পুরস্কার ঘোষণার মধ্য দিয়ে রবিবার সন্ধ্যায় পর্দা নামে দেশের সবচেয়ে বড় চলচ্চিত্র আয়োজন ‘২৪তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব’। নয় দিনের এই উৎসবে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৯১টি দেশের ২৪৫টি পূর্ণদৈর্ঘ্য, স্বল্পদৈর্ঘ্য ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। সমাপনী দিনে জাতীয় জাদুঘরের মূল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান।
এবারের উৎসবে ‘বাংলাদেশ প্যানোরামা’ বিভাগের পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র শাখায় ফিপ্রেস্কি জুরি বেস্ট ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড অর্জন করে আকাশ হক পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র সমালোচকদের সংগঠন ফিপ্রেস্কি প্রদত্ত এই পুরস্কারকে বিশ্ব চলচ্চিত্রাঙ্গনে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
পুরস্কার পাওয়ার পর সোমবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে অনুভূতি প্রকাশ করেন নির্মাতা আকাশ হক। তিনি লেখেন, ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’–এর জন্য ফিপ্রেস্কি পুরস্কার পাওয়া তাদের জন্য সম্মানের। ১৯৩০ সাল থেকে কান, বার্লিন ও ভেনিসসহ বিশ্বের প্রায় ৭০টির বেশি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে এই পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে, যা নতুন ও ব্যতিক্রমী ধারার চলচ্চিত্রকে উৎসাহিত করে।
তবে পোস্টে নির্মাতা স্পষ্ট করে জানান, শিল্পের কোনো নির্দিষ্ট মাপকাঠি নেই। এই স্বীকৃতি ভবিষ্যতে আরও ভালোভাবে কাজ করার জন্য দলটিকে নতুন সুযোগ ও স্পৃহা জোগাবে- এটাই তাঁদের প্রত্যাশা। একই সঙ্গে তিনি ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবকে ধন্যবাদ জানান, তাদের চলচ্চিত্রকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার জন্য।
তবে পুরস্কারপ্রাপ্তির আনন্দের মাঝেও নির্মাতার বক্তব্যে উঠে এসেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বার্তা। বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন না এলে এই অর্জনে পুরোপুরি গর্ব অনুভব করতে পারবেন না আকাশ। তিনি লিখেছেন, ভবিষ্যত প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের জন্য যদি আরও ভালো শিক্ষার পরিবেশ তৈরি হয়, সেটিই তাদের কাছে সবচেয়ে বড় পুরস্কার।
১৪২ মিনিট দৈর্ঘ্যের এই রাজনৈতিক স্যাটায়ার সিনেমা ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’। পরিচিত বাস্তবতাকে নতুন চোখে দেখার এক সাহসী চেষ্টা আছে সিনেমায়। হাসি, ব্যঙ্গ আর বাস্তবতার মিশেলে চলচ্চিত্রটি সমাজে বিদ্যমান রাজনৈতিক ও সামাজিক দিককে তুলে ধরার একটা প্রয়াস বলে জানান নির্মাতা।
চলচ্চিত্রটির প্রধান কয়েকটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন দেবদ্যুতি আইচ, রকি খান, ববি বিশ্বাস। আরও আছেন চয়ন মন্ডল, আবু সায়ীদ, ইফাদ হাসান ও এস এ জীবন। এবং একটি বিশেষ চরিত্রে অভিনয় করেছেন সাহিত্যিক ও কবি আক্তারুজ্জামান আজাদ।









