বিমানের শৌচাগারে গোপন ক্যামেরা

ওয়েস্ট এয়ারলাইন্সের দু্ই জন পাইলট বিমানের শৌচাগারে একটি ক্যামেরা লুকিয়ে রেখেছিলেন বলে জানা গেছে। সেসময় ফ্লাইটের উপরে থাকা ককপিটের উইন্ডশীল্ডে লাগানো একটি আইপ্যাডে ভিডিওটি সরাসরি প্রচার করা হচ্ছিলো বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
রবিবার এক বিবৃতিতে সাউথ ওয়েস্ট এয়ারলাইনের বিমান চালক তার বিমানের শৌচাগারে ক্যামেরা রাখার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে এবং বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে ভিডিওটি রীতিমত হাস্যরসের জন্ম দিয়েছে।
পিটসবার্গ থেকে ফিনিক্সে ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ফ্লাইটে যাত্রী এবং ক্রু সদস্যদের ভিডিও রেকর্ড করেছিলেন বিমানের পাইলটরা। এনিয়ে গত বছর অ্যারিজোনা রাজ্য আদালতে মামলা করা হয়ে থাকলেও তবে সম্প্রতি মামলাটি ফেডারেল আদালতে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
এনডিটিবির বরাতে জানা যায়, মামলা অনুসারে স্টেইনকার ফ্লাইট ক্যাপ্টেনের আসনের বাম উইন্ডশীল্ডে লাগানো আইপ্যাডে স্ট্রিমিং ভিডিওতে পাইলটকে দেখেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে এবং সহপাইলট রায়ান রাসেল স্টেইনেকারের কাছে স্বীকার করেছেন যে, আইপ্যাড শৌচাগারের একটি ক্যামেরা থেকে দেখা যাচ্ছিল, তবে তিনি তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন যে ক্যামেরাগুলি “সাউথ ওয়েস্ট বোয়িং ৭৩৭-৮০০ বিমানের সমস্ত জায়গায় সর্বোচ্চ গোপনীয় সুরক্ষার জন্য রাখা হয়েছিল।
মামলা অনুসারে, এসময় স্টেইনকার এবং ছোট বাচ্চাসহ যাত্রীরা বিমানের সামনের শৌচাগার ব্যবহার করেছিলেন।
এই মামলাটি মূলত স্টেইনকার এবং তার স্বামী ডেভিড স্টেইনকার, এছাড়াও সাউথ ওয়েস্ট বিমানের অ্যাটেন্ডেন্টের পক্ষে ২০১৮ সালের অক্টোবরে অ্যারিজোনা রাজ্য আদালতে দায়ের করা হয়েছিল। আগস্টের শেষের দিকে এটি ফিনিক্সের ফেডারেল আদালতে স্থানান্তরিত হয়।
সেসময় দম্পতির পক্ষে অ্যাটর্নি রোনাল্ড এলএম গোল্ডম্যান বলেছেন, অভিযোগ করা লাইভ-স্ট্রিমিংটি নিরাপত্তার একটি বিশেষ অ্যাপস হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। স্টেইনেকারের অ্যাটর্নিরা আরও বলেছেন, যে ফ্লাইট অ্যাটেন্ডেন্ট তার কর্মজীবনকে ঝুঁকিপূর্ণ করে এই ঘটনা জনসমক্ষে প্রচার করেছে। এতে করে যাত্রীরাও অনেকটা হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে জানা যায়।
এনডিটিবি তথ্যমতে, পাইলটদের কর্মসংস্থানের অবস্থা এবং প্রতিশোধ নেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে সাউথ ওয়েস্ট এয়ারলাইনস এব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। বিমান সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, “এই মুহূর্তে মুলতবি মামলা মোকদ্দমার বিষয়ে আমাদের আর কোনও মন্তব্য নেই।”
জানা যায়, মামলার পর স্টেইনকার শারীরিকভাবে অস্থির হয়েছিলেন এবং ঘটনার বেশ কয়েক দিন ধরে কাজ করতে অক্ষম ছিলেন এবং ঘটনার ফলস্বরূপ শারীরিক ও মানসিক আঘাত পেয়েছিলেন।
এদিকে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের মতে, ডালাস ভিত্তিক সাউথ ওয়েস্ট বিমানের পক্ষে অ্যাটর্নিদের দায়ের করা মামলায় দুই পাইলট সরাসরি ভিডিও প্রচারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সর্বোপরি বিমান সংস্থার কর্তৃপক্ষ বলেছেন, শৌচাগারে কখনোই কোন ধরনের ক্যামেরা ছিল না আর ঘটনাটি রীতিমত হাস্যরসের অনুপযুক্ত প্রয়াস মাত্র।







