‘কঠিন উইকেটে’ই শ্রীলঙ্কার এমন ব্যাটিং!

ছবি: ক্রিকইনফো
যাদের বিপক্ষে ৩২০ রানের সংগ্রহ গড়ে ১৬৩ রানের রেকর্ড জয় এসেছিল, সেই শ্রীলঙ্কার সঙ্গে পরের দেখাতেই ৮২ রানে গুটিয়ে যাওয়ার লজ্জা। উইকেটের পার্থক্য নিয়ে তাই প্রশ্ন উঠে যাওয়া অবধারিতই ছিল। তবে মাশরাফীর মুখে যখন ‘উইকেট খারাপ ছিল না।’ তখন দানুস্কা গুনাথিলাকা বললেন ভিন্ন কথাই।
বাংলাদেশ একশ’র আগে থামার পর শ্রীলঙ্কার দুই ওপেনার সাবলীলভাবে ব্যাট চালিয়েছেন। ১১.৫ ওভার খেলে অবিচ্ছিন্ন থেকেই টপকে গেছেন লক্ষ্য। ৩৫ বলে ৩৫ রানের ইনিংস খেলা গুনাথিলাকা পরে দলের প্রতিনিধি হয়ে এসে বললেন, উইকেটে ব্যাটিং করা কঠিন ছিল!
বৃহস্পতিবার শের-ই-বাংলার দুই নম্বর উইকেটে হওয়া ম্যাচে পেসারদের বল লাফিয়ে উঠছিল বুকসমান উচ্চতায়। উইকেটে ব্যাটিং করা যে সহজ ছিল না সেটি বলতেই পারতেন মাশরাফী। কিন্তু সতীর্থরা যেরকম দৃষ্টিকটুভাবে উইকেট উপহার দিয়ে এসেছেন, তখন আর কী-বা বলার থাকে অধিনায়কের!
সাকিব-তামিম ছাড়া উইকেট বিলিয়ে এসেছেন সবাই। টপঅর্ডার থেকে শুরু করে লেজের ব্যাটসম্যানরাও পর্যন্ত আউট হয়েছেন উচ্চাভিলাষী সব শটে। একেবারে অপ্রয়োজনীয় মুহূর্তেও বাজে শট খেলতে দ্বিতীয়বার ভাবেননি তারা। দায়িত্বজ্ঞানহীনতার চরম প্রদর্শনীর পসরা বসেছিল যেন!
রানের খাতা খোলার আগেই বাজে শটে আউট বিজয়। তিন বছর পর ফিরে দলে জায়গাটার মর্মই যেন উপলব্ধি করতে পারছেন না এই বাঁহাতি। কাভার দিয়ে দারুণ এক শটে বাউন্ডারিতে শুরু করা সাকিব ফেরেন সরাসরি থ্রোতে রানআউট হয়ে। টানা তিন ম্যাচে সত্তরোর্ধ্ব ইনিংস খেলা তামিম ফেরেন গুনাথিলাকার চোখ ধাঁধানো ক্যাচে।
দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়া বাংলাদেশকে টেনে তুলতে পারতেন মাহমুদউল্লাহ-সাব্বির-নাসিররা। লঙ্কান পেসারদের শর্ট বাউন্সারে অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের ইনিংসের যবনিকা ঘটলে লেজের ব্যাটসম্যানদের দিকে তাকিয়ে ছিল স্টেডিয়ামে আসা হাজার পাঁচেক দর্শক।
আগের ম্যাচে প্রশংসা কুড়ানো টেলএন্ডারদের এদিন যেন তাড়া ছিল দ্রুত বোলিং করার! তাতে ২৪ ওভারে ৮২ রানে শেষ বাংলাদেশের দুঃস্বপ্নের ইনিংস। হার দেখা তো তখনই হয়ে গেছে। যাদের মুখে উইকেট কঠিন ছিল, সেই লঙ্কানরাই পরে ওভারপ্রতি সাতের উপর রান তুলে দিবা-রাত্রির ম্যাচ শেষ করেছেন ফ্ল্যাডলাইট জ্বলে ওঠার আগেই। ১১.৫ ওভারে পাওয়া জয়ে মাঠের চারপাশে বাউন্ডারির পসরা সাজান লঙ্কান দুই ওপেনার। উইকেট আসলেই কেমন ছিল সেটি তাই কৌতূহলের বিষয় হয়েই থাকল!







