মতামত

এক অনীতার জীবন সংগ্রাম

এক অনীতার জীবন সংগ্রাম

আমরাও যে সম্মানজনকভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে পারি, এই বিশ্বাসটাই হারাতে বসেছিলাম। কিন্তু, এখন মনে হচ্ছে চিৎকার করে বলি আমরাও পারি। শুধু দরকার একটু সহযোগিতা আর আপনাদের সমর্থন।

নিজের ঘরের বারান্দায় বসে বলছিলেন নওগাঁ জেলার পোরশা উপজেলার অন্তর্গত গাঙ্গুরিয়া ইউনিয়নের চেরাডাঙ্গা গ্রামের আদিবাসী সদস্য অনীতা। তারপর হঠাৎ করেই যেন আধাঁর নেমে আসে ভূমি কন্যা অনীতার দুচোখ জুড়ে। তিনি ফিরে যান তার অতীতে। বলে উঠেন, ‘এই তো কদিন আগেই সারাবছর দুবেলা পেট ভরে খাওয়াও ছিল আমাদের অসম্ভব কল্পনা। যে সময়টায় কাজ থাকত, সেসময় হয়ত খাওয়া চলত। কিন্তু, বছরের বাকি সময়টা ছিল আমাদের দুঃস্বপ্নের ইতিহাস। কোনদিন হয়ত শুধু শাক-পাতা সেদ্ধ করেও খেতে হত; এক মুঠো চাল জুটতো না ভাত রাঁধবার জন্য।’

শাড়ির আঁচল দিয়ে মুখ ঢাকতে ঢাকতে অনীতা বলে উঠেন, ‘আমার ছেলেগুলিও কতদিন না খেয়ে ঘুমিয়ে গেছে।’ একই সাথে ক্ষোভ ঝাড়েন অনীতা সুদখোর মহাজনদের উপর। অনীতাদের কর্মহীন সময়গুলিতে তাদের বঞ্চনার প্রতিবাদে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে তার বক্তব্যে। চীনে-জোঁকের মতন অসহায় আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে শোষণ করেই যেন এই সমাজের বাড়-বাড়ন্ত। আদিবাসীরা কাজ না থাকায় বাধ্য হয় আগাম শ্রম বিক্রি করতে এবং কিন্তু সেক্ষেত্রেও তাদেরকে বাজার মূল্য দেয়া হয় না। অনীতারে ভাষায়, ‘কি আর করব, পেটের তাগিদে, ছেলে-মেয়েকে অন্তত একটু লবণ-ভাত পাতে তুলে দিতে আর কোন উপায় যে আমাদের সামনে খোলা থাকে না।’

দুর্বলের উপর সবলের অত্যাচার যেন সমাজের চিরাচরিত ও স্বতঃসিদ্ধ রীতি। আর নারী হওয়ায় যেন আরো বেশি ভোগান্তি অনীতাদের জীবনে। তাই তো পুরুষের সমান কাজ করেও তাকে মেনে নিতে হয় পুরুষের অর্ধেক পারিশ্রমিক। যেখানে একজন পুরুষ পান ৩০০-৩৫০ টাকা, সেখানে নারী হওয়ায় অনীতারা পান মাত্র ১৫০-১৮০ টাকা। তাই তো হয়ত পরম খেদেই অনীতা বলে উঠেন, ‘এইঅনিয়মটাই এখন নিয়ম হয়ে গিয়েছে। আর তা মেনেও নিয়েছি।’

জলবায়ু পরিবর্তন বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত ইস্যুগুলির একটি। অনিয়ন্ত্রিত শিল্পায়ন, প্রযুক্তির অপরিমিত ব্যবহার, অবাধে বৃক্ষনিধন ইত্যাদি কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক অভিঘাত তরান্বিত হচ্ছে। আর এর প্রভাবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে তুলনামূলকভাবে কম কার্বন নিঃসরণকারী তৃতীয় বিশ্বের দেশসমূহ। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলির একটি। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশে ঋতুর পরিবর্তন, অসময়ে বৃষ্টিপাত, তীব্র খরাসহ নানা আপদের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এতে সবচেয়ে ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছেপ্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকা।

বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত নওগাঁ জেলা প্রকৃতিগতভাবে একটি শুষ্ক এলাকা। এখানে প্রতি বছরই মাঝারি থেকে তীব্র খরা পরিলক্ষিত হয়। কিন্তু, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারনে বর্তমানেএর তীব্রতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পূর্বে যে সময় বা যে পরিমাণে বৃষ্টিপাত হত, এখন তার পরিবর্তন ঘটেছে। ফলে, এটা সরাসরি প্রভাব ফেলছে মূলত কৃষি নির্ভর এই এলাকার জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকার উপর। অন্যদিকে, জমির মালিকেরাও প্রথাগত কৃষিকাজে অনাগ্রহী হয়ে অধিক লাভজনক এবং স্বল্প শ্রমনির্ভর বাগান (বিশেষত আম বাগান) চাষে যুক্ত হচ্ছেন। এই প্রবণতা কৃষিশ্রম-নির্ভর জনগোষ্ঠীকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে। আর তাদের ভেতরে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সমতলের আদিবাসী জনগণ।

নওগাঁ জেলার পোরশা উপজেলাটি একটি আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকা। এখানে সাঁওতাল, ওঁরাও, পাহান, মাহাতো, তুরি, মুন্ডা প্রভৃতি আদিবাসী জনগোষ্ঠির বসবাস, যাদের জীবন ও সংস্কৃতি পুরোপুরিই প্রকৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ঐতিহ্যগতভাবেই ভূমিপূত্র আদিবাসীরা কৃষি নির্ভর। নিজস্ব জমি না থাকায় তারা বিভিন্ন ভূমিমালিকদের জমিতে কৃষিশ্রমিক হিসেবে কাজ করেই তারা জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। এছাড়া, তাদের অন্যান্য পুষ্টির উৎস হিসেবেও তারা প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট পানি-সংকটের কারনে তাদের এই উৎসগুলি সংকুচিত হচ্ছে। এর ফলশ্রুতিতে তাদেরকে বছরের ছয়মাসেরও অধিককাল তাদেরকে বেকার জীবন কাটাতে হচ্ছে।

সমতলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকার উপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং তামোকাবেলায় জলবায়ু সহনশীল জীবিকায়ন কৌশল খুঁজে বের করার লক্ষ্যে বরেন্দ্রভূমি সমাজ উন্নয়নসংস্থা সুইজারল্যান্ডভিত্তিক আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা হেক্স/ইপার-এর কারিগরি সহায়তায় এবংইউএনডিপি’র অর্থায়নে একটি প্রকল্প শুরু করে। আর অনীতাএই প্রকল্পেরই একজন সুবিধাভোগী। হতে পারত এই গল্পটি আর দশটা গল্পের মত জীবনযুদ্ধে ক্লান্ত-শ্রান্ত, হেরে যাওয়া এক নারীর গল্প। কিন্তু না, সংগ্রামী অনীতা ভাগ্যেবিশ্বাসী না হয়ে নিজেই নিজের ভাগ্য লেখায় উদ্যত হয়েছেন। তিনিও এখন স্বপ্ন দেখেন একটি স্বাবলম্বী জীবনের। তাই তো, এই গল্প দিন বদলের গল্প; নতুন জীবনের গল্প। এই গল্প গ্রীক পুরাণের ‘ফিনিক্স পাখির মত ছাই থেকে আবার জেগে উঠার’ গল্প।

অনীতা আদিবাসী পাহান জনগোষ্ঠীর সদস্য। পাহানরা মূলত কৃষি-শ্রম নির্ভর তাদের জীবিকার জন্য। পরের জমিতে কৃষিকাজ করে প্রাপ্ত আয় থেকেই তারা তাদের জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষিকাজ কমে যাচ্ছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে খরার প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে পানির সংকটে বছরে একবার ধান চাষ ব্যতীত অন্য কোন কৃষি কাজ থাকছে না। এর ফলশ্রুতিতে কমপক্ষে ৬-৮ মাস তাদের বেকার বসে থাকতে হয়। অপরদিকে, তাদের অন্য কোন কাজেদক্ষতা না থাকা এবং সমাজের মূলধারার সাথে তাদের সম্পৃক্ততা কম থাকার কারণে তাদের পক্ষে কৃষি ব্যতীত বিকল্প পেশায় যুক্ত হওয়াও সম্ভবপর হয়ে উঠে না। এমতাবস্থায়, এসময় তারা আগাম শ্রম বিক্রির মাধ্যমে সংসারের যাবতীয় খরচ মেটাতে বাধ্য হয়। অনীতা রাণীর ভাষায়, ‘কোন মতে বেঁচে থাকাটাই আমাদের কাছে জীবন।’ এরকমই একটা পরিস্থিতিতে তার গ্রামে বিএসডিও জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক অভিঘাত মোকাবেলায় সহনশীল জীবিকায়ন সুযোগ তৈরীর উদ্দেশ্যে এক প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু করলে অনীতা যুক্ত হন বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের সাথে।

