বাংলাদেশ

বাংলাদেশকে করোনামুক্ত করতে এক অনন্য উদ্যোগ

করোনা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক আলোচনা ও স্বাস্থ্য পরামর্শ. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

একটি সভায় স্বাস্থ্য সচেতনতা ও করোনা প্রতিরোধের জন্য আলোচনা চলছে, উপস্থিত আছেন স্বাস্থ্যকর্মী ও সাধারণ মানুষ।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ

করোনামুক্ত বাংলাদেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বক্ষব্যাধি চিকিৎসক প্রফেসর ডাঃ মোহাম্মদ রাশিদুল হাসানের তত্ত্বাবধানে ঢাকার ৩২ নং ওয়ার্ডে কাজ করছে ‘নিজ বাড়ি নিজ হাসপাতাল, করোনামুক্ত বাংলাদেশ’ প্রকল্প। ইনজিনিয়াস হেলথ কেয়ার, ট্রাই ফাউন্ডেশন ও সৌহার্দ ফাউন্ডেশন- এই তিনটি সংস্থার পৃষ্ঠপোষকতায় বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করছে এই প্রকল্পের মেডিক্যাল টিম।

গত ৯ই আগস্ট থেকে মোহাম্মদপুরে কাজ করে আসছে এই প্রকল্পের কয়েকটি দল। দলের মেডিক্যাল এসিস্ট্যান্টরা ঘরেই স্যাচুরেশন লেভেল, পালস রেট, ও প্রেসার নির্ণয় করে প্রাথমিক সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত করছেন। এ পর্যন্ত এই প্রকল্পের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে মোহাম্মদপুরের খিলজি রোড, পিসি কালচার হাউজিং সোসাইটি, বাবর রোড, হুমায়ুন রোড এবং লালমাটিয়ায়।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোহাম্মদপুরে মোট ৩,৭৮৮টি পরিবারের ১৫,১১২ জন ব্যক্তির তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, এবং শুধু লালমাটিয়ায় তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে ২,০৮২ টি পরিবারের ৮,১১০ জন ব্যক্তির। এদের মধ্যে সন্দেহভাজন রোগীদের প্রকল্পের গাড়িতে করে সেন্টারে নিয়ে এসে শনাক্তকরণ পরীক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। এদিকে ঘনবসতি সম্পন্ন জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় তিনটি বুথ স্থাপন করা হয়েছে স্বাস্থ্যসেবা দ্রুত প্রদানের জন্য।

এই প্রকল্পের অধীনে এলাকাবাসীকে সাধারণ চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পাশাপাশি করোনা উপসর্গ আছে কিনা তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। মোহাম্মদপুরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ ও চিকিৎসাসেবা প্রদানের পাশাপাশি পুরো ঢাকাবাসীর জন্য করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষা ও করোনা রোগী শনাক্ত হলে বাংলাদেশে ব্যবহৃত ওষুধ ফেভিপিরাভিরের পূর্ণ ডোজ বিনামূল্যে দিচ্ছে এই প্রকল্পটি। এছাড়াও করোনা শনাক্তকরণের জন্য প্রাথমিকভাবে সিবিসি ও এক্সরে, এবং প্রয়োজনে আইইডিসিআর-এর অধীনে আরটি-পিসিআর এর ব্যবস্থা করা হচ্ছে যার কোন খরচ রোগীকে বহন করতে হবে না।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মোট ১২৫ জনকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে যার মধ্যে ২১ জনকে ফেভিপিরাভির ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে। রোগীদের ওষুধ সেবন নিশ্চিত করার জন্য ৪৮ ঘণ্টার পরে ও এক সপ্তাহ পরের ফলো আপ ভিজিটের ব্যবস্থাও করেছে প্রকল্পটি।

করোনা পরীক্ষা ও ওষুধের পাশাপাশি কোন রোগীর অক্সিজেন সাপোর্টের প্রয়োজন হলে অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটরের মাধ্যমে প্রথম ২৪ ঘণ্টা অক্সিজেন সেবা দেওয়া হচ্ছে বিনামূল্যে। ঢাকার যে কেউ এই প্রকল্পের স্বাস্থ্যসেবা নিতে পারেন সরাসরি প্রকল্পটির সেন্টার ৪১, রিং রোড, শ্যামলীর “ইনজিনিয়াস পালমো-ফিট”-এ এসে, বা যোগাযোগ করতে পারেন ০১৭০১৬৭৭৭১০ নম্বরে।

বিষয়:করোনা উপসর্গ

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…