জন্মেছিলেন দাবাড়ু পরিবারে। বাবা পয়গাম উদ্দিন আহমেদকে অনুসরণ করে এসেছিলেন দাবায়। খেলাটাকে ধ্যান-জ্ঞান বানিয়ে হয়েছেন গ্র্যান্ডমাস্টার। পরে ছেলে তাহসিন তাজওয়ার জিয়াকে পথ দেখিয়েছেন এ পথেই। তাহসিন হয়েছেন ফিদে মাস্টার। সেই দাবা খেলতে খেলতেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন জিয়াউর রহমান। দেশ হারালো প্রথম কোন গ্র্যান্ডমাস্টারকে।
৪৯ বর্ষী জিয়াউরের জন্ম ১৯৭৪ সালে। গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক। ১৯৯৩ সালে আন্তর্জাতিক মাস্টার খেতাব পান।
২০০২ সালে গ্র্যান্ডমাস্টার পদবী অর্জন করেন জিয়াউর। বাংলাদেশি দাবাড়ুদের মধ্যে সর্বোচ্চ ফিদে রেটিং তার (২৫৭০)। ২০০৫ সালে অর্জন করেছিলেন। ২৪৭০ ফিদে রেটিং নিয়ে জীবনের শেষ ম্যাচটি খেলেছেন।
জাতীয় দাবা প্রতিযোগিতায় ১৪বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন জিয়াউর। ১৯৮৬ থেকে ১৯৮৮ টানা তিন বছর, ১৯৯৪, ১৯৯৬, ১৯৯৮, ১৯৯৯, ২০০১, ২০০২, ২০০৪, ২০০৫, ২০০৮, ২০০৯ এবং ২০১৪ আসরে শিরোপা তুলে ধরেছিলেন।
দাবা বিশ্বকাপে জিয়াউর দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন চারবার, ২০০৭, ২০১১, ২০১৩ এবং ২০১৫ আসরে। একবারও প্রথম রাউন্ড পেরোতে পারেননি।
১৯৮৬ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ১৩টি আসরে দাবা অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের পতাকা তুলে ধরেছেন জিয়াউর। ১৯৯০ ও ২০১০ আসর মিস করেছিলেন কেবল। ২০২২ সালে ৪৪তম দাবা অলিম্পিয়াডে একটি রেকর্ড করেছিলেন। চেন্নাইয়ে ১৬ বর্ষী ছেলে তাহসিন তাজওয়ার জিয়ার সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। প্রথম পিতা-পুত্র জুটি হয়ে জাতীয় দাবা দলে খেলেছেন। যেটি তার ১৫তম অলিম্পিয়াড। ২০১২ সালের অক্টোবরে নাগপুর ইন্টারন্যাশনাল ওপেনে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন।
শুক্রবার জাতীয় দাবা চ্যাম্পিয়নশিপের ১২তম রাউন্ডের খেলা চলছিল। গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর মুখোমুখি হয়েছিলেন আরেক গ্র্যান্ডমাস্টার এনামুল হোসেন রাজীবের। ৩টায় শুরু হওয়া ম্যাচে প্রায় তিনঘণ্টা খেলেছিলেন জিয়াউর। বিকেল ৫টা ৫২ মিনিটে লুটিয়ে পড়েন।
প্রতিপক্ষসহ অনেকে এগিয়ে আসেন। দ্রুতই শাহবাগের ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। দাবা ফেডারেশন থেকে ৯ মিনিটের মধ্যে তাকে হাসপাতালে পৌঁছালেও আর ফেরানো যায়নি।
জাতীয় দাবায় এবারও সন্তান তাহসীন তাজওয়ারকে নিয়ে অংশ নিয়েছিলেন জিয়া। উৎসাহ যোগাতে বরাবরের মতো এদিনও ফেডারেশনে এসেছিলেন স্ত্রী লাবন্য। প্রিয় দুই মানুষের সামনেই চলে গেলেন। দেশ হারালো প্রথম কোন গ্র্যান্ডমাস্টারকে।
জিয়াউরের মৃত্যুতে শোক নেমে এসেছে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গ্র্যান্ডমাস্টারের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন। শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে), এবং অনান্য ফেডারেশনগুলো। শোক জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী নাজমুল হাসান পাপন।