বিএসডিও-তে কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট গ্রুপের সদস্য হয়ে অনীতা রানী জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক নানা প্রশিক্ষণ লাভ করেন। তিনি তার দলের সাথে বসে দলীয় আলোচনার মাধ্যমে তাদের ঝুঁকির খাতগুলি চিহ্নিত করেন এবং এর থেকে উত্তরণের জন্য জীবিকায়ন কৌশল খুঁজে বের করেন। এসময় তারা তাদের দৈনন্দিন জীবনে সম্মুখীন হওয়া বিভিন্ন সমস্যাগুলি বিবেচনা করেন। একই সাথে তারা তাদের সক্ষমতা ও দুর্বলতাগুলিও চিহ্নিত করেন। এই সকল বিষয় যথাযথভাবে বিবেচনা করেইউদ্ভাবনী জীবিকায়ন কৌশলগুলি তারা চুড়ান্ত করেন। তাদের উদ্ভাবনী জীবিকায়ন কৌশলগুলিই আজতাদের স্বপ্ন দেখাচ্ছে, সংকট থেকে উত্তরণের পথপ্রদর্শন করছে।

অনীতা ও তার দল জলবায়ু সহনশীল জীবিকায়ন কৌশল হিসেবে ‘কেঁচো সার প্রস্তুত’ নির্ধারন করেন। কেঁচো সার প্রস্তুতের জন্য প্রয়োজনীয় ইনপুটগুলি তারা নির্ধারণকরেন এবং এ বিষয়ক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেন এবং সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ সমূহ খুঁজে বের করেন। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ইনপুটগুলি হল কেঁচো সংগ্রহ, কাঁচামাল হিসেবে গোবর পাওয়ার জন্য গরু ক্রয়, গরু ক্রয়ের জন্য ঋণ, গরুর জন্য খাবার তৈরী, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা ইত্যাদি। কেঁচো সার প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে অনীতারা প্রাথমিকভাবে যে সমস্যা বোধ করেন তা হল গরু না থাকা। গোবর সরবরাহ নিশ্চিতকরণে গরু থাকাটা আবশ্যিক। কিন্তু পুঁজির অভাবে অনীতাদের পক্ষে গরু ক্রয় করা সম্ভব ছিল না। অন্যদিকে, তাদের কোন স¤পদ না থাকায় কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান তাদেরকে ঋণ প্রদান করতে আগ্রহী হয় না। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে একটি নেতিবাচক ধারণা ছিল যে, আদিবাসী জনগণ ঋণ নিলে তা পরিশোধে সমর্থ হবেন না। এছাড়া, ঋণ নিলেও উচ্চ হারে সুদ পরিশোধ করাটাও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য ছিল একটি বড় বাধা। এসকল বিষয় বিবেচনায় করে তারা তাদের পরিকল্পনা নিয়েবিএসডিও-এর সাথে কথা বলেন এবং বিএসডিও থেকে তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তার প্রতিশ্রুতি প্রদানকরা হয়। এর ফলশ্রুতিতে হেকস/ইপার ও ইউএনডিপি’র সাথে আলোচনাপূর্বক বিএসডিও তাদেরকে সহজ শর্তে ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করে এবংপ্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেয়।
অনীতা পাহান বিএসডিও থেকে ৫০,০০০/- (পঞ্চাশ হাজার টাকা মাত্র) ছয় মাস মেয়াদী ঋণ গ্রহনকরেন। উক্ত ঋণ থেকে তিনি ৪১,৫০০/- টাকা দিয়ে একটি গরু ক্রয় করেন। এই গরু থেকে প্রাপ্তগোবর থেকে কেঁচো সার প্রস্তুতের উদ্দেশ্যে তিনি তার গ্রামের আরো চারজনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কার্যক্রম শুরু করেন। অনীতার পরিকল্পনা মাফিক তিনি ছয় মাসে দুটি রিং থেকে প্রায় ৫০০ কেজি কেঁচো সার উৎপাদন করতে সমর্থ হবেন, যার বাজার মূল্য প্রায় ৭,৫০০/- টাকা। অন্যদিকে এই কেঁচো সার ব্যবহার করে বাড়ির আঙ্গিনায় তিনি সবজি চাষের মাধ্যমে পারিবারের পুষ্টি চাহিদা পুরণ করতে পারবেন।

