ভাবমূর্তির পাহারাদার স্বপ্রণোদিত দোকানদার

ব-দ্বীপের প্রকাশক ও সম্পাদকদের নিঃশর্ত মুক্তি ও নিরাপত্তা দাবী করে করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন মাসকাওয়াথ আহসান। ফেসবুকে তিনি লিখেন, একটি সমাজে যখন গ্রন্থ প্রকাশের কারণে প্রকাশককে গ্রেফতার করা হয়; তখন বোঝা যায় সেখানে অভিব্যক্তির স্বাধীনতা নেই।
মাসকাওয়াথ আহসান লিখেন, লেখালেখি লেখকের ইচ্ছার স্বাধীনতা। কোন লেখকের লেখা কেউ ইচ্ছা হলে পড়বেন, ইচ্ছা না হলে পড়বেন না; সেটা পাঠকের ইচ্ছার স্বাধীনতা। ব-দ্বীপ প্রকাশনীর প্রকাশক, সম্পাদকদের গ্রেফতার, লেখকদের গ্রেফতারের জন্য খুঁজে বেড়ানো; রাষ্ট্রের এই যে পুলিশী তৎপরতা; তা স্পষ্ট করে তোলে এর নিপীড়ণমূলক চরিত্র। গ্রন্থের সঙ্গে বীরত্ব প্রদর্শন করে কেউ কোথাও জয়ী হতে পারেনি; বরং মত-প্রকাশের স্বাধীনতাহরণের এই আদিম কার্যকলাপ পরাজয়ের বীজ বুনেছে কালে কালে। বখতিয়ার খিলজী, আডলফ হিটলার ইতিহাসে গ্রন্থ বিরোধী কালো চরিত্র হিসেবে নিন্দিত ও পরাজিত।
তিনি লিখেন, বাংলা একাডেমী যেহেতু মেলার আয়োজক কর্তৃপক্ষ; কোন গ্রন্থের বিষয় তাদের কাছে আপত্তিজনক মনে হলে বিষয়টি প্রকাশককে জানালে তিনি অবশ্যই ঐ গ্রন্থ মেলার স্টলে প্রদর্শন করবেন না। যদিও অবাধ তথ্য প্রবাহের যুগে সেন্সরশীপ একটি সোনার-পাথর-বাটি। তবুও এ বিষয়টি বাংলা একাডেমী এবং প্রকাশনা সংস্থার মাঝের দ্বিপাক্ষিক বোঝাপড়ার বিষয়। সেখানে বাংলা একাডেমী মহাপরিচালকের দেহভঙ্গী খাদ্যে ভেজাল ধরে বেড়ানো ম্যাজিস্ট্রেটের মত হওয়া উচিত নয়। কারণ বাংলা একাডেমী জ্ঞানপীঠ; কোন মাছের বাজার বা রেষ্টুরেন্ট নয়। এখানে পুলিশের মত একটি ‘চরিত্রে’-র আগমন অনাহুত। পুলিশ থাকবে বইমেলার বাইরে এবং গেটে; যেখানে যার দায়িত্ব।
মাসকাওয়াথ আহসান লিখেন, পুলিশ দাবী করে তারা আধুনিক বা সমসাময়িক হবার চেষ্টা করছে। তাদের এই একজন প্রকাশককে রিমান্ডে নেয়া দেখে বোঝা যায় চিন্তার জগতে পুলিশ পুলিশই রয়ে গেছে। লেখক-প্রকাশক-সম্পাদকের সঙ্গে পেশী প্রদর্শনে কোন বাহাদুরী নেই। বাহাদুরী আছে বরং লেখকদের ধারাবাহিকভাবে হত্যা করেছে যারা তাদের গ্রেফতারের মাঝে। ভুল জায়গায় বাহাদুরী দেখানো অপেশাদারিতা ও ন্যূনতম মানবিক সংস্কৃতিহীনতা।
তিনি লিখেন, আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অনুভূতির মালিক বাঁশের কেল্লাকে কে কবে কার ভাবমূর্তি পাহারার মালিকানা দিয়েছে সেটা অজানা। তবে এটুকু বোঝা যায় এদের সামাজিক পুলিশীর প্রবণতা রাষ্ট্র-পুলিশ-প্রশাসনের আস্কারায় দিন দিন বেড়ে চলেছে। প্রতিটি লেখকের হত্যাকান্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত এই কেল্লাটিই ট্রয়ের ঘোড়া; যার মধ্যে আইএস লুকিয়ে আছে। রাষ্ট্রকে অত্যন্ত সাবধান হতে হবে এদের ব্যাপারে।
তিনি লিখেন, পৃথিবীতে কোন ব্যক্তিই সমালোচনার বাইরে নন। কারো সমালোচনাকে গ্রহণ এবং বর্জনের স্বাধীনতা পাঠকের। পৃথিবীর ইতিহাসে যারা চিরস্মরণীয় তাদের কর্মের নিজস্ব শক্তি থাকে। এজন্য পাহারাদার প্রয়োজন হয় না। ভাবমূর্তির পাহারাদারী আসলে একটি স্বপ্রণোদিত দোকানদারী। কারণ তথ্য গ্রহণ বর্জনের বিচার বোধ রয়েছে জন্যই মানুষকে মানুষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কেউ তার জন্য তথ্য বেছে দেবে এমন তো নয়। জ্ঞান কোন মৎস্য নয় যে রাষ্ট্র-বাংলা একাডেমী-পুলিশ বা বাঁশের কেল্লার মালিক তার কাঁটা বেছে দেবে। আর পাঠকও অবোধ শিশু নয় যে তাকে কাঁটা বেছে দিতে হবে।
মাসকাওয়াথ আহসান লিখেন, অবিলম্বে ক্ষমতা কাঠামোর এইসব কর্তৃত্বপরায়ণ তামাদি চিন্তাধারার বিলুপ্তি প্রত্যাশা করছি। শুভবোধের উদয় হোক। ব-দ্বীপের প্রকাশক ও সম্পাদকদের নিঃশর্ত মুক্তি ও নিরাপত্তা দাবী করছি।






