‘বিয়ে’র মানে জানতে গণভোট

বিয়ে মানে কী? পরিবার মানেই কি একজন নারী আর একজন পুরুষের মধ্যকার বৈবাহিক সম্পর্ক, না অন্য কিছু? – এই প্রশ্নের জবাব ঠিক করতেই গণভোট চলছে রোমানিয়ায়।
৬ ও ৭ অক্টোবর – এই দু’দিন দেশজুড়ে গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে সংবিধানে পরিবার বিষয়ক অংশে বিয়ের সংজ্ঞা পরিবর্তন হবে কিনা তা নির্ধারণ করা হবে।
সংবিধানের ধারাটি পরিবর্তনে সমর্থনকারীরা এই গণভোটকে পরিবারের ‘ঐতিহ্যবাহী’ ধারণা রক্ষার একটি উপায় হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে বিরোধীরা সতর্ক করে বলছেন, এর ফলে সমকামী দম্পতি, একক অভিভাবক (সিঙ্গেল প্যারেন্ট) এমনকি তাদের সন্তানরা সংকটে পড়তে পারেন।
গণভোটের বিপক্ষে আরও একটি অভিযোগ উঠেছে: রোমানিয়ার ক্ষমতাসীন দলের প্রধানকে জড়িয়ে চলমান দুর্নীতি মামলা থেকে জনগণের মনোযোগ হটাতেই আসলে এই গণভোট।
রোমানীয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৮-এ বলা হয়েছে পরিবার গঠিত হয় ‘দুই ব্যক্তির স্বাধীনভাবে সম্মত বিয়ের ওপর ভিত্তি করে’। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে সংজ্ঞাটির এই অংশ বদলে করা হবে: ‘একজন পুরুষ ও একজন নারীর স্বাধীনভাবে সম্মত বিয়ের ওপর ভিত্তি করে’।
পরিবার বিষয়ক গণভোট-পূর্ব কোয়ালিশনের প্রেসিডেন্ট মিহাই ঘেয়োরঘিউ বলেছেন, ‘আমরা চাইছি বিয়ের সংজ্ঞাকে সাংবিধানিক পর্যায় থেকে সংরক্ষণ করতে – যা হয় একজন নারী ও একজন পুরুষের মাঝে।’
বিয়ের এই সংজ্ঞাটি ইতোমধ্যে দেশের নাগরিক বিধিমালায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কিন্তু এই দলটি চাইছে, সংবিধানেও যুক্ত করার মধ্য দিয়ে সংজ্ঞাটিকে আরেক ধাপ সুরক্ষা দিতে।
অবশ্য এর মধ্য দিয়ে সমলিঙ্গের যুগলরা কোনো জটিলতায় পড়বেন না বলেও আশ্বস্ত করেন ঘেয়োরঘিউ। ‘এলজিবিটি গোষ্ঠীর অধিকার বা চাহিদার অবস্থানে গণভোটের কারণে কোনো পরিবর্তন আসবে না,’ বলেন তিনি।
রোমানিয়ার অর্থডক্স চার্চ এই গণভোটে সমর্থন দিয়েছে। দেশটির প্রায় ৮৫ শতাংশ জনগোষ্ঠী অর্থডক্স খ্রিস্টান।
বিবিসি জানায়, সরকারের আশা ‘হ্যাঁ’ ভোটই জিতবে। তবে ‘না’ ভোট প্রচারণা শিবিরের পরিকল্পনা, এমনটা হলে তারা গণভোট বয়কট করবে। তাদের আশা, এতে করে গণভোটটি বৈধ হওয়ার জন্য প্রয়োজন ন্যূনতম ৩০ শতাংশ ভোটারের উপস্থিতি পূর্ণ হবে না।
এর আগেও রোমানিয়ায় কম ভোট পড়ার কারণে বেশকিছু গণভোটের ফল বাতিল হয়েছে।