কেঁচো সার প্রস্তুতের জন্য নিরবচ্ছিন্ন গোবর সরবরাহ নিশ্চিতকল্পে, অনীতা চার মাসের উৎপাদন চক্রে গরু পালন করছেন উন্নত পদ্ধতিতে। অনীতা বলেন, ” আমরা যখন গরু পালনের সিদ্ধান্তনেই তখন অনেকেই প্রশ্ন তোলেন যে গরুকে আমরা কি খাওয়াবো। কারণ, শুষ্ক এলাকা হওয়ার কারনে আমাদের এলাকায় সবুজ ঘাসের যথেষ্ঠ সংকট রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে সৃষ্ট খরা এই সংকটকে বহুগুণে বাড়িয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, আম বাগান সমূহে বিষপ্রয়োগ করার কারনে সে ঘাসগুলিও গবাদি পশুর জন্য অনিরাপদ। তখন আমরা বিকল্প উপায় সম্পর্কে জানতে বিএসডিও-এর শরণাপন্ন হই। তারা আমাদেরকে উন্নত জাতের ঘাস নেপিয়ার ঘাস সম্পর্কে জানান। এ জন্য তিনি তার দলের সাথে দলগত উদ্যোগে নেপিয়ার ঘাস চাষ করছেন, যা একটি উন্নত মানে গো-খাদ্য। এছাড়া তারা হাইড্রোপোনিক ঘাস (নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে মাটি ছাড়াই উৎপাদনযোগ্য উন্নতমানের গো-খাদ্য) চাষেরও উদ্যোগ গ্রহন করেছেন। এই ঘাসের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, এটা যে কোনঋতুতে চাষ করাযায় এবং মাত্রে সাত দিনেই উৎপাদিত ঘাস ব্যবহার করা যায়।

আমাদের অবাক হবার তখনো অনেক বাকি। অনীতার বাড়ির পাশে পানির ট্যাংকি দেখে আমরা কারন জানতে চাইলে তিনি বাস্তবিকই আমাদের হতবাক করে দেন। অনীতার ভাষায়, “গরুপালনের জন্য পরিষ্কার পানি প্রয়োজন। কিন্তু গরুকে বিশুদ্ধ পানি পান করানোর কথা প্রশিক্ষণে বলা হলে আমরা যেন দুঃখেও হেসে ফেলি। যেখানে আমাদেরকে এক কলসি পানি আনতে গরমের দিনে ৩/৪ কিলোমিটার দূরে যেতে হয়, সেখানে গরুকে কি করে বিশুদ্ধ পানি খাওয়ানো যাবে। আর তখনই আমাদের মাথায় চিন্তা আসে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার। যদি এটা আমরা ধরে রাখতে পারি, তবে আমরা গরুকে গরমের দিনেও বৃষ্টির পানি পান করাতে পারবো। এতে আমাদের গরু সুস্থ থাকবে। ‘বর্তমানে অনীতা পাহান দলীয় উদ্যোগে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের কার্যক্রম গ্রহন করেছেন। তারা প্লাস্টিক ট্যাংকিতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করছেন, যাতে শুষ্ক মৌসুমে তারা এই পানি গরুকে খাওয়াতে পারেন।

অনীতার হিসেবে কোরবানী ঈদে তিনি তার গরুটিকে ৮০,০০০/-(আশি হাজার টাকা) মাত্র টাকার বেশি মূল্যে বিক্রি করতে পারবেন। গরু পালন বাবদ তার খরচ হচ্ছে ৩,০০০/- (তিন হাজার টাকা) মাত্র। এর সাথে কেঁচো সার থেকে তার আয় হবে প্রায় ৭,৫০০/- (সাত হাজার পাঁচশত টাকা) মাত্র। সব মিলিয়ে তার নীট মুনাফা হবে ৪৩,০০০/ (তেতাল্লিশ হাজার টাকা) মাত্র।

এভাবে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে অনীতা রাণী উন্নয়নের পথে অগ্রসর হচ্ছেন। তিনি স্বপ্ন দেখেন তার লাভের অংশ থেকে তিনি আস্তে আস্তে তার সম্পদের পরিমাণ বাড়াবেন এবং তার সন্তানদের স্কুলে পাঠাবেন। একই সাথে তিনি চান তার মত আরো যে সকল আদিবাসী নারী জীবনযুদ্ধে ক্রমাগত সংগ্রাম করে চলছেন, তাদেরকে নিজের জীবনের গল্প দিয়ে উদ্বুদ্ধ করতে। তিনি নিয়ে আসতে চান মূলধারা হতে বিচ্ছিন্ন আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর জীবনে নতুন ভোর। আর এই স্বপ্ন যাত্রায় তার সাথী হতে চাই আমরাও।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

প্রতিবেদক

শেখর চক্রবর্তী পার্থ

এনজিও কর্মী

আরও →

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…