কক্সবাজার থেকে: মাঠ সংকটে মেয়েদের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ক্রিকেট গড়ায়নি এক মৌসুম। অনেকটা একই কারণে এবার শঙ্কার মুখে সালমা-রুমানাদের আন্তর্জাতিক সিরিজ! ছেলেদের ঘরোয়া লিগের কারণে দেশের বেশ কয়েকটি ক্রিকেটীয় সুবিধা থাকা ভেন্যু ব্যস্ত, সেখানে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা পর্যন্ত না থাকা কক্সবাজারের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামকে করা হয়েছে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজের মঞ্চ।
সোমবার রাতের ভারী বৃষ্টিতে মঙ্গলবার বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজের প্রথম টি-টুয়েন্টি ম্যাচে মাঠে গড়ায়নি বল। পুরো আউটফিল্ড ভিজে কর্দমাক্ত হয়ে পড়ায় সিরিজের বাকি ম্যাচগুলো নিয়েও জেগেছে শঙ্কা।
ভেজা মাঠ এতটাই চুপসে গেছে যে, এক পশলা বৃষ্টিও কেড়ে নিতে পারে সিরিজে পরের তিন টি-টুয়েন্টি ম্যাচের ভাগ্য। বৃষ্টি থেমে গেলেও মাঠ শুকানোর কোনো ব্যবস্থা নেই এখানে। রোদের তাপ কিংবা বাতাসই একমাত্র ভরসা। প্রাকৃতিক নিয়মের বাইরে যাওয়ার সাধ্য নেই ভেন্যুটির। সীমাবদ্ধতা থাকার পরও কেনো এই একটি ভেন্যুতেই হতে যাচ্ছে চার টি-টুয়েন্টি ও এক ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ, সেটা বোধগম্য নয় স্থানীয়দের কাছেও।
নভেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার আগে এই সিরিজকে পাখির চোখ করেছে সালমাবাহিনী। টিম টাইগ্রেসের জন্য নিজেদের ঝালিয়ে নেয়ার দারুণ এক মঞ্চ। অথচ মাঠের বেহাল দশার কারণে আদর্শ প্রস্তুতিই হচ্ছে বাধাগ্রস্ত। এশিয়ার সেরাদের বিপক্ষে লড়তে মুখিয়ে ছিল সফরকারী পাকিস্তানও। খেলা না হওয়ায় বিকেলে দু’দলই মাঠ ছেড়েছে গোমড়া মুখে। জানিয়ে গেছে হতাশার কথা।

টাইগ্রেস অধিনায়ক সালমা খাতুন বললেন, ‘কাল ম্যাচ হবে কিনা সেটি এখনও নিশ্চিত না। ম্যাচটা যাতে হয় সেটাই চাইব। ম্যাচ না হওয়াটা আমাদের জন্য ক্ষতির। বিশ্বকাপের আগে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার এটিই শেষ সুযোগ। খেলতে না পারলে খুব ক্ষতি। খেলতে পারলে খুব ভালো করবো আমরা। এখন আবহাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে।’
নারী দলের ইনচার্জ নাজমুল আবেদিন ফাহিম হতাশা প্রকাশ করলেন এভাবে, ‘আজ বৃষ্টি হয়নি, তারপরও খেলা হল না। এই মানের খেলার জন্য এটা উপযুক্ত জায়গা না। আজ যদি বৃষ্টি হয়, তাহলে কালকের ম্যাচও শঙ্কায় পড়বে। তিনটা ম্যাচ হাতে আছে, একটা হল না। এভাবে যদি খেলা কমে যায় তাহলে আমাদের ক্ষতি হবে।’
‘বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব খেলে আসার পর মেয়েরা আর ম্যাচ খেলেনি। অনেকদিন ধরেই অনুশীলন করছে। নিজেরা কী অবস্থায় আছে সেটি জানতে পারত খেলা হলে।’ যোগ করেন সাবেক এ ক্রিকেট কোচ।
পাকিস্তানের অভিজ্ঞ ক্রিকেটার সানা মীর বললেন, ‘ম্যাচটা খেললে আমাদের জন্য খুব ভালো হত। বাংলাদেশ খুব ভালো ক্রিকেট খেলছে। মাঠে খুব লড়াই হত। এমন একটা ম্যাচ মিস করলাম। কাল আবার ম্যাচ। আশা করি আবহাওয়া যেন ঠিক থাকে।’

পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকার পরও কেনো এই ভেন্যুতে আন্তর্জাতিক সিরিজ, সেটি নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। মাঠ পরিচর্যার জন্য নেই পানি শুকানোর মেশিন সুপার সপারও। দুপুরে ছোট ছোট ফোমের টুকরো দিয়ে মাটি থেকে পানি শুকানোর চেষ্টা করছিলেন গ্রাউন্ডসম্যানরা।
ম্যাচ অফিসিয়াল কিংবা টিভি ক্যামেরার লেন্স সরতেই অবশ্য তারা থামিয়েছেন বৃথাশ্রম। এত বড় মাঠ, ৭-৮টি ফোমের টুকরা দিয়ে সামান্য একটি অংশও শুকানো সম্ভব নয়, সেটি তাদের চেয়ে ভালো আর কেইবা জানে! প্রয়োজনীয় উপকরণ না থাকায় যা আছে তাই দিয়েই কাজ করে তারা বোঝাতে চাইলেন, ম্যাচটা মাঠে গড়াক সেটি তারাও চান।
আন্তর্জাতিক সিরিজ হচ্ছে, কিন্তু মাঠের এমন বেহাল দশা। বিসিবি পরিচালক ও গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান মাহবুবুল আনামের কাছে ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া হলে মুঠোফোনে বললেন, ‘বাংলাদেশের কোথাও বৃষ্টি হচ্ছে না, কিন্তু ওখানে বৃষ্টি হচ্ছে। আবহাওয়ার উপর তো কারও হাত নেই। যখন আমরা শিডিউল করি, তখন কিন্তু বৃষ্টির পূর্বাভাস ছিল না। বৃষ্টির পরিমাণের উপর নির্ভর করে কতটুকু শুকানো যায়, কতটুকু যায় না। সারাদেশে খেলা হচ্ছে। আমরা প্রয়োজনীয় লোক সেখানে দিয়েছি। এতটা বৃষ্টি হলে হয়ত ঢাকার মাঠেও খেলতে পারতাম না।’
এদিকে ভেন্যু ম্যানেজার এএসএম বাহার জানালেন, চট্টগ্রাম ভেন্যু থেকে সুপার সপার আনার চেষ্টা চলছে। ৪ অক্টোবর সেটি কক্সবাজার এসেছ পৌঁছাবে।

তার আগেই অবশ্য আছে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টুয়েন্টি। যেটি বুধবার মাঠে গড়ানোর কথা।
ছেলেদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট লিগ শুরু হওয়ায় ব্যস্ত দেশের চার বিভাগীয় ভেন্যু। চট্টগ্রামের দুটি ও বিকেএসপি’র দুই মাঠে চলছে অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের আসর। ক্রিকেটীয় সব সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন ভেন্যু ব্যস্ত হয়ে পড়ায় মেয়েদের সিরিজ শেষ মুহূর্তে চলে এসেছে কক্সবাজারে। একই সময়ে কয়েকটি খেলা হলে তার জন্য পর্যাপ্ত মাঠ নেই বলে সে চিত্র, সেটি আবারও সামনে নিয়ে আসল উদ্ভূত পরিস্থিতি।
সেইসঙ্গে মেয়েদের ক্রিকেটের গুরুত্ব যে সবার পরে, সেটিও যেন স্পষ্ট হল! না হলে মেয়েদের সিরিজের ভেন্যু খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়াম থেকে হঠাৎ কেনো কক্সবাজারের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম হয়ে যাবে? যুব এশিয়া কাপের ভেন্যু কক্সবাজার থেকে সরে চট্টগ্রাম হয়েছে এই মাঠের সীমাবদ্ধতার কথা বিবেচনা করেই। আর সেই মাঠেই কিনা ঠেলে দেয়া হল এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব জেতা ও বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে সেরা হওয়া দল টিম টাইগ্রেসকে।







