তথ্যপ্রযুক্তি

মার্কিন নির্বাচনে সাইবার হামলার আতঙ্ক

মার্কিন নির্বাচনে সাইবার হামলার আতঙ্ক

ঠিক মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দিনই ব্যাপক আকারে একটি সাইবার হামলা হলো পুরো যুক্তরাষ্ট্রে। উদ্দেশ্য: নির্বাচনে ভোটারের অংশগ্রহণ ব্যাহত করা।

সাধারণভাবে চিন্তা করলে এই ভাবনাটা পাগলামি ছাড়া কিছু নয়। কিন্তু সম্প্রতি টুইটারসহ সামাজিক মাধ্যমগুলোতে এ ব্যাপারে বেশ বড় রকমের তর্ক-বিতর্ক চলছে। বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়ার সিলিকন ভ্যালি নিয়ে।

ফেসবুকের সাবেক প্রযুক্তি প্রধান এবং যে কোনো প্রশ্নের উত্তর দেয়া ওয়েবসাইট ‘কোরা’র প্রতিষ্ঠাতা অ্যাডাম ডি’অ্যাঞ্জেলো। রোববার টুইটারে তিনি ৮ নভেম্বর বড় রকমের একটি ইন্টারনেট হামলা হওয়ার বেশ বড় সম্ভাবনা রয়েছে বলে তার বিশ্বাসের কথা তুলে ধরেন।

তিনি টুইটবার্তায় লিখেন, “অনেকগুলো দলেরই কাজটি করার যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় সরবরাহ cyber-attack3রয়েছে। শুধু ম্যাপ নির্দেশিকায় ঝামেলা করে দিয়েই সহজে নির্বাচন বিগড়ে দেয়া সম্ভব।”

অর্থাৎ যদি একটি সংগঠিত হ্যাকার দল হঠাৎ শক্তিশালী হামলা চালিয়ে বা নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে কোনোভাবে গুগল ম্যাপস’র মতো কয়েকটি অ্যাপ অকেজো করে রাখতে পারে, হয়তো বেশ কিছু ভোটার তাদের ভোটকেন্দ্রের অবস্থান খুঁজে পাবে না। ফলে তারা ভোটও দিতে পারবে না। অথবা হয়তো বিরক্ত হয়ে ভোট দিতেই যাবে না।

এটা অবশ্য অসম্ভব কিছু নয়। টুইটার, নেটফ্লিক্স ও স্পটিফাইয়ের মতো বড় ইন্টারনেট সার্ভিসগুলোও অক্টোবরে একসঙ্গে বড় একটি সাইবার হামলার শিকার হয়েছিল। ফলে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বা নির্বাচনের জন্য ভোটারদের প্রয়োজন আনুষঙ্গিক ইন্টারনেট সেবাগুলোকে হামলার মাধ্যমে ব্যাহত করলে জনগণ, বিশেষ করে ‘স্মার্টফোনের ওপর নির্ভরশীল তরুণ ভোটাররা’ ভোটদানের ব্যাপারে নিরুৎসাহিত হতে পারে বলে আরও অনেকের মতোই মনে করেন অ্যাডাম।

অনেকে অ্যাডাম ডি’অ্যাঞ্জেলোর আশঙ্কাটিকে অতিকল্পনা আর ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিলেও প্রযুক্তি বিশারদ ও প্রযুক্তি সংশ্লিষ্টরা ঠিকই েএটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। ফেসবুকের সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং cyber-attack2ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের কোটিপতি পৃষ্ঠপোষক ডাস্টিন মস্কোভিজ অ্যাডামের টুইটের জবাবে সেখানে লিখেন, “তাহলে কি এ ব্যাপারে কিছু করা যায়?”

অন্যদিকে প্রযুক্তি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান সিকোয়ার ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট মাইক ভার্নাল আশঙ্কাটিকে ‘ভীতিকর চিন্তা’ বলে উল্লেখ করেন। আবার প্রধান ইন্টারনেট সার্ভিসগুলোর অফলাইন সেবা বা বিক্রয়পণ্য হিসেবে ম্যাপ রাখা উচিৎ বলে পরামর্শ দেন টুইটারের সাবেক নির্বাহী ইলাড গিল।

এছাড়া গুগল সার্চ ইঞ্জিনসহ, এটিঅ্যান্ডটি ও ভেরিজনের মতো টেলিকম সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও ৮ নভেম্বরের নির্বাচন উপলক্ষে সাইবার হামলার শিকার হতে পারে বলে ধারণা করছেন অনেকে। কেননা এগুলোর মাধ্যমে কোটি কোটি মানুষ ইন্টারনেটে নানা অনলাইন সেবার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পান।

বিষয়:সাইবার হামলাহ্যাকিং
প্রতিবেদক

অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশ ও বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ খবর, মানুষের গল্প এবং যাচাইকৃত তথ্য পাঠকের কাছে পৌঁছে দেয় চ্যানেল আই অনলাইন।

আরও →

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…