত শ্রোতাদের মধ্যে কত জন ইংরেজি, তামিল এবং হিন্দি জানেন। তিনি জিজ্ঞেস করেন, ‘এখানে ইংরেজি কত জন বোঝে?’
কলেজের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বেশিরভাগ চিৎকার করে জানান যে তারা ইংরেজি বোঝেন। এরপর তিনি তামিল নিয়ে প্রশ্ন করেন। সেখানেও ভালই সাড়া পাওয়া যায়। সব শেষে অশ্বিন বলেন, ‘হিন্দি কত জন বোঝে?’ এবার কলেজের ছাত্রছাত্রীদের চিৎকারের আওয়াজটা অনেকটাই কম হয়। তার পরেই অশ্বিন বলেন, ‘হিন্দি আমাদের সরকারি ভাষা, রাষ্ট্রভাষা নয়।’









