বিচার প্রার্থীরা যাতে দ্রুত ন্যায় বিচার পায়, সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহবান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট দিবস’ উপলক্ষ্যে সর্বোচ্চ আদালতের ইনার গার্ডেনে আলোচনা অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান । এছাড়া মামলা নিষ্পত্তির পর রায়ের কপির জন্যও যাতে বিচারালয়ের বারান্দায় ঘুরতে না হয়, সে ব্যাপারে সবাইকে যত্নবান হওয়ারও পরামর্শ দেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি বিচারিক কর্মকান্ডে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার মামলা নিষ্পত্তিতে যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে উল্লেখ করে বলেন, “আমি আশা করব, এখন থেকে ‘জাষ্টিস ডিলেইড, জাষ্টিস ডিনায়েড’ প্রবাদটি আমাদের বিচার বিভাগে উদাহরণ হিসেবে আর ব্যবহৃত হবে না।”
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ন্যায় বিচার প্রাপ্তিতে ও জনগণের আশা-আকাঙ্খা পূরণের মাধ্যমে ত্রিশ লাখ শহিদের রক্তে লেখা সংবিধানের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করবেন। অমর শহিদের রক্তে লেখা এই সংবিধান রাষ্ট্র পরিচালনা ও বাঙ্গালির অধিকার আদায়ের যেমন অনন্য দলিল, তেমনি বিশ্বের নিপীড়িত-নির্যাতিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায়ও অনুপ্রেরণার উৎস হিসাবে মুক্তির পথ দেখাবে।

আইনজীবীগণ বিচার ব্যবস্থার একটি অপরিহার্য অংশ উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্টের সাবেক এই আইনজীবী বলেন, “আইনজীবীদের সহায়তা ছাড়া বিচারের কাজ কিছুতেই অগ্রসর হতে পারে না। বিচার কাজে বেঞ্চ ও বারের মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা খুবই জরুরি।” আইন, নির্বাহী ও বিচার- রাষ্ট্রের এই তিন অঙ্গের মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা রাষ্ট্র পরিচালনায় খুবই অপরিহার্য।
সুপ্রিম কোর্ট হচ্ছে সাধারণ মানুষের শেষ আশ্রয় উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের ভরসার এবং জাতির গৌরবের প্রতীক হলো সুপ্রিম কোর্ট। এই সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের রক্ষক এবং চূড়ান্ত ব্যাখ্যা প্রদানকারী। এই গুরুদায়িত্ব পালন করতে হবে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে।
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বিজয়ের এক বছরের মধ্যেই জাতিকে তিনি উপহার দিয়েছিলেন বিশ্বের অন্যতম সেরা একটি সংবিধান, যেটা বিশ্ব গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটি বিরল ও অবিস্মরণীয় ঘটনা। সুপ্রিম কোর্ট তার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই মানবাধিকার রক্ষা, ন্যায়বিচার নিশ্চিতের পাশাপাশি শান্তি ও সঙ্কটে অভিভাবক ও রক্ষক হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক যে কোনো আইন বাতিলের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট সবসময় বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের অর্জনগুলো তুলে ধরে বলেন- বিগত ৫১ বছরে এই বিচারালয় বহু মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির আনন্দে অশ্রুসিক্ত হয়েছে, অতল সংকটকালে বাংলাদেশ পেয়েছে সঠিক পথনির্দেশ।
এসময় প্রধান বিচারপতি বিচার বিভাগের জন্য একটি দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নের ঘোষণা ও ঘোষণা বাস্তবায়নের পদক্ষেপ হিসেবে বিভিন্ন মতবিনিময় সভার আয়োজনের কথা উল্লেখ করে বলেন- দুর্নীতি নির্মূল, বিচার ব্যবস্থায় গতিশীলতা আনয়ন, গবেষণামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ, বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেশাগত মান উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় ভৌত অবকাঠামো নির্মাণে আমরা প্রাথমিকভাবে জোরারোপ করছি। তিনি বিপুল সংখ্যক মামলা নিষ্পত্তিতে বিচার বিভাগের সক্ষমতা সংকুচিত হওয়া এবং এ সমস্যা সমাধানের জন্য পর্যাপ্ত বিচারক নিয়োগ দেওয়ার পাশাপাশি বড় ধরনের আইনি সংস্কারের গুরুত্বের কথা ব্যক্ত করেন।
আজকের অনুষ্ঠানে আইন মন্ত্রী আনিসুল হক, অ্যাটর্নি জেনারেল আবু মোহাম্মদ আমিন উদ্দিন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি মোঃ মোমতাজ উদ্দিন ফকির এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট জাজেস কমিটির সভাপতি ও আপিল বিভাগের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম বক্তব্য রাখেন।








