সারাবিশ্বের পুরুষ জনসংখ্যার প্রায় ৭ শতাংশই বন্ধ্যাত্ব সমস্যার সম্মুখীন। পুরুষদের এই সমস্যার সমাধানে সম্প্রতি একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সিস্টেম তৈরি করেছে অস্ট্রেলিয়ান একজন প্রকৌশলী এবং তার দল।
বিবিসি জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি সিডনি (ইউটিএস) এর বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ার এবং মেডিকেল কোম্পানি নিওজেনিক্স বায়োসায়েন্সেসের প্রতিষ্ঠাতা ডাঃ ভাসিলেস্কু এবং তার সহকর্মীরা মিলে পুরুষদের বন্ধ্যাত্ব সমস্যার সমাধানের জন্য ‘স্পার্ম সার্চ’ নামক একটি এআই সিস্টেম তৈরি করেছেন।
ভাসিলেস্কু বলেন, তার এবং তার দল দ্বারা তৈরি সফ্টওয়্যারটি সাধারণ পদ্ধতির চেয়ে ১ হাজার গুণ বেশি দ্রুততার সাথে বন্ধ্যা পুরুষদের কাছ থেকে শুক্রাণুর নমুনা শনাক্ত বা সম্ভাব্য কার্যকর শুক্রাণুকে হাইলাইট করতে পারে। এটি এমন পুরুষদের সাহায্য করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে যাদের বীর্যপাতে কোন শুক্রাণু নেই। বন্ধ্যা পুরুষদের এমন অবস্থাকে বলা হয় নন-অবস্ট্রাকটিভ অ্যাজোস্পার্মিয়া।
সাধারণত এই ক্ষেত্রে, অণ্ডকোষের একটি ছোট অংশ অস্ত্রোপচার করে অপসারণ করা হয় এবং ভ্রূণ বিশেষজ্ঞ ম্যানুয়ালি সুস্থ শুক্রাণুর সন্ধান করেন। এরপর টিস্যুগুলো মাইক্রোস্কোপের নীচে পরীক্ষা করা হয়। যদি কোন কার্যকর শুক্রাণু পাওয়া যায়, তবে সেগুলো নিষ্কাশন করে ডিম্বাণুতে ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রতিস্থাপন করা হয়। পুরো প্রক্রিয়াটিতে একাধিক কর্মীর ছয় থেকে সাত ঘণ্টা সময় লাগে এবং এতে ভুল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
যেখানে নতুন আবিষ্কৃত স্পার্মসার্চ সিস্টেম সেকেন্ডের মধ্যেই সুস্থ শুক্রাণু খুঁজে পেতে পারে। এই গতি অর্জনের জন্য ডঃ ভাসিলেস্কু এবং তার সহকর্মীরা সুস্থ শুক্রাণুর হাজার হাজার ছবি দেখিয়ে জটিল থেকে জটিলতর টিস্যুর নমুনা থেকে শুক্রাণু শনাক্ত করতে সিস্টেমটিকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পুরুষ বন্ধ্যাত্ব সমস্যার হার বেড়েই চলেছে। এর কারণগুলোর মধ্যে আছে-দূষণ, ধূমপান, দুর্বল খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ব্যায়াম না করা এবং অত্যধিক মানসিক চাপ। তবে যাইহোক ‘স্পার্মসার্চ’ ভ্রূণ বিশেষজ্ঞদের চাকরী প্রতিস্থাপন করবেনা বরং তাদের একটি সহায়ক হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে।







