আন্তর্জাতিক

পাকিস্তানে আকস্মিক বন্যায় নিহত ৪৯

পাকিস্তানে বন্যার পানিতে লোকজন ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

ছবি: গত ২৪ ঘণ্টায় পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় বন্যা (সংগৃহীত)

অডিও সংবাদএই খবরটি পডকাস্টে শুনুন

ভারী বর্ষণের ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় গত ২৪ ঘণ্টায় পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

শুক্রবার ১৫ আগস্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বন্যা ও ভূমিধসে আটকে পড়েছে ১ হাজার ৩০০ পর্যটক। তাদের উদ্ধার করা হচ্ছে।

পাকিস্তানজুড়ে ২৬ জুন থেকে ভারী বর্ষণ-সংক্রান্ত দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩৬০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। সর্বশেষ প্রাণহানির বেশিরভাগ ঘটনা ঘটেছে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে।

বৃহস্পতিবার গিলগিত-বালতিস্তানের ঘাজার জেলায় আকস্মিক বন্যায় ১০ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক সরকারের মুখপাত্র ফায়জুল্লাহ ফারাক।

উত্তর-পশ্চিম খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বাজাউর জেলায় ভয়াবহ মেঘ ভাঙ্গা বৃষ্টির ঘটনায় সৃষ্ট বন্যায় নারী ও শিশুসহ আরও ১৬ জন নিহত হয়েছে বলে জানান উদ্ধার কর্মকর্তা আমজাদ খান। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় ১৭ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বাত্তাগ্রাম জেলায় বন্যায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন এবং ১৮ জন এখনও নিখোঁজ বলে জানিয়েছেন সরকারি প্রশাসক সেলিম খান।

পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরেও পৃথক বৃষ্টি-সংক্রান্ত দুর্ঘটনায় ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এক বিবৃতিতে প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।

গিলগিত-বালতিস্তান পাকিস্তানের সংরক্ষিত পানির ৭৫ শতাংশের উৎস হিসেবে পরিচিত হিমবাহের আবাসস্থল। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা হিমবাহ হ্রদ উপচে বন্যার (গ্লেশিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড) সম্ভাবনা নিয়ে নতুন সতর্কতা জারি করেছে এবং ভ্রমণকারীদের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।

বিশ্ব আবহাওয়া বিশ্লেষক নেটওয়ার্ক ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশনের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ২৪ জুন থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত পাকিস্তানে বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বেশি হয়েছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মেঘ ভাঙ্গা বৃষ্টি (ক্লাউডবার্স্ট) দেশটিতে ক্রমেই ঘন ঘন হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে পাকিস্তানের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ মৌসুমি বৃষ্টিপাতে ১ হাজার ৭০০ জনের বেশি প্রাণ হারান এবং ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার।

বিষয়:আকস্মিক বন্যাপাকিস্তান
প্রতিবেদক

চ্যানেল আই অনলাইন

চ্যানেল আই অনলাইন

আরও →

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…